দুই ম্যাচের কোনোটিতেই লড়াই হলো না, কারও বড় কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তিও নেই। সেঞ্চুরি বা ৫ উইকেট পাওয়ার ঘটনা নেই দুই ম্যাচের কোনোটিতেই।
বিসিএলের ৫০ ওভারের আসরে আজ রাজশাহীর ম্যাচে দক্ষিণাঞ্চলকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে উত্তরাঞ্চল। বগুড়ার আরেক ম্যাচে পূর্বাঞ্চলকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে মধ্যাঞ্চল। পরপর দুই ম্যাচ জিতে ফাইনালে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে উত্তরাঞ্চল, একটি করে জয় নিয়ে দৌড়ে আছে মধ্যাঞ্চল আর দক্ষিণাঞ্চলও। দুই ম্যাচের কোনোটিতেই না জেতা পূর্বাঞ্চলের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
রাজশাহীতে দুই ইনিংস মিলিয়েই খেলা হয়েছে মাত্র ৫৬.৩ ওভার। নাহিদ রানা-শরীফুল ইসলামদের বোলিং–তোপে ১৪৪ রানে অলআউট হয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চল। তাড়া করতে নেমে ২৫.৪ ওভারেই ৬ উইকেটে জয় পেয়ে যায় উত্তরাঞ্চল।
শরীফুল আর নাহিদ দক্ষিণাঞ্চলের টপ অর্ডারকে দাঁড়াতেই দেননি। প্রথম চার ব্যাটসম্যানের স্কোর আনিসুল ইসলাম ৪ বলে শূন্য, সৌম্য সরকার ৮ বলে ৯, জাওয়াদ আবরার ৫ বলে ৪ আর আফিফ হোসেন আউট হয়েছেন ৭ বলে ৪ রান করে। সবাই ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন, নাহিদ আর শরীফুল দুজনই উইকেট পেয়েছেন ২টি করে।
ওই অবস্থা থেকেও যে ধস নামেনি, সে কৃতিত্ব দিতে হবে নুরুল হাসান আর মোহাম্মদ মিঠুনের ৪০ রানের জুটিকে। তবে এবারও ধাক্কাটা দেন নাহিদ, ২৩ বলে ২৪ রান করা নুরুলকে বোল্ড করে দেন তিনি। নুরুলের বিদায়ের পর আবারও ভাঙন দক্ষিণাঞ্চলের ইনিংসে। এক প্রান্ত আগলে মিঠুন ৭৯ বলে ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। তবু ৩০.৫ ওভারে অলআউট হয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চল।
রান তাড়ার শুরুতে ধাক্কা খেয়েছিল উত্তরাঞ্চলও। ৩৭ রানে হারিয়ে ফেলেছিল ৩ উইকেট। কিন্তু তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাসের ৮০ রানের জুটিতে উত্তরাঞ্চল সহজ জয়ই পেয়েছে। ৪৬ বলে ৩৩ রান করে হৃদয় আউট হয়ে গেলেও ৬৫ বলে ৫৫ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন।
বগুড়ায় আগে ব্যাট করে পুরো ৫০ ওভার খেলেও ২৩৭ রানের লক্ষ্যই দিতে পেরেছিল পূর্বাঞ্চল। কোনো ব্যাটসম্যান ফিফটিই পাননি, ৫১ বলে সর্বোচ্চ ৪৫ রান আসে জাকির হাসানের ব্যাট থেকে।
মূলত স্পিনারদের কৃপণতাই বড় রান করতে দেয়নি তাদের। বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান ১০ ওভার বল করে ২৭ রান দিয়ে পান ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট পান তাসকিন আহমেদ ও রিপন মণ্ডল।
তাড়া করতে নেমে মধ্যাঞ্চলের মোহাম্মদ নাঈম এক প্রান্তে রান করতে থাকেন। অন্য প্রান্তে উইকেট যাচ্ছিল নিয়মিত। পঞ্চম উইকেটে তিনি সঙ্গী হিসেবে পান আবু হায়দারকে। দুজন মিলে ৭৪ রানের জুটি গড়েন।
৯৮ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৮৩ রান করে নাঈম আউট হয়ে গেলেও দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন আবু হায়দার। ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।