এশিয়ান গেমস ক্রিকেট
মোস্তাফিজের ২ ওভারে ৪১, পাকিস্তানের কাছে হারে সোনার স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের
দশম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান যখন বোলিংয়ে আসেন, পাকিস্তানের রান তখন ৯ ওভারে ৪ উইকেটে ৭৬। জিততে শেষ ৪ ওভারে দরকার ৩৬ রান। মানে ম্যাচে তখনো ভালোমতোই ছিল বাংলাদেশ।
তবে মোস্তাফিজের সেই ওভার থেকে পাকিস্তান তোলে ২৩ রান। সমীকরণ নেমে আসে ১৮ বলে ১৩ রানে। ম্যাচের আর কী বাকি থাকে! শেষ পর্যন্ত জাপানের নিশিনে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সেমিফাইনালে পাকিস্তান বাংলাদেশকে হারিয়েছে ৬ উইকেটে। তাতে সোনার পদকের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে লিটন দাসের দল।
পাকিস্তানকে বাংলাদেশকে খুব কম রানের লক্ষ্য দিয়েছে, তা নয়। ১৩ ওভারে এমন অসমান উইকেটে ১১২ রানের লক্ষ্য বোলারদের লড়াইয়ের জন্য যথেষ্টই ছিল। তবে মোস্তাফিজের বোলিংই বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। বাঁহাতি এই পেসার ২ ওভারে রান দিয়েছেন ৪১, সে কারণেই পাকিস্তানকে রানরেটের চাপে পড়তে হয়নি।
আর এশিয়ান গেমসে পাকিস্তান দলের অনেক ক্রিকেটারই পাওয়ার ক্রিকেট খেলতে জানেন। মাঠ ছোট হওয়ার সুবিধাও আদায় করে নিয়েছেন তাঁরা। বাবর আজমসহ অনেক মূল তারকা এশিয়ান গেমসের দলে না থাকলেও পাকিস্তানের এই দলটা শক্তিশালী। টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটে মূল পাকিস্তান দলের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর। আর সেটারই প্রমাণ মিলেছে আজ।
রান তাড়ায় পাকিস্তান নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকলেও বাড়তি চাপ নেননি কোনো ব্যাটসম্যান। সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি মারার চেষ্টা করে গেছেন। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের ইনিংসগুলো দেখলেও অনেক কিছু স্পষ্ট হবে।
এই যেমন মাজ সাদাকাত করেছেন ৭ বলে ১৪, উসমান খান ৯ বলে ১৪, সাইম আইয়ুব ১২ বলে ২১। অপরাজিত থেকে পাকিস্তানকে জয় এনে দেওয়া হাসান নেওয়াজ ২২ বলে ২৭, আর সামাদ করেছেন ১৫ বলে ৩০ রান। ছোট ছোট এই ইনিংসই তাদের ফল এনে দিয়েছে। বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন ও মেহেদী হাসান ভালো করেছেন। দুজনেই একটি করে উইকেট নিয়েছেন, রানও আটকেছেন।
ব্যাটিংয়ে কৃতিত্ব পাবেন তাওহিদ হৃদয়। ২১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর উইকেটে এসে দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। ৪ ছক্কা ও ২ চারে করেছেন ২৫ বলে ৪২ রান। তাঁর ইনিংসেই বাংলাদেশ ১১১ রান তুলতে পেরেছিল।
আগামী রোববার ব্রোঞ্জ জেতার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত–শ্রীলঙ্কা ম্যাচে হেরে যাওয়া দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ১৩ ওভারে ১১১/৭ (হৃদয় ৪২, সাইফ ১৯, মোসাদ্দেক ১১, মেহেদী ৮*; মুকিম ৩/২৬, আরাফাত ২/২৩, সাইম ১/৩) পাকিস্তান: ১১.৩ ওভারে ১১২/৪ (সামাদ ৩০*, হাসান ২৭*, সাদাকাত ১৫; মেহেদী ১/১৭, নাসুম ১/৩৩, মোস্তাফিজ ১/৪১, রিশাদ ১/১২) ফল: পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী।