জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন বিসিবিতে

ক্রিকেটার জাহানারা আলমছবি: প্রথম আলো

নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্রিকেটার জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি আজ বিকেলে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

গত ৭ নভেম্বর একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন জাহানারা। এরপর ৯ নভেম্বর বিসিবি অভিযোগ তদন্তে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে, যেটিতে পরে যুক্ত করা হয় আরও দুজন সদস্য। বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটির অন্যরা হলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার প্রধান ব্যরিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, অধ্যাপক ড. নাঈমা হক ও বিসিবি মহিলা উইংয়ের প্রধান রুবাবা দৌলা।

তিনবার সময় বাড়ানোর পর আজ তাঁরা প্রতিবেদন জমা দিলেন। প্রথমে বলা হয়েছিল, ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। ২ ডিসেম্বর প্রথমবার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিসিবি জানায়, জাহানারা আলম লিখিত অভিযোগ জানাতে কমিটির কাছে কিছুদিন সময় চাওয়ায় প্রতিবেদন জমা দিতে আরও ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। পরে আবার বিসিবি জানায়, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে স্বাধীন তদন্ত কমিটি। আজ তারা সেটিই জমা দিলেন। যদিও প্রতিবেদনে কী আছে, তা জানা যায়নি।

হাইকোর্টের রুল

ওদিকে দেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ, হয়রানিমুক্ত ও জেন্ডার সংবেদনশীল ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিতে বিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন তুলে দিচ্ছেন কমিটির প্রধান
বিসিবি

এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এ রুলসহ আদেশ দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের নির্দেশনা ও গাইডলাইনের আলোকে নারী ক্রিকেটারদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) কার্যকর মেকানিজম (প্রক্রিয়া) নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে ২০০৮ সালে হাইকোর্টে রিট করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট নীতিমালাসহ ওই রায় দেন।

আরও পড়ুন

গত বছরের ৯ নভেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে শুটার সাবরিনা সুলতানা জনস্বার্থে হাইকোর্টে ওই রিট করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সালেহ আকরাম সম্রাট। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল করিম।

আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম প্রথম আলোকে বলেন, রুল বিচারাধীন অবস্থায় অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। যৌন হয়রানি রোধে কমিটি গঠন ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়ে তা আদালতকে অবগত করতে বলা হয়েছে।