বাংলাদেশ শুধু আমাদের গলার ওপর পা রেখেই গেছে, বলেছেন ক্যামেরন গ্রিন
ডারউইনে সেঞ্চুরি করেও নিশ্চয়ই অতৃপ্তই থেকে গিয়েছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। লড়াকু ইনিংস খেলেছেন, কিন্তু দল তো হেরেছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। যে হারের পর অস্ট্রেলিয়াজুড়েই সমালোচনার ঝড়।
তবে ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বাড়তি সুবিধা এখানকার কন্ডিশন। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় বসে যখন এই লেখা লিখছি, তখন ঠান্ডা অতটা নেই, তবে রোদের তেজও বেশি নয়। বইছে বাতাস। অস্ট্রেলিয়া দল এই মাত্র দীর্ঘ অনুশীলন শেষে মাঠ ছেড়েছে।
অনুশীলনের আগে কথা বলেন প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা গ্রিন। গত বছর ওয়ানডেতে গ্রিন সেঞ্চুরি করেন ম্যাকাইতেও। সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে বললেন, ‘যেখানে ভালো স্মৃতি আছে, এমন কোনো জায়গায় ফিরে আসতে সব সময়ই ভালো লাগে। গতবার এখানে এসে আমরা সত্যিই দারুণ সময় কাটিয়েছিলাম। অবশ্যই এখানকার সুযোগ-সুবিধা বিশ্বমানের, আর এখানে আমরা কয়েকটি ভালো ম্যাচও খেলেছিলাম।’
সেঞ্চুরি করেও ডারউইন টেস্টে হারের পর এই কদিনের কথা বলতে গিয়ে গ্রিন বলেছেন, ‘এটা সব সময়ই কঠিন। আপনি দলের সাফল্যের জন্যই খেলেন, তাই অনুভূতিগুলো পরস্পরবিরোধী হয়। আপনি ভালো একটা ফল পেয়েছেন, কিন্তু একই সঙ্গে মনে হয়, নিজেকে যদি এমন একটা অবস্থানে নিয়ে যেতে পারতেন, যেখান থেকে ম্যাচটা জেতা সম্ভব হতো। আমরা খুব কাছাকাছি গিয়েছিলাম। আমরা যদি আরও ৫০ থেকে ৭৫ রান করতে পারতাম, তাহলে সত্যিই ম্যাচে ভালোভাবে থাকতে পারতাম। কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি।’
বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেছেন গ্রিন, ‘এটা আমাদের অবাক করেনি। আমরা জানতাম, তারা ভালো দল। তারা শুধু দারুণ একটা ম্যাচ খেলেছে এবং প্রথম দিনের পর আর আমাদের সত্যিকার অর্থে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি। প্রথম দিনের পরই আমরা জানতাম, আমাদের সামনে অনেক বড় লড়াই। আর বাংলাদেশ শুধু আমাদের গলার ওপর পা রেখেই গেছে। ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই তারা আমাদের আসলে দেয়নি। আমরা অনেক কিছু চেষ্টা করেছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেগুলো ঠিকমতো কাজে আসেনি।’
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের ১০৪ রানের ইনিংস সম্পর্কে গ্রিন বলেছেন, ‘আমি শুধু আগের মতো খেলার জায়গায় ফিরে গিয়েছিলাম, বিষয়গুলো খুব সহজ রেখেছিলাম। গত কয়েক বছরে আমি একটু-আধটু পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি, কিছু একটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি এবং কিছুটা জোর করেও খেলেছি।’
গ্রিন বলেছেন শেফিল্ড শিল্ডের অভিজ্ঞতার কথাও, ‘গত বছর একটা ম্যাচের জন্য শেফিল্ড শিল্ডে ফিরে গিয়ে আমি যেভাবে আগে খেলতাম, সেভাবেই খেলার জায়গায় ফিরে যেতে পেরে ভালো লেগেছিল। সত্যিই ভালো অনুভূতি হয়েছিল, আর এর পর থেকে আমি সেটাই চালিয়ে যাচ্ছি।’
পরে আবার যোগ করেছেন, ‘সব অনুভূতিই একসঙ্গে ছিল। আমি শুধু নিজেকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম যে ম্যাচ তখনো বাকি এবং আমরা তখনো খুব ভালো অবস্থায় ছিলাম না। মুহূর্তটা উপভোগ করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু একই সঙ্গে আমরা যে অবস্থায় ছিলাম, সেটাও উপলব্ধি করেছি।’
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার উইকেট নিয়ে গ্রিনের আশা, ‘আমরা গত বছরও এখানে খেলেছিলাম এবং আমাদের মনে হয়েছিল, এটা দারুণ একটা উইকেট। তবে সাদা বলের ক্রিকেটের সঙ্গে লাল বলের ক্রিকেটের তুলনা করা কঠিন। তবে আমরা খুব ভালো একটা উইকেট আশা করছি—আশা করছি, কিছুটা বাউন্স থাকবে এবং আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ সমতল হবে।’