এক ভোটে ক্যারিকে পেছনে ফেলে আবারও বর্ষসেরা হেড
মাত্র ১ ভোট!
মাত্র ১ ভোটের ব্যবধানে জিতে আবারও অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা হয়েছেন ট্রাভিস হেড। অ্যালান বোর্ডার মেডেল নামের এই পুরস্কার জয়ের দৌড়ে তাঁর চেয়ে মাত্র ১ ভোট কম পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন অ্যালেক্স ক্যারি। শুধু এ দুজনের মধ্যে নয়, লড়াই হয়েছে শীর্ষ তিনেই। তৃতীয় হওয়া মিচেল স্টার্কের চেয়ে হেড এগিয়ে ছিলেন মাত্র ৩ ভোটে।
আজ ব্রিসবেনে ২০২৫–২৬ মৌসুমের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি ঘোষণা করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বর্ষসেরার পাশাপাশি সংস্করণের ভিত্তিতেও সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়। টেস্টে বর্ষসেরা হয়েছেন স্টার্ক, ওয়ানডেতে মিচেল মার্শ আর টি-টুয়েন্টিতে টিম ডেভিড।
অ্যালান বোর্ডার মেডেলে টেস্টের পারফরম্যান্সকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়। টেস্টের ভোটের মান ওয়ানডের দ্বিগুণ এবং টি-টুয়েন্টির তিন গুণ। প্রতিটি ম্যাচে ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও গণমাধ্যমকর্মীরা ৩-২-১ পদ্ধতিতে ভোট দেন। এবারের ভোটিং সময়কাল ছিল ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি। এই সময়ে শীর্ষ তিনে থাকা হেড পেয়েছেন ১৫৩ ভোট, ক্যারি ১৫২ আর স্টার্ক ১৫০। এ ছাড়া স্টিভ স্মিথ ৯৬ ও মিচেল মার্শ ৮৬ ভোট পান।
বর্ষসেরা হওয়া হেড অ্যাশেজে ছিলেন দুর্দান্ত। পার্থে চোট পাওয়া উসমান খাজার জায়গায় লক্ষ্য তাড়ায় ওপেন করতে নেমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৩ বলে ১২৩ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। এরপর অ্যাডিলেডে ১৭০ ও সিডনিতে খেলেন ১৬৩ রানের ইনিংস। অ্যাশেজে তাঁর মোট রান ছিল ৬২৯, স্ট্রাইক রেট ৮৭.৩৬।
ভোটিংয়ের পুরো সময়ে ১১ টেস্টে হেড করেছেন ৯৭১ রান—যা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করা ক্যারির চেয়ে প্রায় ২০০ রান বেশি। ওয়ানডেতেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাকেতে খেলেছেন ১৪২ রানের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতাই হয়তো ক্যারির সঙ্গে তাঁর ১ ভোটের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।
ক্যারির বছরটাও অবশ্য কম উজ্জ্বল ছিল না। ব্যাটের পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। টেস্টে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন—শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে ১৫৬ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাডিলেডে ১০৬ রান। কিন্তু হেডকে ছাপিয়ে যেতে সেটি যথেষ্ট ছিল না।
টানা দ্বিতীয়বার বর্ষসেরা হয়ে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তিদের এক বিশেষ তালিকায় নাম তুললেন হেড। একাধিকবার অ্যালান বোর্ডার মেডেল জেতা ষষ্ঠ ক্রিকেটার তিনি। তাঁর আগে এই কীর্তি গড়েছেন রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক, স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও শেন ওয়াটসন। স্মিথ চারবার, ওয়ার্নার তিনবার এবং পন্টিং, ক্লার্ক ও ওয়াটসন দুবার করে এই পুরস্কার জিতেছেন।
‘শেন ওয়ার্ন টেস্ট প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ হওয়া স্টার্ক এই সময়ে ১৭.৮০ গড়ে নিয়েছেন ৫২ উইকেট। এর মধ্যে অ্যাশেজেই তাঁর শিকার ৩১ উইকেট (গড় ১৯.৯৩)। জশ হ্যাজলউড পুরো সিরিজে অনুপস্থিত থাকায় এবং প্যাট কামিন্স একটির বেশি ম্যাচ খেলতে না পারায় অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন স্টার্ক। অ্যাশেজে সিরিজ–সেরাও হন তিনি।
ওয়ানডের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হওয়ার পথে মার্শ ৬ ম্যাচে ৬০.৮০ গড়ে করেন ৩০৪ রান। আর টি-টুয়েন্টিতে সেরা হওয়া টিম ডেভিড ১৯৭.৫০ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৩৯৫ রান।
অস্ট্রেলিয়া দলের পরবর্তী ব্যস্ততা বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ঘিরে। ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথমটি।