সেই ইতিবাচক প্রবণতা লিটন ধরে রেখেছেন চলতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও। চেষ্টা করছেন নিজেকে বদলে পরের ধাপে যেতে। তিনি হয়তো সহ-অধিনায়ক শুধু টেস্ট দলেরই, কিন্তু ভেতরে নেতৃত্ববোধ থাকলে সেটা সীমানা মানবে কেন! দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে নিজের মতটা অবচেতনেই চলে আসবে মুখে। ‘বড় ভাই’য়েরা কে কী ভাবেন ভেবে বাংলাদেশ দলে জুনিয়র ক্রিকেটাররা মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক সময় অদৃশ্য একটা বাধা হয়তো অনুভব করেন, কিন্তু সেটা এমন নয় যে কেউ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবেন না।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তামিম ইকবালের সঙ্গে নাজমুল হোসেনকে দিয়ে ইনিংস শুরু করার চিন্তাটা যেমন অধিনায়ক তামিমকে জানিয়েছেন লিটন। প্রতিপক্ষের দুই বাঁহাতি স্পিনারের কথা ভেবেই তাঁর অমন চিন্তা। ওপেনিংয়ে দুই বাঁহাতি নামলে ক্যারিবীয় বাঁহাতি স্পিনারদের ধার যেমন একটু কম অনুভূত হবে, ওই ওভারগুলো বাঁহাতি ওপেনাররা পার করে দিতে পারলে পরে লিটন নিজেও ব্যাটিংয়ে নেমে থাকবেন স্বচ্ছন্দ।

default-image

বাঁহাতি পেসার এড়ানোর চিন্তায় লিটনের ব্যক্তিগত স্বার্থ হয়তো ছিল, কিন্তু সেটাও দলের কথা ভেবেই। তাঁর এমন ভাবনাকে সে কারণেই স্বাগত জানিয়েছেন তামিম। ম্যাচ শেষে লিটনকে প্রশংসায় ভাসিয়ে অধিনায়ক বলেছেন, চিন্তাটা ছিল অসাধারণ।

লিটন আস্তে আস্তে ব্যতিক্রম হয়ে উঠলেও বাংলাদেশের এই দলটায় কথা বলার লোকের বড় অভাব। যাঁরা পাঁচ-ছয় বছর ক্রিকেট খেলে ফেলেছেন, তাঁরাও বেশির ভাগ চাঁদের মতো। নিজের কোনো আলো নেই, নিজের কোনো মত নেই। দলের ‘বড় ভাই’দের মত আর আলোতেই তাঁরা আলোকিত। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিমরা যখন ক্যারিয়ারের প্রায় সায়াহ্নে এসে পড়েছেন, তখন পরের প্রজন্মের বাংলাদেশ দল গড়তে লিটন-মিরাজদের মতো ক্রিকেটারদের মধ্যে নিজস্ব মতামত গড়ে ওঠাটা জরুরি, সেটি নিঃসংকোচে প্রকাশ করতে পারা আরও বেশি জরুরি।

খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে থাকা লিটন সেই পথটাই দেখাচ্ছেন। তবে কোনো পথেই একা বেশি দূর হাঁটা কঠিন। যুগ বদলানোর পথে লিটনের সঙ্গী হতে হবে আরও অনেককেই।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন