সাকিব সিংহাসন হারাতে পারেন এবারই
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ফিফটি’ করা একমাত্র ক্রিকেটারের নাম সাকিব আল হাসান। মানে উইকেটের ফিফটি! ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণের এই বিশ্বকাপে আর কোনো বোলারের ৪০ উইকেটও নেই। এবার তো বিশ্বকাপে সাকিব নেই।
তাঁর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ অধ্যায় ২০২৪ সালেই শেষ হয়েছে বলা যায়। কেউ না কেউ তো সাকিবকে এই তালিকায় ছাড়াবেন, কিন্তু সেটা কি এবারই সম্ভব?
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিবের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন শহীদ আফ্রিদি। ২০১৬ সালে সর্বশেষ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা সাবেক এই অলরাউন্ডারের উইকেট ৩৯টি। ২০২১ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আফ্রিদির কাছ থেকে রেকর্ডটি কেড়ে নেন সাকিব।
তালিকায় এরপর আছেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩৮ উইকেট নেওয়া মালিঙ্গা সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি খেলেছেন ২০২০ সালের মার্চে, এটিই ছিল তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
আফ্রিদি ও মালিঙ্গা মাঠের ক্রিকেট ছেড়েছেন। তাহলে এবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিবের জন্য হুমকি কারা? দুই লেগ স্পিনার-শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও আফগানিস্তানের রশিদ খান। এই দুই লেগ স্পিনারেরই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে উইকেট ৩৭টি করে। দুজনেই আছেন দারুণ ছন্দে।
বিশ্বকাপে প্রতিটি দল অন্তত ৪টি করে ম্যাচ খেলবে। ৪ ম্যাচে কি ১৩ উইকেট নিয়ে সাকিবের উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবেন হাসারাঙ্গা ও রশিদ? কাজটা কঠিন। তবে সুপার এইটে গেলে আরও ৩টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন তাঁরা। সুযোগটা স্বাভাবিকভাবেই তখন বেশি থাকবে। তবে এরপরও ১৩ উইকেট নিতে হলে দারুণ এক টুর্নামেন্ট কাটাতে হবে তাঁদের।
কারণ, ৫০ উইকেট নেওয়া সাকিবও কখনো এক আসরে ১৩ উইকেট পাননি। সাকিব সর্বোচ্চ ১১ উইকেট পেয়েছেন ২০২১ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ উইকেট পেয়েছেন ২০১৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে। সর্বশেষ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপটা সাকিবের বল হাতে বেশ খারাপই গেছে। উইকেট নিয়েছিলেন মাত্র ৩টি। না হলে আরও কিছু উইকেট বেশি থাকত তাঁর!
পাশাপাশি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে স্পিনার হিসেবে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড ৮ ম্যাচে ১৬টি। সেটি হাসারাঙ্গাই নিয়েছিলেন ২০২১ আসরে। ম্যাচসংখ্যাটা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৮টি ম্যাচ খেলতে অন্তত সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে হবে। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান এবার তত দূর যেতে পারবে কি না, সেটা সময় হলেই দেখা যাবে। যেতে পারলে হয়তো সাকিবের রেকর্ড ছোঁয়া কিংবা ভাঙার সুযোগটা বাড়বে হাসারাঙ্গা এবং রশিদের জন্য।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে উইকেট নেওয়ায় শীর্ষ পাঁচে না থাকলেও সাকিবের রেকর্ড ভাঙার সুযোগ আছে অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পারও। এই লেগ স্পিনারের উইকেট ৩৬টি। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের চেয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা অস্ট্রেলিয়ারই বেশি। অন্তত খাতা-কলমে।
জাম্পাকে তাই হিসাবের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার আনরিখ নর্কিয়ার উইকেট ৩৫টি। নর্কিয়া অবশ্য প্রতিটি ম্যাচ খেলবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে টুর্নামেন্ট শেষেই!