বাতাস আর রানের অচেনা শহরে বাংলাদেশ

ওয়ার্ম আপের সময় ফুটবলে ব্যস্ত সাদমান ইসলাম, তাঁর দিকে তাকিয়ে নাজমুল হোসেনবিসিবি

হেঁটে গেলেও মাত্র ৫–৬ মিনিটের পথ। ডারউইনে যে বাতাস, টিআইও স্টেডিয়ামে (আগের মারারা ওভাল) বারবিকিউর উনুন জ্বালালে কাবাব পোড়া সুবাস পৌঁছে যাওয়ার কথা ডিএক্সসি অ্যারেনাতেও।

বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্টের ভেন্যু ডারউইনের আবালা রোডের টিআইও স্টেডিয়াম। ডিএক্সসি অ্যারেনাও আবালা রোডেই, যেখানে গত পরশু ডারউইনে পৌঁছানো বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা গতকাল প্রথম অনুশীলন করেছেন। সবুজ ঘাসের প্র্যাকটিস উইকেটের যথেষ্ট বাউন্স তাঁদের খুশি করেছে বলেই জানা গেছে। বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় বলা কথায় বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের কণ্ঠেও ধরা পড়েছে তৃপ্তি, ‘প্রথম দিনের অনুশীলনটা ভালো হয়েছে। উইকেট, ফিল্ডিং অনুশীলন থেকে শুরু করে রানিং—সব ধরনের কাজ আমরা করতে পেরেছি।’

জুলাই ডারউইনের শীতলতম মাস। সেই মাস উল্টে ক্যালেন্ডারের পাতায় এখন আগস্ট। একটু একটু গরম পড়তে শুরু করেছে নর্দান টেরিটরির রাজধানী শহরে। কালই যেমন তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। ডারউইন সময় সন্ধ্যায় মুঠোফোনে কথা হচ্ছিল দলের এক সদস্যের সঙ্গে। আবহাওয়া কেমন—প্রশ্নে উত্তরটা এল উদাহরণসহ, ‘ভালোই গরম, তবে হিউমিড না। দেশে শীতকালে একটু গরম পড়লে যে রকম লাগে, সে রকম আরকি…।’

হাঁটা দূরত্বে হলেও অনুশীলনের প্রথম দিনে টেস্ট ভেন্যুতে যাওয়া হয়নি ক্রিকেটারদের। সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ যাত্রাবিরতি পেরিয়ে দলের দ্বিতীয়াংশের ডারউইনে পৌঁছে যাওয়ার কথা গতকাল। সে ক্ষেত্রে আজ হয়তো পুরো দল একসঙ্গে অনুশীলন করবে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু আজকের অনুশীলনও ডিএক্সসি অ্যারেনাতেই, যেখানে ৮–১১ আগস্ট সিরিজের আগে বাংলাদেশের একমাত্র তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ।

অনুশীলন শুরুর আগে কথা বলছেন মোহাম্মদ আশরাফুল
বিসিবি

প্রতিপক্ষ যে–ই হোক, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই যুগে সবাই চায় সেরা দল নিয়ে মাঠে নামতে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াও পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই খেলবে। তার আগে প্রস্তুতি ম্যাচেও মোটামুটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দিচ্ছে বাংলাদেশের সামনে। ‘অস্ট্রেলিয়া একাদশ’ নামে দলটিতে টেস্ট ক্রিকেটার আছেন তিনজন। স্যাম কনস্টাস ও কার্টিস প্যাটারসন খেলেছেন দুটি করে টেস্ট, জশ ফিলিপ একটি। তাঁদের কেউই অবশ্য নেই বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে।

এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ দুই টেস্টের দুই ভেন্যু। এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি টেস্ট হয়েছে ডারউইনে (২০০৩ সালে বাংলাদেশ ও ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে), সর্বশেষটি ২২ বছর আগে। এবারের অন্য টেস্টটি ম্যাকাইয়ে, ডারউইনের মতো এই ভেন্যুর অভিষেক টেস্টেরও অংশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। অর্থাৎ বাংলাদেশ দল তো বটেই, টেস্ট ক্রিকেটেই অনেকটা ‘অচেনা’ এই দুই ভেন্যু।

