আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ১০ জুটি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন ভারতের শচীন টেন্ডুলকার। তবে নির্দিষ্ট কোনো এক সতীর্থের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটা তাঁর নয়। সেই রেকর্ড শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারার। শ্রীলঙ্কার দুই ব্যাটসম্যান একসঙ্গে খেলেছেন ৫৫০টি ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ১০ জুটি কারা…

গ্রাফিকস: প্রথম আলো

মাহেলা জয়াবর্ধনে-কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)—৫৫০

কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে
এএফপি

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জুটিটা তাঁরাই বেঁধেছিলেন। ২০০৬ সালে কলম্বোয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে ৬২৪ রান করেছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা। শুধু টেস্ট নয়, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেই এটি সর্বোচ্চ জুটি। সেই জয়া-সাঙ্গাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ৫৫০টি ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জুটি বেঁধে সবচেয়ে বেশি ১৩৩৬৮ রানও তাঁদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জয়াবর্ধনে প্রথম ম্যাচটি খেলেন ১৯৯৭ সালে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড ৯৫২ রান করার ম্যাচটিতে। সাঙ্গাকারার আগমন ৩ বছর পর। পরের দেড় দশকে শ্রীলঙ্কা দল মানেই ছিল সাঙ্গা-জয়া জুটি। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কাকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতাতেও বড় ভূমিকা ছিল দুজনের।

মাহেলা জয়াবর্ধনে-তিলকরত্নে দিলশান (শ্রীলঙ্কা)—৪২৬

মাহেলা জয়াবর্ধনে ও তিলকরত্নে দিলশান
এএফপি

দুইয়েও আছে মাহেলা জয়াবর্ধনের নাম। সেখানে তাঁর সঙ্গী তিলকরত্নে দিলশান। তাঁদের খেলা ম্যাচের সংখ্যাই বলে দিচ্ছে, শ্রীলঙ্কা দলে তাঁরা কত বড় ভরসা ছিলেন। ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হারলেও তিন বছর পর ঢাকায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়াবর্ধনে-দিলশানরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।

কুমার সাঙ্গাকারা-তিলকরত্নে দিলশান (শ্রীলঙ্কা)—৪১৮

তিলকরত্নে দিলশান ও কুমার সাঙ্গাকারা
এএফপি

তিলকরত্নে দিলশানের সঙ্গে টানা দেড় দশক জাতীয় দলে খেলেছেন কুমার সাঙ্গাকারা। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলেও ছিলেন দুজন। সাঙ্গাকারার চেয়ে ৯ মাস আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক দিলশানের। এ কারণেই ‘দিলস্কুপার’ দিলশান সাঙ্গাকারার সঙ্গে বেশি ম্যাচ খেলেছেন।

সনাৎ জয়াসুরিয়া-মুত্তিয়া মুরালিধরন (শ্রীলঙ্কা)—৪০৮

সনাৎ জয়াসুরিয়া ও মুত্তিয়া মুরালিধরন
এএফপি

একজন অলরাউন্ডার, আরেকজন নিখাদ স্পিনার। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড় জাতীয় দলে একসঙ্গে প্রথম খেলেন ১৯৯২ সালে। তত দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সনাৎ জয়াসুরিয়ার তিন বছরের অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। পরের ১৮ বছরে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন তাঁরা। ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ে জয়াসুরিয়ার ছায়ায় ঢাকা পড়লেও মুরালির অফ স্পিনের ভূমিকাও কম ছিল না দলকে বিশ্বসেরা করতে। এরপর দুজন শ্রীলঙ্কাকে শুধু সামনেই এগিয়ে নিয়েছেন। মুরালি তো ক্যারিয়ার শেষ করেছেন টেস্ট ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবেই।

জ্যাক ক্যালিস-মার্ক বাউচার (দক্ষিণ আফ্রিকা)—৪০৭

মার্ক বাউচার ও জ্যাক ক্যালিস
এএফপি

জ্যাক ক্যালিস অলরাউন্ডার। মার্ক বাউচার উইকেটকিপার। ক্যালিসের দুই বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ঢুকেছিলেন বাউচার। একসঙ্গে দুজন প্রথম খেলেছেন ১৯৯৮ সালে। এরপর ২০১২ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে ৪০৭টি ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৯৮ সালে আইসিসি নকআউট বিশ্বকাপজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা দলেও ছিলেন দুজন। ক্যালিসের বোলিংয়ে ১১৭টি ক্যাচ নিয়েছেন বাউচার। মাত্র চারটি বোলার-ফিল্ডার জুটিই এর চেয়ে বেশি শিকার করেছেন।

বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মা (ভারত)—৩৯৪

বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা
এএফপি

ভারত দলের দুই মহিরুহ একসঙ্গে প্রথম খেলেছেন ২০০৮ সালে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ভারতের হয়ে ৩৯৪ ম্যাচে একসঙ্গে খেলেছেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। এখন অবশ্য শুধু ওয়ানডেতেই পাওয়া যায় তাঁদের। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেললে নিশ্চিত করেই ৪০০ পেরিয়ে যাবেন দুজন। ভারতের হয়ে কী জেতেননি ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটসম্যান। ২০১৩ ও ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারত দলে ছিলেন দুজনই। রোহিত ২০১১ সালে ভারতের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন না, যেটিতে ছিলেন কোহলি। রোহিত অবশ্য কোহলির অভিষেকের আগেই ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন।

সনাৎ জয়াসুরিয়া-চামিন্ডা ভাস (শ্রীলঙ্কা)—৩৯১

চামিন্ডা ভাস ও সনাৎ জয়াসুরিয়া
এএফপি

মুত্তিয়া মুরালিধরনের মতো চামিন্ডা ভাসের সঙ্গে দীর্ঘদিন খেলেছেন সনাৎ জয়াসুরিয়া। ১৯৯৪ থেকে ২০০৮—এই ১৪ বছরে দুজন একসঙ্গে খেলেছেন ৩৯১টি ম্যাচ। বাঁহাতি পেসার ভাসও ছিলেন ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কা দলে।

শচীন টেন্ডুলকার-রাহুল দ্রাবিড় (ভারত)—৩৯১

রাহুল দ্রাবিড় ও শচীন টেন্ডুলকার
এএফপি

রাহুল দ্রাবিড় যখন প্রথমবার ভারত দলে খেললেন, শচীন টেন্ডুলকারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সাত বছর হয়ে গেছে। এরপর ১৬ বছরে দুজন একসঙ্গে খেলেছেন ৩৯১টি ম্যাচ। চোখধাঁধানো স্ট্রোক প্লেতে সবাইকে মোহিত করে রাখতেন টেন্ডুলকার। অন্যদিকে দ্রাবিড় ছিলেন ধৈর্য ও স্থিরতা প্রতীক। তাঁর নামের পাশে বসেছে ‘দ্য ওয়াল’ তকমাও। ১৯৯৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৩১ রানের জুটি গড়েছিলেন দুজন, যা ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওয়ানডেতে যেকোনো উইকেট জুটিতেই বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে টিকে ছিল। টেস্টে জুটি বেঁধে সবচেয়ে বেশি রানও তাঁদের—৬৯২০। ২০০২ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ছাড়া একসঙ্গে আর কোনো বৈশ্বিক শিরোপা জেতেননি টেন্ডুলকার-দ্রাবিড়।

মাহেলা জয়াবর্ধনে-সনাৎ জয়াসুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)—৩৭৯

সনাৎ জয়াসুরিয়া ও মাহেলা জয়াবর্ধনে
এএফপি

২২ বছরে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৮ জন সতীর্থের সঙ্গে ১০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন সনাৎ জয়াসুরিয়া। তাঁদের পাঁচজনের সঙ্গে ৩০০-এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন এই অলরাউন্ডার। ১৯৯৭ সালে টেস্টে ৩৪০ করার ম্যাচেই মাহেলা জয়াবর্ধনকে প্রথমবার সতীর্থ হিসেবে পান জয়াসুরিয়া। পরের ১৪ বছরে শ্রীলঙ্কার হয়ে ৩৭৯ ম্যাচে একসঙ্গে মাঠে নেমেছেন দুজন। আক্ষেপ একটাই থাকতে পারে তাঁদের, জুটি হিসেবে কোনো বিশ্বকাপ জেতা হয়নি। তবে ২০০২ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিজয়ী শ্রীলঙ্কা দলে ছিলেন দুজন।

১০

রাহুল দ্রাবিড়-সৌরভ গাঙ্গুলী (ভারত)—৩৬৯

রাহুল দ্রাবিড় ও সৌরভ গাঙ্গুলী
এএফপি

১৯৯৬ সালে ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে টেস্ট অভিষেক রাহুল দ্রাবিড় ও সৌরভ গাঙ্গুলীর। দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছিলেন সৌরভ। আর দ্রাবিড় পুড়েছিলেন ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি হারানোর আক্ষেপে। সেই শুরু, পরের এক যুগে দুজন একসঙ্গে খেলেছেন ৩৬৯টি ম্যাচ। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে টন্টনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সে সময়ের ওয়ানডে রেকর্ড ৩১৮ রানের জুটি গড়েছিলেন দ্রাবিড়-সৌরভ