আজকের ম্যাচের কথা যদি বলতে হয়, তাহলে পাকিস্তানের প্রশংসা করতেই হবে। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন বলতে যা বোঝায়, আজ পাকিস্তান সেটারই অনন্য উদাহরণ গড়েছে। যেভাবে আজ তাদের ইনিংসের শুরুটা হলো, সেখান থেকে ১৮৫ রান করা চাট্টিখানি কথা নয়।

কারণ, প্রথম ১০ ওভারের নিয়ন্ত্রণ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে। পরে ইফতিখার ও শাদাব ম্যাচের আবহটা পাল্টে দেয়। মনে হচ্ছিল কোনো বক্সিং ম্যাচ দেখছি। কী গতি, কী আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ!

আজ পাকিস্তানের মিডল অর্ডার, লেট মিডল অর্ডারের সামর্থ্যটাও সামনে এল। বিশ্বকাপের আগে মনে হয়েছে পাকিস্তান দলটা অনেকটাই দুই ওপেনার বাবর ও রিজওয়ান–নির্ভর।

তাদের মিডল অর্ডার কতটা পরীক্ষিত, সেটা নিয়ে একটা প্রশ্ন ছিল। এবারের বিশ্বকাপে হয়েছে উল্টোটা। টপ অর্ডার থেকে পাকিস্তান বড় রান পায়নি বললেই চলে। আজও তা-ই হয়েছে। তবে সে ক্ষতিটা পুষিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার।

এই জয়ের পরও পাকিস্তানের সেমিফাইনাল সম্ভাবনা বদলায়নি। তারা এখনো দৌড়ে পিছিয়েই আছে। পয়েন্ট ও রানরেটে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ ‘২’ থেকে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকারই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শেষ চারে যাওয়ার বাস্তবিক সম্ভাবনা ক্ষীণ বলাই শ্রেয়। তবে এই দুই দলই সুপার টুয়েলভ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে। ম্যাচটা জিতে মাথা উঁচিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করতে চাইবে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের লক্ষ্যটাও অভিন্ন। যে কারণে এই দুই দলের ম্যাচটা আকর্ষণীয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

গ্রুপ ‘১’–এর দলগুলো কোন পথে এগোচ্ছে, সেটা কাল কিছুটা হলেও পরিষ্কার হবে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে কাল জিততেই হবে। শুধু তা–ই নয়, জিততে হবে বড় ব্যবধানে। আমি শুরুতেই বলেছিলাম, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সেই হার বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। হয়েছেও তাই। নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের সমান পয়েন্ট পেলেও রানরেটে পিছিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া।

আর শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া খেলবে এমন এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যাদের বোলিংটা খুবই ভালো। বিশেষ করে আফগানিস্তান স্পিনারদের চাইলেই মেরে খেলা যায় না। রানরেট বাড়াতে হলে অস্ট্রেলিয়ানদের হয় ব্যাটিংয়ে, না হয় বোলিংয়ে অবিশ্বাস্য কিছু করতে হবে। এ ধরনের ম্যাচ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটা কিন্তু আঁচ করা কঠিন।

নিউজিল্যান্ডও যে নিরাপদ, সেটা বলাও মুশকিল। কারণ, কাল তাদের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড; যারা এবারের বিশ্বকাপে প্রায় প্রত্যেক ম্যাচেই ভালো করেছে। ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়েছে। ওদিকে নিউজিল্যান্ড তাদের সর্বশেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছে।

যত যা–ই হোক, হার মানে হার। নিউজিল্যান্ডের নিরাপদ থাকার জন্যও কাল জয় দরকার। এই সমীকরণটা হয়তো কিউইদের চাপে রাখবে। আর আইরিশদের অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে কালকের দিনটা যে খুব ইন্টারেস্টিং হতে যাচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।