ফলে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত পিএসজির সঙ্গে চুক্তি থাকার পরও আগেভাগেই বিদায়ঘণ্টা বেজেছিল তাঁর। গুঞ্জন ছিল, তাঁর বিদায়ের পেছনে চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্যর্থতার পাশাপাশি আরেকটি কারণও ছিল। আর সে কারণের নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে।
অনেক দিন ধরেই এমবাপ্পের রিয়ালে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে পিএসজির অবিশ্বাস্য এক প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে প্যারিসেই থেকে যান এই ফরাসি স্ট্রাইকার।

গণমাধ্যমে খবর এসেছিল, আর্থিক চুক্তির সঙ্গে ক্রীড়া প্রকল্পের পুরোটাই নাকি এমবাপ্পের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কোচ বদলানোর ক্ষমতা দেওয়া হবে তাঁকে, তাঁর যাকে পছন্দ তাঁকে আনা হবে, যাঁকে এমবাপ্পের অপছন্দ, তিনিই বাদ পড়বেন! এ ক্ষমতা কাজে লাগিয়েই নাকি পচেত্তিনোকে বিদায় করেছেন এমবাপ্পে।

default-image

যদিও এমবাপ্পে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এবার এমবাপ্পের সাবেক গুরু পচেত্তিনোও ফরাসি এই স্ট্রাইকারের কথায় সায় দিয়েছেন। জানিয়েছেন, তাঁর বিদায়ে এমবাপ্পের কোনোই হাত নেই। পিএসজির ক্রীড়া প্রকল্পের পুরোটাই এমবাপ্পের নিয়ন্ত্রণে, এ কথাও মানেন না তিনি।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবেতে এক সাক্ষাৎকারে পচেত্তিনো বলেছেন, ‘আমার যেটা মনে হয় , পিএসজি তাকে(এমবাপ্পেকে) ধরে রাখার জন্য তাদের সাধ্যমতো সবটাই করেছে এবং আমি তাতে একমতও। সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার, পিএসজির তাকে ধরে রাখার মতো সামর্থ্যও ছিল। তবে আমার এটা মনে হয় না, এমবাপ্পেই পিএসজির পুরো ফুটবল প্রজেক্টটা সাজিয়েছে, (যে প্রজেক্টে আমি ছিলাম না)।’

পচেত্তিনো তাঁর বিদায়ে আঙুল তুলেছেন পিএসজি-সভাপতির দিকেই, ‘যারা পুরো ব্যাপারটা দেখভাল করে; এ ক্ষেত্রে সভাপতি সে-ই মনে করেছে ক্লাবের ভালোর জন্য নতুন প্রজেক্ট প্রয়োজন।’

পচেত্তিনো নিজে আর্জেন্টাইন। তাঁর অধীনে খেলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এই দুই আর্জেন্টাইনের রসায়ন প্রত্যাশামতো দেখা না গেলেও এখনো পচেত্তিনোর চোখে বিশ্বের সেরা ফুটবলার মেসিই।

অন্যান্য আর্জেন্টাইনের মতো তাঁরও প্রত্যাশা মেসির হাতেই উঠবে আগামী বিশ্বকাপ শিরোপা, ‘এই বয়সেও সে শারীরিকভাবে একদমই ফিট, যা অনেকটা অকল্পনীয়। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে দারুণ ফলাফল এনে দেওয়ার জন্য আমার মনে হয়, তাঁর শক্তি ও সামর্থ্য—দুটিই রয়েছে। এ সময়ে লিওর সঙ্গে অসংখ্য মুহূর্ত কাটাতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। ফুটবলকে ধন্যবাদ।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন