বিশ্বকাপ নিয়ে বক্তব্য: ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ব্যাখ্যা
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের চলমান টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তাঁর এই বক্তব্য নিয়ে কিছু বিতর্ক ও ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। আজ প্রথম আলোকে পাঠানো এক বার্তায় নিজের বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন আসিফ নজরুল। এখানে সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
গতকাল একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আমার বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলাপ হয়। এক পর্যায়ে আমাকে প্রশ্ন করা হয়, বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি না। আমি বলেছি, আক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। এরপর আমি যা বোঝাতে চেয়েছি, তা আমার কথার প্রেক্ষিত ও অন্তর্গত বার্তাকে উপলব্ধি না করে উপস্থাপিত হওয়ার কারণে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
আমি জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানাই যে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলাটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমি অবশ্যই এই বক্তব্যে অটল আছি। গতকাল বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত কার নেওয়া—এটি কোনো আলোচ্য বিষয় ছিল না, এ নিয়ে কোনো প্রশ্নও করা হয়নি।
গতকালের অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য দুই কোটি টাকা চেক প্রদানের অনুষ্ঠান। ক্রিকেটের এ রকম স্পর্শকাতর সময়ে আমি তাদের এই বদান্যতায় কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। সে সময় সাংবাদিকেরা যখন জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে কোনো দুঃখ আছে কি না, তখন আমার মনে হয়েছে, এখানে আমার বা সরকারের তো দুঃখের বিষয়টা মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে, ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগ।
বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত অবশ্যই সরকার নিয়েছে, কিন্তু এটিও তো সত্যি যে এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়েরা বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছে। আর্থিক ক্ষতি, না খেলার বঞ্চনা এবং আরও শাস্তির ভয় সত্ত্বেও তারা এটা মেনে নিয়েছে। এই হিসেবে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার স্বার্থে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তের কৃতিত্বের মূল দাবিদার তারাই।
সাংবাদিক সম্মেলনে অপ্রস্তুত আলাপে বিষয়টি ভালো করে না বুঝিয়ে বলতে পারার ব্যর্থতা এখানে স্বীকার করে নিচ্ছি। আবারও দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত বোর্ড ও ক্রিকেটাররা মেনে নিয়েছে। না হলে এই সিদ্ধান্তে অটুট থাকাটা হয়তো এতটা সহজ হতো না।