৫ উইকেট: বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবার ওপরে হাসান

হাসান মাহমুদবিসিবি
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

লাঞ্চের আগে হাসান মাহমুদের শেষ উইকেটের জন্য চাইলে কিছুটা কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন লিটন দাস। উইকেটকিপার হিসেবে তিনি বরাবরই দুর্দান্ত। তবু আজ হাসান মাহমুদের বলে উইকেটের গোড়ায় দাঁড়িয়ে জাস্টিন গ্রিভসকে যেভাবে লিটন স্টাম্পিং করলেন, সেটি অবিশ্বাস্য বললেও যেন কম বলা হয়!

কিন্তু বাকিটা? তার পুরোটাজুড়েই হাসান। তাঁর বলে যে ৫ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন, তাঁদের দুজন বিভ্রান্ত হয়ে বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন। এমন বোকা বানানোর ভাগ তো আর কাউকে দেওয়া যায় না। গতকাল সকালে প্রথম সেশনে তাসকিনের দুটো উইকেট সরিয়ে রাখলে সিলেট টেস্টে এখনো যে একটু আশা বাংলাদেশের টিকে আছে, তা–ও তো হাসানের জন্যই!

আজ দ্বিতীয় দিনে সকালের সেশনই ধরুন। কাল শেষ দুই সেশনে মাত্র এক উইকেট পেয়েছিল বাংলাদেশ। আমির জাঙ্গু সেঞ্চুরি পেয়ে অপরাজিত, গ্রিভসও থিতু। বাংলাদেশের বলতে গেলে কোনো আশাই নেই। প্রথম আধঘণ্টায়ও বলতে গেলে ঘটেনি তেমন কিছুই।

কিন্তু নতুন বল পেয়েই পুরো গল্পটা বদলে দিলেন হাসান। জাঙ্গুকে দিয়েই সেটির শুরু— ২১২ বল খেলে ফেলা এই ব্যাটসম্যান হাসানের বল ছেড়ে দিয়ে কিনা বোল্ড!

প্রথম আলো গ্রাফিকস

পরের বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রোস্টন চেজও। আবুধাবিতে গত মাসেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন হাসান। আরও একটা হ্যাটট্রিক কি হবে? হয়েও কি গেল! জশুয়া বিশপের প্যাডে বল লাগার পর আম্পায়ার আঙুল তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু রিভিউয়ে বেঁচে যাওয়ায় আর হ্যাটট্রিকটা পাওয়া হয়নি হাসানের।

অবশ্য তাতে কী! লিটনের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ উইকেট পেয়ে যান হাসান। তাঁর ফাইফার পাওয়া দেশের সংখ্যাও পাঁচ। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু, ওই বছর সেপ্টেম্বরেই চেন্নাইতে ফাইফার পান ভারতের বিপক্ষে। এ বছর আগস্টে ডারউইন, গত মাসে আবুধাবিতে ৫ উইকেট পান।

আরও পড়ুন

১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে এবার একটি প্রথমের দেখা অবশ্য পেয়েছেন হাসান। দেশের মাটিতে এটাই তাঁর প্রথম ৫ উইকেট। ৫ উইকেট পাওয়ার তালিকায় হাসান এখন বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবার ওপরে। ৩৮ টেস্টে চারবার ৫ উইকেট পাওয়া শাহাদাত হোসেনকে ছাড়িয়ে গেছেন।

হাসানের আউটের আবেদন। টেস্টে প্রত্যাশার ভালোই প্রতিদান দিচ্ছেন হাসান
বিসিবি

হাসান কত দূরে গিয়ে থামেন, তা জানতে এখনো লম্বা অপেক্ষাই সামনে। কেবল তো শুরু। কিন্তু তিনি যেভাবে ধীরস্থির রানআপে আসেন, টানা একই লাইন–লেন্থে বল করে যান, প্রায়ই ব্যাটসম্যানের অফ স্টাম্পে গিয়ে হিট করে তাঁর বল—তা মনোমুগ্ধকর তো বটেই, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেটে সেই প্রমাণটাই বোধ হয় হাসান রাখলেন আরও একবার।