পারলেন না মারুফারা, শ্রীলঙ্কার কাছে শেষ ওভারে হার বাংলাদেশের
মারুফা আক্তার ও সুলতানা খাতুনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও বাংলাদেশ পারেনি, আক্ষেপটা এখানেই। ব্যাটিংয়ে ভালো শুরুর পরও স্কোরটা বড় হলো না। তবে বল হাতে লড়াইটা ছিল চোখে পড়ার মতো। এমনকি এক সময় জয়ের সুবাসও পাওয়া যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্নটাই ভেঙে দিলেন হার্শিতা সামারাবিক্রমা। ব্যাট হাতে তাঁর দারুণ ইনিংসে ভর করেই এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠল শ্রীলঙ্কা।
টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা সাত ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ পরিষ্কার। শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারাতেই হবে, সেটা করলেও শেষ চারে খেলতে হবে ভারতের বিপক্ষে।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ১১৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল বাংলাদেশ। রান তাড়ায় শুরুটা ছিল দারুণ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মারুফার আঘাত। ফুলার লেংথ বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্লিপে ফাহিমা খাতুনকে ক্যাচ দেন চামারি আতাপাত্তু। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ইমিশা দুলানিকেও ফেরান মারুফা। স্লোয়ার ডেলিভারিতে বোল্ড হন এই ওপেনার, ১৬ বলে করেন ১২ রান।
পাওয়ার প্লের ভেতরেই তৃতীয় আঘাত সুলতানা খাতুনের। সুইপ করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন সানজানা কাভিন্দি। এরপর রিতু মনির বলে ভিশমী গুনারত্নে ক্যাচ দিলে শ্রীলঙ্কার অবস্থা আরও নাজুক। ফাহিমার সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন কাভিশা দিলহারি। স্কোর তখন ৪৪ রানে ৫ উইকেট। ম্যাচ তখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রনে।
কিন্তু সেখান থেকেই গল্পটা বদলে যায়। নিলাকশি ডি সিলভা ও হার্শিতা সামারাবিক্রমা মিলে প্রতিরোধ গড়েন। তাদের ৩৮ রানের জুটি ভাঙেন মারুফা, ১৮ রান করা নিলাকশিকে বোল্ড করে। তবু থামেননি হার্শিতা। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৪৮ রানে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। শ্রীলঙ্কা জেতে ৪ উইকেটে। মারুফা ৩ উইকেট নিয়েও জেতাতে পারেননি দলকে।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ করে ৮ উইকেটে ১১৪ রান। ৪.৫ ওভারে ৩১ রানের জুটিতে শুরুটা খারাপ করেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার দিলারা আক্তার (২৬) ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (১৪)। কিন্তু সেখান থেকে ৯.৫ ওভারে ৫২ রান পর্যন্ত যেতেই দুই ওপেনারের পথ ধরে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান অধিনায়ক নিগারও (৪)।
চতুর্থ উইকেটে স্বর্ণা আক্তারকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর কাজটা মূলত করেছেন তিনে নামা সোবহানা মুস্তারী (৩৪)। ১৭তম ওভারে এক রানের ব্যবধানে দুজনই আউট হয়ে গেলে কিছুটা থমকে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ১৯তম ওভার পর্যন্ত যোগ হয় আর মাত্র ৯ রান, যার মধ্যে নো বল থেকেই আসে ৩। তবে সুগান্দিকা কুমারির করা শেষ ওভারে ফাহিমা খাতুনের পরপর দুই বাউন্ডারিতে রান কিছুটা বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের শেষ দুই বলে অবশ্য আউট হয়ে যান ফাহিমা ও মারুফা আক্তার।