বিশ্বকাপে প্রাইজমানির রেকর্ড ফিফার, তবু লোকসানের শঙ্কা ইউরোপের দলগুলোর

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিফিফা

কোনো ম্যাচ না জিতে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও বিশ্বকাপের দলগুলো অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার পাবে। আর চ্যাম্পিয়ন হলে তো অর্থের পরিমাণ আকাশছোঁয়া—৫০ কোটি ডলারের বেশি। সব মিলিয়ে জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় হতে যাওয়া বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড প্রাইজমানিই বরাদ্দ রেখেছে ফিফা।

তবে প্রাইজমানিতে রেকর্ড গড়তে যাওয়া বিশ্বকাপেই লোকসানের আশঙ্কা করছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এবারের বিশ্বকাপে চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে কম আয় হবে বলে হিসাব তাদের। এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়লে লোকসানও হবে বলে আশঙ্কা কারও কারও। ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান ও পিএ মিডিয়ার এক যৌথ অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফিফা গত ডিসেম্বরে ২৩তম বিশ্বকাপের জন্য ৭২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাইজমানি ঘোষণা করে, যার মধ্যে ৬৬.৫০ কোটি দলগুলোকে অংশগ্রহণ ও টুর্নামেন্টে ফলের ভিত্তিতে ভাগ করে দেওয়া হবে। এই প্রাইজমানি ২০২২ আসরের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, প্রাইজমানি বাড়লেও এবারের আসরে দলগুলোর জন্য দৈনিক ভাতার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে ফিফা। কাতার বিশ্বকাপে দৈনিক ভাতা ছিল ৮৫০ ডলার করে, এবার সেটি ৬০০ ডলার করা হয়েছে। একটি দেশের ফুটবল ফেডারেশন হিসাব করেছে, টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেললে তারা মোট ৫ লাখ মার্কিন ডলার ভাতা কম পাবে।

আরও পড়ুন

আয় কমার পাশাপাশি খরচও বাড়ছে দলগুলোর। এবারের বিশ্বকাপ হবে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশজুড়ে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিশাল ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে যাতায়াতের ফলে ভ্রমণ ও আবাসনের খরচও আগের তুলনায় বেশি হবে বলে মনে করছে ফেডারেশনগুলো। এ ছাড়া বিশ্বকাপের টিকিটের দাম অতীতের চেয়ে বেশি হওয়ায় অনেক ফেডারেশনকে সমর্থকদের জন্য টিকিট সরবরাহে অতিরিক্ত খরচের চাপে পড়তে হচ্ছে।

আছে মুদ্রা বিনিময় হার ও পুরস্কারের অর্থের মান কমে যাওয়ার বিষয়টিও। ফিফা থেকে পাওয়া পুরস্কারের অর্থ সাধারণত ডলারে দেওয়া হয়, কিন্তু গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় মুদ্রার বিনিময় হার কমে যাওয়ার কারণে সেই অর্থ এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে কম মানের হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে আছে করকেন্দ্রিক জটিলতা। যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্সের বিষয়ে স্পষ্ট সমাধান নেই বলে জানিয়েছে কিছু ফেডারেশন। ক্যালিফোর্নিয়াসহ কিছু রাজ্যে করের পরিমাণ বেশি, যা খেলোয়াড় ও দলের সদস্যদের আয় ও ভাতার ওপর প্রযোজ্য হতে পারে। এটিও ফেডারেশনগুলোর আর্থিক বোঝা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

সব মিলিয়ে ইউরোপের যেসব দেশে এরই মধ্যে বিশ্বকাপের আয়-ব্যয়ের হিসাব কষেছে, তারা দেখেছে যে আগের মতো লাভ হবে না অথবা খরচ বাড়ছে। একটি ফেডারেশনের শঙ্কা, যদি তাদের দল গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে বা খুব অল্প ম্যাচ খেলতে পারে, তাহলে খরচের তুলনায় আয় কম হবে, এমনকি লোকসানও হতে পারে।

এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি দলকে অংশগ্রহণ বাবদ ৯০ লাখ মার্কিন ডলার এবং প্রস্তুতিসহ অন্যান্য খরচের জন্য ১৫ লাখ মার্কিন ডলার দিচ্ছে ফিফা।