স্টোকসের সাফ কথা, ম্যাককালাম ছাড়া ইংল্যান্ড কল্পনা করা যায় না
ছাইচাপা আগুনের মতো জ্বলছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ হারের যন্ত্রণা। দুই টেস্ট বাকি থাকতেই সিরিজ খোয়ানোর পর ইংল্যান্ড ক্রিকেটে শুরু হয়েছে পরিবর্তনের কথাবার্তাও।
পরে অবশ্য মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্ট জিতে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘ ১৫ বছরের জয়ের খরা ঘুচলেও সিডনিতে শেষ টেস্টের আগে প্রশ্ন উঠছে, কোচ হিসেবে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম কি থাকছেন?
এই কঠিন সময়েও অধিনায়ক বেন স্টোকস কিন্তু ম্যাককালামের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছেন না। সাফ জানিয়ে দিলেন, ম্যাককালামের বিকল্প তিনি ভাবতেই পারছেন না।
২০২২ সালে স্টোকস-ম্যাককালাম যুগলবন্দী শুরু হয়েছিল। তখন থেকেই এই জুটিকে নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরকে ধরা হয়েছিল তাঁদের নেতৃত্বের কঠিনতম পরীক্ষা। কিন্তু সেই পরীক্ষায় এখন তাঁদের ফেলই বলা যায়।
স্টোকস ও ম্যাককালামের চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত। দুজনই কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এমনিতেও স্টোকসের নেতৃত্বে থাকা নিয়ে সংশয় খুব একটা নেই। তবে ম্যাককালাম এবং ক্রিকেট পরিচালক রব কির ভাগ্য এখন সুতার ওপর ঝুলছে। কিন্তু স্টোকস বেশ আত্মবিশ্বাসী, ‘আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই—আমি আর ব্রেন্ডনই নিকট ভবিষ্যতে এ কাজটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সঠিক মানুষ।’
ভবিষ্যতে ম্যাককালামের সঙ্গেই জুটি বেঁধে কাজ করতে চান কি না—এমন প্রশ্নে স্টোকসের উত্তর আরও স্পষ্ট, ‘এই দল যেখানে আছে, সেখান থেকে আরও বড় উচ্চতায় নিয়ে যেতে এর চেয়ে ভালো কাউকে আমি কল্পনা করতে পারি না।’
পরিসংখ্যান বলছে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের রেকর্ড বরাবরই খারাপ। ১৯৮৬ সালের পর এই দেশে তাদের একমাত্র সিরিজ জয় ২০১০-১১ সালে। সাধারণত অ্যাশেজে ভরাডুবির পর ইংল্যান্ড ক্রিকেটে বড় ধরনের ‘শুদ্ধি অভিযান’ চলে। চার বছর আগে ৪-০ তে হারের পরই তো স্টোকস-ম্যাককালাম যুগ শুরু হয়েছিল।
অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে স্টোকস বলেন, ‘২০১০-১১ সালের পর থেকে আমরা এখানে জিততে পারিনি। প্রতিবারই ভেবেছি, মানুষ বদলাতে হবে।
কিন্তু তাতে কি সত্যিই কাজ হয়েছে? আমার ওপরে অনেক নীতিনির্ধারক আছেন। কিন্তু চার বছর আগে আমরা যা করেছিলাম, এবারও যদি তা–ই করি, তাহলে কিন্তু একই জায়গায় ফিরে যাব।’
আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের কোচের দায়িত্বে থাকবেন ম্যাককালাম। তাই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত হয়তো সেই টুর্নামেন্টের পরেই আসবে। তবে স্টোকস আশা করছেন, ম্যানেজমেন্টের কোনো রদবদল হলে তাঁর মতামত নেওয়া হবে। তাঁর কথা, ‘কী হবে, কেউই জানে না। তবে আমরা দুজনই এখন যা করছি, সেটাই চালিয়ে যেতে আগ্রহী।’
স্টোকস-ম্যাককালামের অধিনায়ক-কোচ জুটি হওয়ার পর শুরুতে ১১ টেস্টের ১০টিতে জিতে ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে একেবারে বদলে দেওয়ার আভাস দিয়েছিলেন দুজন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই জাদু যেন কিছুটা ফিকে হয়ে এসেছে। সর্বশেষ ৩৪ টেস্টে ইংল্যান্ডের ১৬ জয় ও ১৬ হারের সঙ্গে দুটি ড্র। অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের মতো বড় শক্তির বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের সিরিজে এখনো তারা জয়হীন।
২০২৫ সালের শুরু থেকে সাদা বলের কোচের দায়িত্বও কাঁধে নিয়েছেন ম্যাককালাম। এর পর থেকে ১০ টেস্টের মাত্র ৪টিতে জিতেছে ইংলিশরা। এর মধ্যে মে মাসে ট্রেন্ট ব্রিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রত্যাশিত সহজ জয়টাও আছে। তবে স্টোকস মনে করেন না যে দুই ফরম্যাটের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে টেস্ট দলের ক্ষতি করছেন ম্যাককালাম।
সিডনির শেষ টেস্টের জন্য এরই মধ্যে ১২ জনের দল ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড। দলে ফিরেছেন স্পিনার শোয়েব বশির আর পেসার ম্যাথু পটস। মেলবোর্নের একাদশ থেকে অন্তত একটি পরিবর্তন নিশ্চিত, কারণ হ্যামস্ট্রিং চোট ছিটকে দিয়েছে পেসার গাস অ্যাটকিনসনকে।