২০০৩ সালের সফরে বাংলাদেশ দল অন্য টেস্টটি খেলেছিল কেয়ার্নসে এবং সেই টেস্টটিও ছিল কেয়ার্নসের অভিষেক টেস্ট। ডারউইনের মতোই কেয়ার্নসেও এরপর আর একটি মাত্র টেস্টই হয়েছে; ২০০৪ সালের সেই টেস্টেও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা।

২০০৩ সালে ডারউইনে টেস্ট খেলা দলের কেউ এবারের বাংলাদেশ দলে স্বাভাবিকভাবেই নেই। তবে টেস্ট না খেললেও দলে দুজন ক্রিকেটার আছেন, যাঁদের কাছে অন্তত টিআইও স্টেডিয়ামের মাঠটা অচেনা লাগবে না। ২০২৪ সালের টপ এন্ড টি–টুয়েন্টিতে এইচপি দলের হয়ে এই মাঠে চারটি ম্যাচ খেলেছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান। পরের বছর ‘এ’ দলের সঙ্গে একই টুর্নামেন্টে দুটি টি–টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন পেসার হাসান মাহমুদ।

বোলিং অনুশীলনে তাসকিন আহমেদ
বিসিবি

ডারউইনের মাঠ টেস্ট ভেন্যু হিসেব কেমন হতে পারে, স্মৃতি হাতড়ে সে ব্যাপারে কিছুটা ধারণা দিতে পারেন দলের দ্বিতীয় ভাগের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া যাওয়া প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। ২০০৩ সালের টেস্ট দলে ছিলেন তিনি।

অবশ্য অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে টিআইও স্টেডিয়াম নিয়ে যথেষ্ট হোম ওয়ার্ক করে গেছে বাংলাদেশ দল, যেটি বলছে—২০০৩ সালের তুলনায় খুব বেশি বদলায়নি ডারউইনের টেস্ট ভেন্যু। ড্রপ ইন উইকেটে বাউন্স সুষম, বল যথেষ্ট ওঠে। অর্থাৎ বোলার–ব্যাটসম্যান সবার জন্যই সমান বন্ধুভাবাপন্ন হবে উইকেট। ক্রিকেটের পরিভাষায় ‘ট্রু উইকেট’। শুষ্ক আবহাওয়ায় এখানে রান হয় প্রচুর। তাপমাত্রা বেশি হলে আবার উইকেট ফাটে, যেটি বাড়তি সুবিধা দেয় স্পিনারদের।

গত বছরের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার ‘এ’ দলের মধ্যে হওয়া দুটি চার দিনের ম্যাচের স্কোরকার্ডও টিআইও স্টেডিয়াম সম্পর্কে একই ধারণা দিচ্ছে। ড্র হওয়া দুটি ম্যাচই রান দেখেছে প্রচুর। ৬টি সেঞ্চুরি হয়েছে, যার একটি ছিল ডাবল। এ ছাড়া ১২টি ফিফটির মধ্যে ৯০–এর বেশি রান তিনটিতে, ৮০ থেকে ৯০–এর মধ্যে ইনিংসও ছিল তিনটি। দ্বিতীয় ম্যাচে তো ব্যাটসম্যানদের দাপটে দুই ইনিংসও পুরো শেষ হতে পারেনি!

ডারউইনের মাঠ সম্পর্কে আরেকটি পুরোনো তথ্যও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ দলের হোম ওয়ার্কের খাতায়। মাঠে প্রবল বাতাস থাকে, বিশেষ করে জুন থেকে অক্টোবর সময়ে। মাঠটা বেশ বড়ও, বিশেষ করে আড়াআড়ি সীমানার দিক দিয়ে।

বলাই বাহুল্য, এসব মাথায় নিয়েই প্রথম টেস্টের পরিকল্পনা সাজাবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন