একসঙ্গে খেলেছেন ৯০ টেস্ট, ৩০৭ ওয়ানডে; অথচ ব্যাটিংয়ে কখনো জুটিই হয়নি যাঁদের

সনাৎ জয়াসুরিয়া ও মুত্তিয়া মুরালিধরন। একসঙ্গে খেলেছেন ৯০ টেস্ট, ৩০৭ ওয়ানডে; অথচ ব্যাটিংয়ে কখনো জুটি হয়নি তাঁদের।এএফপি

ক্রিকেটে কত জুটি অমর হয়ে আছে ম্যাচের পর ম্যাচ, বছরের পর বছর একই সঙ্গে ব্যাটিং করার জন্য। শ্রীলঙ্কার দুই কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারার কথাই ধরুন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একসঙ্গে ৫৫০টি ম্যাচ খেলেছেন দুজন, যা বিশ্ব রেকর্ডও। জুটি বেঁধে সবচেয়ে বেশি ১৩৩৬৮ রানও তাঁদের।

আবার কিছু জুটি আছে একেবারে উল্টো। একই দলে বছরের পর বছর খেলেছেন। ম্যাচের পর ম্যাচ কেটেছে একই ড্রেসিংরুমে। অথচ ব্যাট হাতে একসঙ্গে নামা হয়নি—একবারও না! এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে এ তালিকায়ও ১ নম্বরে দুই শ্রীলঙ্কানই।

আরও পড়ুন

একজন বল হাতে ঘূর্ণির জাদুতে ব্যাটসম্যানদের নাচাতেন, অন্যজন ব্যাট হাতে বোলারদের কচুকাটা করতেন। সনাৎ জয়াসুরিয়া ও মুত্তিয়া মুরালিধরন। শ্রীলঙ্কার সোনালি সময়ের এই দুই সারথি মোট ৯০টি টেস্ট একই সঙ্গে খেলেছেন। কিন্তু অবাক করা তথ্য হলো, এই ৯০ টেস্টের একটি ইনিংসেও তাঁরা একসঙ্গে জুটি বেঁধে ব্যাটিং করেননি!

৩০৭টি ওয়ানডেতে সতীর্থ হিসেবে খেলেছেন সনাৎ জয়াসুরিয়া ও মুত্তিয়া মুরালিধরন। অথচ একবারের জন্যও ব্যাটিংয়ে তাঁদের যুগলবন্দী দেখেনি ক্রিকেট-বিশ্ব
এসএলসি

শুধু টেস্টেই নয়, ওয়ানডেতেও এই দুই লঙ্কানের আড়ি ঘোচেনি। ৩০৭টি ওয়ানডেতে সতীর্থ হিসেবে খেলেছেন তাঁরা, অথচ একবারের জন্যও ব্যাটিংয়ে তাঁদের যুগলবন্দী দেখেনি ক্রিকেট-বিশ্ব। এর মূল কারণ অবশ্য খুব সহজ—জয়াসুরিয়া ছিলেন ওপেনার, আর মুরালি নামতেন দশে কিংবা এগারোতে। স্বাভাবিকভাবেই জয়াসুরিয়া যখন ফিরতেন, মুরালির তখন প্যাড পরার সময় আসত না।

আরও পড়ুন

এ তালিকায় জয়াসুরিয়া-মুরালির ধারেকাছে কেউ নেই। তবে অনেক পেছনে দ্বিতীয় স্থানে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হার্শেল গিবস ও মাখায়া এনটিনি। ৬৪টি টেস্টে একসঙ্গে মাঠে নামলেও এই দুই প্রোটিয়া সতীর্থের কোনো ব্যাটিং জুটি নেই। ইংল্যান্ডের অ্যালিস্টার কুক ও গ্রায়েম সোয়ানের বেলাতেও তাই। ৬০ টেস্ট তাঁরা একসঙ্গে খেলেছেন, কিন্তু ২২ গজে কখনো ‘ইয়েস-নো’ বলা হয়নি তাঁদের।

দক্ষিণ আফ্রিকার হার্শেল গিবস ও মাখায়া এনটিনির কখনো জুটি হয়নি টেস্টে।
এএফপি

ওয়ানডেতে জয়া-মুরালির পরের অবস্থানে অস্ট্রেলিয়ার দুই জোড়া ক্রিকেটার। দুই জোড়াতেই আবার আছে একজনের নাম—অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। গ্লেন ম্যাকগ্রার সঙ্গে ১৬৭টি ম্যাচ, ব্রেট লির সঙ্গে ১৫১টি ওয়ানডে খেলেছেন গিলক্রিস্ট—কিন্তু দুজনের কারও সঙ্গেই ব্যাট করেননি একবারও। ব্যাটিংয়ে গিলক্রিস্ট নামতেন সবার আগে, ম্যাকগ্রা-লিরা নামতেন একেবারে শেষে। মাঝখানে ছিল গোটা একটা ব্যাটিং অর্ডার। জুটি হওয়ার কথাও না।

অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও গ্লেন ম্যাকগ্রার কখনো জুটি হয়নি ওয়ানডেতে।
এএফপি


টি-টুয়েন্টিতে রেকর্ডটা এখন আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং ও জশ লিটলের দখলে। ৮১টি টি-টুয়েন্টিতে একই দলে, কিন্তু একসঙ্গে ব্যাটিং নেই। মজার ব্যাপার হলো, মালয়েশিয়ার দুই ভাই বীরদীপ সিং ও পবনদীপ সিংও ৭৯টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন একসঙ্গে, কিন্তু কোনো দিন ভাইয়ের সঙ্গে দৌড়ে রান নেওয়া হয়নি পবনদীপের! একই দলের শারভিন মুনিয়ান্দির সঙ্গেও ৭৯টি ম্যাচ খেলেছেন পবনদীপ, ব্যাটিং জুটি হয়নি তাঁদেরও।

আরও পড়ুন