ইনিংসের ১৯তম ওভারে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন দীপক হুদাও, ইশ সোধি ও সাউদিকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে। হুদা হ্যাটট্রিক না পেলেও এক বল পর ফিরিয়েছেন অ্যাডাম মিলনেকে।

আগে ব্যাটিং করা ভারতের ইনিংসের শেষ ওভারে ওভারে বোলিংয়ে আসেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক সাউদি। প্রথম ২ বলে দুটি ডাবলস নেওয়া হার্দিক পান্ডিয়া তৃতীয় বলে ক্যাচ তোলেন লং অফে। আইসিসির নতুন নিয়ম অনুযায়ী নতুন ব্যাটসম্যান হুদা ছিলেন স্ট্রাইকে। ফুল লেংথের বলে ফ্লিক করেছিলেন, ফাইন লেগে ডাইভ দিয়ে ভালো ক্যাচ নেন লকি ফার্গুসন।

হ্যাটট্রিক বলটি ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে, যেটি তুলে মেরেছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। এবার মিড অনে জেমস নিশামের হাতে ধরা পড়েন সুন্দর। সাউদির হ্যাটট্রিক হয়ে যায় তাতেই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাউদির এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। ২০১০ সালে অকল্যান্ডে পাকিস্তানের ইউনিস খান, মোহাম্মদ হাফিজ ও উমর আকমলকে পরপর তিন বলে আউট করেছিলেন এ পেসার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেটি ছিল মাত্র তৃতীয় হ্যাটট্রিক।

সাউদির হ্যাটট্রিকের কারণে শেষ ওভারে স্ট্রাইকই পাননি সেঞ্চুরি করা সূর্যকুমার, যিনি খেলেছেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। ৫১ বলে ১১১ রান করেছেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ভারতের বাকি সবাই মিলে ৬৯ বলে করেছেন ৬৯ রান।

ভারত শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ১৯১ রান, মানে দলের ৫৮.১১ শতাংশ রান একাই করেছেন সূর্যকুমার। দলের রানে ব্যক্তিগত অবদানের ক্ষেত্রে ভারতের এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ, সবার ওপরে এখানে বিরাট কোহলি (৫৯.২৩ শতাংশ)। গত জুলাইয়ে নটিংহামে ভারতের ১৯৮ রানের মধ্যে সূর্যকুমার একাই করেছিলেন ১১৭ রান (৫৯.০৯ শতাংশ), এ তালিকায় দুইয়ে আছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করতে আজ সূর্যকুমারের লেগেছে ৪৯ বল। তবে পরের ফিফটিটি তিনি করেছেন মাত্র ১৭ বলে। ১৭, ১৮ ও ১৯—এ ৩ ওভারে ভারত তুলেছে ৫৭ রান, এর মধ্যে সূর্যকুমার একাই করেছেন ৫৪ রান! স্বপ্নের ফর্মে থাকা সূর্যকুমার তাই আরেকবার ঝলক দেখিয়েছেন মাউন্ট মঙ্গানুইতেও।

বিশ্বকাপের পর প্রথম সিরিজে বিশ্রামে আছেন অধিনায়ক রোহিত শর্মাসহ ভারতের সিনিয়র কয়েকজন ক্রিকেটার। ঈশান কিষান ও ঋষভ পন্তের উদ্বোধনী জুটি ৫.১ ওভারে তোলে ৩৬ রান। ১৩ বলে ৬ রান করে ফিরেছেন পন্ত, কিষান ৩৬ রান করতে খেলেছেন ৩১ বল। সূর্যকুমারের ১১১ রানের পর কিষানের ৩৬ রানের ইনিংসই ভারতের সর্বোচ্চ।