ইনস্টাগ্রাম থেকে যেভাবে শুরু কোহলি-জোকোভিচের ‘ডিজিটাল’ বন্ধুত্ব

নোভাক জোকোভিচ ও বিরাট কোহলি।টাইমস নাউ

বিরাট কোহলি ও নোভাক জোকোভিচ—দুই খেলার দুই মহাতারকা। একজন ব্যাট হাতে ২২ গজের রাজা, অন্যজন টেনিস কোর্টের ‘জোকার’ থুড়ি সম্রাট।

মজার ব্যাপার হলো, এই দুই কিংবদন্তির আজ পর্যন্ত সামনাসামনি দেখা হয়নি। অথচ তাঁদের মধ্যে যে অদৃশ্য বন্ধুত্ব, সেটি সাক্ষাৎ বন্ধুদের আড্ডার চেয়েও কম সজীব নয়। আর তাঁদের এই বন্ধুত্বের নেপথ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার একটুকরা জায়গা—ইনস্টাগ্রামের ইনবক্স।

আরও পড়ুন

কীভাবে দুজনের বন্ধুত্বের শুরু, সেই গল্প বেশ নাটকীয়। ২০২৪ সালে বিসিসিআই টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোহলি নিজেই শুনিয়েছিলেন গল্পটা। কোনো এক অলস দুপুরে জোকোভিচের প্রোফাইল দেখে কোহলির মনে হলো, একটা বার্তা পাঠালে কেমন হয়? যেই ভাবা সেই কাজ। কিন্তু মেসেজ অপশনে গিয়ে চোখ ছানাবড়া কোহলির! দেখা গেল, জোকোভিচ নিজেই আগে তাঁকে মেসেজ দিয়ে রেখেছেন। কোহলি হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম এটা ফেক অ্যাকাউন্ট নয় তো? পরে যাচাই করে দেখলাম অ্যাকাউন্টটি আসল। জোকোভিচ আমাকে আগেই মেসেজ করেছিলেন, যা আমি খেয়ালই করিনি।’

নোভাক জোকোভিচ
এএফপি

সেই যে শুরু, এর পর থেকে নিয়মিতই যোগাযোগ তাঁদের। কোহলি যখন তাঁর ৫০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করলেন, জোকোভিচ তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্টোরিও শেয়ার করেছিলেন। স্রেফ একটি ইনস্টাগ্রাম বার্তা থেকে শুরু হওয়া এই সম্পর্কের মূলে রয়েছে শারীরিক ও মানসিক ফিটনেসের প্রতি দুজনের এক অদ্ভুত মগ্নতা।

জোকোভিচের বয়স ৩৮, কোহলির ৩৭। ক্যারিয়ারের একটা পর্যায়ে এসে দুজনেই বুঝেছিলেন, টিকে থাকতে হলে নিজেকে আমূল বদলে ফেলতে হবে। কোহলির সেই বিখ্যাত বদল শুরু ২০১২ সাল থেকে। তখন তিনি বর্তমান ওজনের চেয়েও ১০-১১ কেজি বেশি ভারী ছিলেন। সেই দিনগুলোর কথা কোহলি বলেছিলেন ২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে, ‘এখনকার চেয়ে তখন আমি অন্তত ১১-১২ কেজি বেশি ওজনের ছিলাম। ট্রেনিং নিয়ে কোনো মাথাব্যথা ছিল না, খাদ্যাভ্যাস ছিল যাচ্ছেতাই। রাত জাগা, আজেবাজে খাওয়া—সবই চলছিল ভুল পথে। একদিন সকালে উঠে মনে হলো, যথেষ্ট হয়েছে, এবার বদলাতে হবে।’

বিরাট কোহলি
এএফপি

সেই বদলটা শুধু কোহলির শরীরেই আসেনি, বদলে গিয়েছিল ভারতের ড্রেসিংরুমের আবহাওয়াও। ফিটনেস তখন আর স্রেফ ঐচ্ছিক কোনো বিষয় থাকল না, হয়ে উঠল ক্রিকেটে টিকে থাকার ন্যূনতম যোগ্যতা।

আরও পড়ুন

জোকোভিচও নিজের শরীরকে নিয়ে গেছেন প্রায় গবেষণার পর্যায়ে। গ্লুটেন-মুক্ত ডায়েট আর কঠোর শৃঙ্খলায় নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে বয়স কেবলই একটি সংখ্যা। গ্র্যান্ড স্লামের ম্যারাথন লড়াইগুলোতে তাঁর টিকে থাকার রহস্য লুকিয়ে আছে এই ফিটনেসের নেশাতেই। কোহলিও বলেছেন, ‘ফিটনেস নিয়ে নোভাকের প্যাশন আমি গভীরভবে অনুসরণ করি।’

লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে জোকোভিচ
এএফপি

জোকোভিচও কিন্তু কম যান না। গতকাল লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে টাইমস নাউ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টেনিস কিংবদন্তি সরাসরিই বললেন, ‘বিরাট (কোহলি) আমার এমন একজন বন্ধু, যাকে আমি দারুণ সম্মান ও প্রশংসা করি। সত্যি বলতে, তার কারণেই আমি ক্রিকেট অনুসরণ করতে শুরু করি। আগে আমি খোঁজখবরও রাখতাম না। তার মাধ্যমেই ক্রিকেটের প্রতি বেশি আগ্রহী হই।’

শুধু তা-ই নয়, টেনিস সম্রাট এখন চুপিচুপি ক্রিকেটে হাতও পাকাচ্ছেন। এর পেছনের কারণটাও বললেন জোকোভিচ, ‘আশা করি, যখন আমি ভারতে যাব… যদিও আমি বলতে চাই না যে এখনই যাব… যখন আমি যাব, আশা করি সে থাকবে এবং তখন আমরা একসঙ্গে কিছুটা টেনিস ও কিছুটা ক্রিকেট খেলতে পারব, মজা করতে পারব, আর মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ও ভালো অনুভূতি ছড়িয়ে দিয়ে খেলাধুলাকে উদ্‌যাপন করতে পারব।’

জোকোভিচের বলে কোহলি ছক্কা মারছেন, কিংবা কোহলির সার্ভিস জোকোভিচ ব্যাকহ্যান্ড রিটার্ন করছেন, দৃশ্যটা নিশ্চয়ই দেখার মতো হবে!

আরও পড়ুন