দল না পাওয়া নিয়ে শুরুতে চুপ থাকলেও এবার মুখ খুলেছেন বাভুমা। টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ভারত যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘আমার হতাশ লাগছে না, এমন বললে মিথ্যা বলা হবে। অবশ্যই আপনি টুর্নামেন্টে একটি ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করেন। তবে শুধু আমি নই, আন্দিলের জন্যও (ব্যাপারটি এমন)। সে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সাদা বলের প্রচুর ক্রিকেট খেলেছে।’

default-image

নিজের হতাশা প্রকাশ ছাড়া আপাতত এ নিয়ে খুব বেশি কিছু বলতেও চান না বাভুমা, ‘আমি হতাশ। মনে হচ্ছে, কেউ আমাকে ডুবিয়েছেই। তবে আমার মনে হয় না এ ব্যাপারে আমার দিক থেকে কোনো দাবি থাকার ব্যাপার আছে। খুব গভীরে যাতে এ ব্যাপারে না যাই, সেদিক থেকে সতর্ক থাকতে হবে আমার। এখন আসলে উপযুক্ত সময় নয়। এ ব্যাপারে যতই কথা বলতে চাই না কেন, এটা ঠিক সময় নয়। আমাদের নজর এখন ভারত সফর ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে।’

গত বছরের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার সীমিত ওভারের নেতৃত্ব দেওয়া হয় বাভুমাকে। এখন পর্যন্ত দেশকে ১৩টি ওয়ানডে ও ১৭টি টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। অবশ্য গত জুন থেকেই চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি।

টি-টোয়েন্টি লিগে কেউ তাঁকে না নিলেও দলে তাঁর অবস্থানের পরিবর্তন হবে না, বাভুমা মনে করেন এমন, ‘দলের ছেলেদের মধ্যে বন্ধুত্ব, আমাদের সম্পর্ক সতীর্থদের চেয়েও বেশি কিছু। মাঠের বাইরেও আমরা বন্ধু। তারা আমার পাশে আছে, আমার জন্য এখন এটিই যথেষ্ট।’

default-image

প্রায় একই রকম কথা বলেছেন প্রধান কোচ মার্ক বাউচারও, ‘টেম্বা বাভুমা আমাদের নেতা, তার প্রতি আমার সমর্থন শতভাগ। হ্যাঁ, এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা হচ্ছে, এটা-ওটা নিয়ে। তবে তাতে আমার কিছু যায়–আসে না। সে আমাদের নেতা। আর আমরা তার পাশে কীভাবে আছি, সেটি আপনারা বিশ্বাসও করবেন না।’

বাউচার নিজেও জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন বিশ্বকাপের পর। আইপিএলের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের প্রধান কোচ হবেন তিনি। তবে সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের মত, জাতীয় দল ও এমন লিগকে এক চোখে দেখার কারণ নেই, ‘আমি একটা ব্যাপারই বলতে পারি। এসব লিগ আসে-যায়। এ লিগকে নিয়ে আমার বোঝাপড়া পুরোপুরিই আছে, সম্মানও করি। এটার দরকার ছিল। তবে জাতীয় দল ও এ লিগকে আলাদা রাখাই ভালো।’

আর বাভুমার দল না পাওয়া প্রসঙ্গে লিগটির প্রধান আহ্বায়ক সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ বলেছেন, এতে তাঁদের কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই, ‘সবার জন্যই টেম্বার ব্যাপারটি হতাশার। আমরাও হতাশ। তবে এতে হস্তক্ষেপ করব না আমরা। এরা আন্তর্জাতিক সংস্থা, যারা দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজেদের ব্যবসা গড়তে চায়। তৃণমূল কর্মসূচি চালু করতে চায়, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বড় বিনিয়োগ করছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের জন্য তারা আসেনি। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকাকে আরও বিস্তৃত করতেই এসেছে। তিন থেকে পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে, এরপর পুরো (ক্রিকেট) কাঠামোর চেহারাই বদলে যাবে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন