অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসীদের মন জয় করে ফিরছেন রিশাদ
সিডনির আকাশ তখন গোধূলির রঙে সেজেছে। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের গ্যালারিতে উৎসবের আমেজ। কিন্তু সেই উৎসবের মাঝে গ্যালারিতে বিষাদ আর পূর্ণতার বিপরীতমুখী এক অনুভূতি ছড়িয়ে মাঠ ছাড়লেন বাংলাদেশি তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় আসর বিগ ব্যাশ লিগে এবার বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে খেলেছেন তিনি। বিষাদের কারণ, এবারের আসরে তাঁকে আর খেলতে দেখা যাবে না। আর পূর্ণতার অনুভূতির কারণ, এক মাসের বেশি সময় নিজের কবজির জাদুতে তিনি জয় করে নিয়েছেন সিডনি থেকে হোবার্ট, পুরো অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটপ্রেমীদের মন।
শুক্রবার সিডনিতে বিগ ব্যাশের ‘চ্যালেঞ্জার’ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল হোবার্ট হারিকেনস ও সিডনি সিক্সার্স। তাতে রিশাদের দল হোবার্ট হারিকেনস ৫৭ রানে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে। বিদায়ের আগে ম্যাচজুড়ে গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার। এক ওভারে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথ ও ময়েজেস হেনরিকসকে ফিরিয়ে দিয়ে সিডনির দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি।
রিশাদের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন ৬৫ রান করা স্মিথ। একই ওভারের শেষ বলে হেনরিকসকে মিড অনে ক্রিস জর্ডানের ক্যাচে ফিরিয়ে ম্যাচও জমিয়ে তোলেন তিনি। বোলিং শেষ করেন ৪ ওভারে ৩৩ রানে ২ উইকেট নিয়ে। রিশাদ পরে ব্যাট হাতে ৮ বলে করেন ১১ রান, যার মধ্যে ৯২ মিটার দূরত্বের একটি বড় ছক্কা।
রিশাদের দল ম্যাচ হারলেও সিডনিতে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের জন্য দিনটি ছিল আনন্দের। মাঠে উপস্থিত বাংলাদেশের অভিনেতা মাজনুন মিজান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের একজন লেগ স্পিনার স্টিভ স্মিথের উইকেট নিচ্ছে—এটি কল্পনা করাও ছিল স্বপ্নের মতো। রিশাদ আজ আমাদের মাথা উঁচু করে দিয়েছেন। মাঠে স্থানীয় অস্ট্রেলীয়রা যখন আমাদের ওর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিল, তখন খুব গর্ব হচ্ছিল।’
রিশাদকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান দর্শকদের মুগ্ধতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচ শেষে গ্যালারির পাশে এক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট অনুরাগী বলেন, ‘রিশাদের বোলিংয়ের সবচেয়ে ভালো দিক হলো তাঁর গুগলিতে কোনো জড়তা নেই। হেনরিকসকে যেভাবে তিনি বিভ্রান্ত করলেন, তা ছিল দেখার মতো। হারিকেনস হারলেও রিশাদ আজ আমাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। আমরা চাই আগামী মৌসুমেও তিনি বিগ ব্যাশে খেলুন।’
এবারই প্রথম বিগ ব্যাশে খেলেছেন রিশাদ। ১১ ইনিংসে ১৫ উইকেট নিয়ে তিনি আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় যৌথভাবে সপ্তম। রোববার আসরের চূড়ান্ত লড়াইয়ে সিডনি সিক্সার্স মুখোমুখি হবে পার্থ স্কচার্সের। রিশাদ হয়তো ট্রফি নিয়ে ফিরছেন না, কিন্তু সিডনির এই ঐতিহাসিক মাঠ আর অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে একজন বাংলাদেশি লেগ স্পিনারের এমন নৈপুণ্য নিশ্চিতভাবেই দেশের ক্রিকেটের জন্য প্রাপ্তি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বিশ্লেষকদের কণ্ঠেও এখন রিশাদের প্রশংসা। হার দিয়ে শেষ হলেও সিডনির এ সন্ধ্যাটি রিশাদের জন্যই মনে রাখবেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিরা।