এমন ম্যাচ আর কখনো দেখেনি বিশ্বকাপ

৪ রানের এক অবিশ্বাস্য জয়ে সুপার এইট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকাএএফপি

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ যা হলো, সেটা কি স্রেফ একটা ক্রিকেট ম্যাচ? না, এ যেন নেটফ্লিক্সের কোনো সাসপেন্স থ্রিলার সিরিজ, যার পরতে পরতে রোমাঞ্চ। প্রতি পর্বের শেষে টুইস্ট, যে সিরিজের শেষটা ভাবা দর্শকের জন্যও ছিল ভীষণ কঠিন। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘ডি’-তে দক্ষিণ আফ্রিকা-আফগানিস্তান ম্যাচে দেখা গেল ডাবল সুপার ওভারের নাটক। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসেই যা প্রথম! ম্যাচ টাই হওয়ার পর প্রথম সুপার ওভারও টাই, পরের সুপার ওভারে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা পেল ৪ রানের অবিশ্বাস্য এক জয়।

মহানাটকের প্রথম পর্ব: যেভাবে ম্যাচ টাই

টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। কুইন্টন ডি কক আর রায়ান রিকেলটনের ফিফটিতে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা।


তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানও ছেড়ে কথা বলেনি। ম্যাচের শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৩ রান। কাগিসো রাবাদার বলে নূর আহমদ আউট হলেও সেটি ‘নো বল’ হওয়ায় ‘জীবন’ পান তিনি। পরের বলেই ছক্কা মেরে ম্যাচ আফগানদের নাগালে নিয়ে আসেন নূর। শেষ ৩ বলে দরকার ছিল মাত্র ২ রান, হাতে ১ উইকেট। কিন্তু ফজলহক ফারুকি দ্রুত ডাবল নিতে গিয়ে রানআউট হলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

মহানাটকের দ্বিতীয় পর্ব: টাই হলো সুপার ওভারও

প্রথম সুপার ওভারে আফগানিস্তান তোলে ১৭ রান। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ঝোড়ো ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ। তাড়া করতে নেমে শেষ ৩ বলে প্রোটিয়াদের দরকার ছিল ১১ রান। তখনই ট্রিস্টান স্টাবস যেন নায়কের মতো আবির্ভূত হলেন। একটা করে চার ও ছক্কায় শেষ ৩ বলে ১০ রান তুলে তিনি ম্যাচ আবার টাই করে দেন। ফলাফল? টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম ডাবল সুপার ওভার!

মহানাটকের শেষ পর্ব: মিলার-স্টাবস ম্যাজিক

দ্বিতীয় সুপার ওভারে ডেভিড মিলার ও স্টাবস মিলে তিন ছক্কায় প্রোটিয়াদের স্কোরবোর্ডে জমা করেন ২৩ রান। এবার জবাব দিতে নেমে রহমানউল্লাহ গুরবাজ চেষ্টা করেন আপ্রাণ। শেষ ৪ বলে আফগানিস্তানের দরকার ছিল ২৪ রান। গুরবাজ পরপর তিন বলে ছক্কা মেরে সমীকরণ নিয়ে আসেন ১ বলে ৬ রানে। ওই বলটা ওয়াইড হওয়ায় নতুন সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ৫ রানের। কিন্তু শেষ বলে আর কিছু করতে পারলেন না গুরবাজ, আউট হয়ে যান।

৪ রানের এক অবিশ্বাস্য জয়ে সুপার এইট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।


পরপর দুই হারে আফগানিস্তানের সুপার এইটে খেলার আশাও প্রায় শেষ বলা যায়।