অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখানোর অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে ডারউইনে অনুশীলনে বাংলাদেশ দলবিসিবি

আলোচনাটা যেন জমাট বেঁধে আছে। নাহিদ রানা খেলবেন না, তা জানা হয়ে গেছে আগেই—তবু এখনো দীর্ঘশ্বাসটা শেষ হয়নি। চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে দলে ঢোকা লিটন দাসের খেলাটাও এখনো নিশ্চিত নয়। এক মাস ধরে চলে আসা এসব আলোচনা ম্যাচ শুরুর দিন দুয়েক আগেও থামছে না।

এই দুজন থাকবেন না বলে কারও কারও কাছে তো ফিকে হয়ে গিয়েছিল ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার রোমাঞ্চও। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ভালো সাড়া পাওয়ায় লিটন দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় তা–ও কিছুটা স্বস্তি। অবশ্য ‘স্বস্তি’ কথাটা নিয়ে কেউ কেউ আপত্তি করতে পারেন।

আগামীকাল সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হতে যাওয়া টেস্টে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তিন চক্রের দুটিতেই ফাইনাল খেলেছে; র‌্যাঙ্কিংই দুই দলের পার্থক্যটা স্পষ্ট—তাদের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে আবার কিসের স্বস্তি! কথাটা সত্যি। কিন্তু বাস্তবতা তো এখন এটাও, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে বাংলাদেশ খেলেছিল, এই বাংলাদেশ তেমন নয়।

তখনো টেস্ট আঙিনায় তিন বছর পার না করা বাংলাদেশ মাঝের এ সময়ে অস্ট্রেলিয়াকেও টেস্ট হারিয়েছে। ২০১৭ সালে মিরপুরে ওই জয়টা যদিও ৬ টেস্টে বাংলাদেশের একমাত্র। তবে এটা তো আর মিথ্যা নয় যে গত কয়েক বছরে টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স যথেষ্টই উজ্জ্বল।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে টেস্ট জয়ের স্মৃতি
ফাইল ছবি

ঘরে–বাইরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাটিতে সিরিজ হারানোর স্মৃতি তো তরতাজাই। ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গুনইতে বিরুদ্ধ কন্ডিশনে জয় আছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও। কিন্তু বাকি দুই সংস্করণের মতো টেস্টেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট ধারাবাহিকতায়। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলে সিরিজ জেতার পরের মাসেই জিম্বাবুয়ের কাছে হারারেতে হেরে গেছে ইনিংস ব্যবধানে!

সেই পরাজয়ের স্মৃতিকে সঙ্গী করেই মুখোমুখি হতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার। দলের সমস্যাগুলো যেখানে আরও প্রকট হয়ে ওঠার শঙ্কা তো আছেই। ওপেনিংয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তিন ওপেনারের কেউই ভালো করতে পারেননি।

শুধু ওপেনারদের আলাদা করে নেওয়াটা অবশ্য অন্যায়, ইনিংস ব্যবধানে হারের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা মেহেদী হাসান মিরাজ ছাড়া আর কেউই ফিফটি পেরোতে পারেননি। লিটন না থাকলে লোয়ার অর্ডারে কে হাল ধরবেন, তা–ও অজানা। গতকাল বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ আশিক মজুমদার অবশ্য তাঁকে নিয়ে আশার কথাই শুনিয়েছেন।

তাসকিনের দিকে চোখ থাকবে সবার
বিসিবি

প্রস্তুতি ম্যাচে বোলিং বিভাগ নিয়েও সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ একাদশে থাকবেন, তা একরকম নিশ্চিতই—কিন্তু তৃতীয় পেসার কে হবেন? খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও মুশফিক হাসানের কেউই দাবিটা জোরালো করে তুলতে পারেননি। অথচ এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হতে পারতেন নাহিদ রানা।

গতকাল অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার বো ওয়েবস্টারের কথাটা শুনলে রানাকে নিয়ে আফসোসটা আরও বাড়তে পারে বাংলাদেশের, ‘(গত জুনে ঢাকায়) ওয়ানডে সিরিজে খেলা কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি সে খুব আক্রমণাত্মক, ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।’

এসব আফসোস তো আছেই, বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ অনভিজ্ঞতাও। এক শর বেশি টেস্ট আর ২০ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারের মুশফিকুর রহিমই এখনো অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলেননি। দলের বাকিদের কথা বোধ হয় না বললেও চলছে।

তবে ডারউইনের প্রধান কিউরেটর জ্যাক পাভলিচ গতকাল জানিয়েছেন, রান উঠবে, বোলাররাও চেষ্টা করলেও কিছু সহায়তা পাবে— মারার স্টেডিয়ামের উইকেটটা নাকি এমনই হবে। ব্যাট–বলের সমান লড়াই মানে চ্যালেঞ্জটা আরও বেড়ে যাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো দল হলে তো কথাই নেই। কিন্তু বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচের ভরসা এমন একটা সত্যে যা তিনি না বললেও সবাই জানত, ‘ক্রিকেট তো গোল বলের খেলা।’

কে জানে—ডারউইনে অবিশ্বাস্য কিছু হয়ে যায় কি না!

আরও পড়ুন