default-image

কিন্তু এভাবে তো জাতীয় দলের কার্যক্রম চলতে পারে না। বিসিবি তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জিম্বাবুয়ে সফরের পর জাতীয় দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোসহ অন্য কোচদের কাছে ২০২৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হবে। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান জালাল ইউনুস কাল প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর আমরা কোচদের সঙ্গে বসব। তাদের কাছে ২০২৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চাইব। এরপর সেভাবে অগ্রসর হব।’

প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো অবশ্য মাঝে জাতীয় দল নিয়ে তাঁর কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ক্রিকেট পরিচালনা প্রধানকে। কিন্তু খেলা, অনুশীলন ও বিশ্রাম—তিনটিকেই গুরুত্ব দিয়ে তাতে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা–বিশ্লেষণের প্রয়োজন দেখছেন জালাল ইউনুস। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর ডমিঙ্গোসহ সব কোচের সঙ্গেই বিসিবি সেসব নিয়ে কথা বলবে।

default-image

সদ্য শেষ হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকেই দারুণ ব্যস্ততার মধ্য পড়ে গেছে জাতীয় দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে দেশে ফিরে চার–পাঁচ দিনের মধ্যেই ধরতে হয়েছে জিম্বাবুয়ের ফ্লাইট। জিম্বাবুয়ে থেকে দল ফিরবে আগামী ১২ আগস্ট। এশিয়া কাপ খেলতে এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত যাওয়ার কথা আগস্টের শেষ সপ্তাহে। এশিয়া কাপ থেকে ফেরার পর ১২ দিন বিরতি দিয়ে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন জাতি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দল যাবে নিউজিল্যান্ডে। সেখান থেকেই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায়।

পরিকল্পনা ছিল, নিউজিল্যান্ড সফরের আগে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অ্যাডিলেডে একটা প্রস্তুতি ক্যাম্প হবে। কিন্তু খেলোয়াড়েরা টানা খেলার মধ্যে থাকবেন বলে ক্লান্তির কথা ভেবে সেই চিন্তা বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফে যোগ হতে পারেন নতুন সদস্য। পাওয়ার হিটিং কোচ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের কোনো সাবেক ক্রিকেটার বা কোচকে পাওয়ার চেষ্টা করছে বিসিবি। পছন্দের তালিকায় আছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ম্যাথু হেইডেনও। অতীত অভিজ্ঞতাই তাদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করছে বলে জানিয়েছেন জালাল ইউনুস, ‘বড় মঞ্চে এ রকম বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। ওখানকার কন্ডিশন সম্পর্কেও তাদের ভালো ধারণা থাকে।’

default-image

এশিয়া কাপ টি–টোয়েন্টি শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা ছিল বলে সেখানেও টুর্নামেন্টের আগে ক্যাম্প করার ইচ্ছা ছিল ডমিঙ্গোর। কিন্তু টুর্নামেন্টটা শেষ পর্যন্ত আমিরাতে চলে যাওয়ায় এখন সেই চিন্তাও বাতিল।

ওদিকে বার্মিংহামে আইসিসির সদ্য সমাপ্ত বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের বার্ষিক সফর পরিকল্পনা (এফটিপি) চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা। জালাল ইউনুস কাল আভাস দিয়েছেন, নতুন এই এফটিপিতে বাংলাদেশ দলের ম্যাচ অনেক বাড়বে, ‘২০২৭ পর্যন্ত যে চক্র আছে, এখানে আমাদের ৩৮ থেকে ৪০টির মতো টেস্ট থাকবে। ৭০টির মতো টি-টোয়েন্টি ও ৭০টির মতো ওয়ানডেও আছে। কয়েক বছর আগেও আমাদের বেশি খেলা ছিল না। আমরা খেলার জন্য অনেক চেষ্টা করতাম। কিন্তু এখন খেলা বাড়ছে।’

তাতে বাড়বে খেলোয়াড়দের শারীরিক–মানসিক চাপ। বিসিবি মাথায় রাখছে সেটিও। ‘সামনে আমাদের অনেক খেলা। তার আগের সময়টা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে চাই। এই সময় খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ারও একটা ব্যাপার থাকবে’—বলেছেন ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন