টি–টুয়েন্টিতে ২০০ রানের বেশি লক্ষ্য—এ আর এমন কী!

বৈভব সূর্যবংশীরাজস্থান রয়্যালস

আইপিএল মানেই চার-ছক্কার ফুলঝুরি। আর দিনে দিনে এটি বেড়েই চলেছে। তাতে রেকর্ডে রেকর্ডে প্রতি মৌসুম ছাড়িয়ে যায় আগের মৌসুমকে। এবার যেমন ২০০ রানের মাইলফলক হয়ে গেছে অনেকটা ডালভাতের মতো।

২০০ বা এর বেশি রানের লক্ষ্য দিয়ে বড় সংগ্রহ ভেবে নিশ্চিন্তে থাকবেন সেই সুযোগ একেবারেই নেই। কারণ, আগে ব্যাট করে দুই শর বেশি রান তুললেও জেতার হার মাত্র পঞ্চাশ শতাংশ! কিছু ক্ষেত্রে হারের সম্ভাবনাই বেশি।

গতকাল পর্যন্ত এবারের আসরের হওয়া ৪৯ ম্যাচে ৪১ বারই স্কোরবোর্ডে ২০০–এর বেশি রান উঠেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ বার বেশি।

রান তাড়ায় যখন ইতিহাস ওলটপালট

গতকাল রাতে হায়দরাবাদের ২৩৫ রান তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব ২০২ রানে আটকে গেছে। এই ম্যাচে পাঞ্জাবের না জেতাটা কিছুটা ব্যতিক্রমই বলতে হবে।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদন বলছে, এবারের আইপিএলে প্রথম ৪৮ ম্যাচের মধ্যে প্রথমে ব্যাট করা দল ২০০+ লক্ষ্য দিয়েছে ২৩ বার। অবিশ্বাস্যভাবে এসব লক্ষ্যের ১২ বারই তাড়া করেছে পরে ব্যাট করা দল। গত বছর ঠিক এ সময়ে ২০০ রানের বেশি সফল তাড়া ছিল মাত্র চারটি। আর পুরো টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ৯ বার। ২০২৪ আসরে যদি তাকান, পুরো টুর্নামেন্টে ২০০+ তাড়া করতে দেখা গিয়েছিল মাত্র ৬ বার।

এবার ২০০ তো বটেই, ২২০ রানও নিরাপদ নয়! মোট ১৩ বার আগে ব্যাট করা দল ২২০ এর বেশি রান তুলেছে। এর মধ্যে আটবারই সেই রান তাড়া হয়ে গেছে।

কারণ কী?

বলা হচ্ছে একটা কারণ ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার। কিন্তু সেটা তো গতবারও ছিল। হতে পারে এবার দলগুলোর মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ ছাড়া আর কী কারণ থাকতে পারে!

পাওয়ার প্লেতেই অর্ধেক জয়

রান তাড়ায় জয়ের মূল চাবিকাঠি হলো প্রথম ৬ ওভারের ‘পাওয়ার প্লে’। চলতি মৌসুমে পাওয়ার প্লেতে রানরেট প্রথমবারের মতো ১০ ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ২০০–এর বেশি রান তাড়ায় এই দাপট আরও বেশি। সফল ১২টি রান তাড়ার ক্ষেত্রে পাওয়ার প্লেতে রানরেট তো মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো—প্রতি ওভারে ১৩.৮১! যা গত বছরের ২০০–এর বেশি রান তাড়ার রানরেটের চেয়ে প্রায় ২১ শতাংশ বেশি।

এই ঝোড়ো সূচনার সেরা উদাহরণ গুয়াহাটিতে রাজস্থান রয়্যালস বনাম বেঙ্গালুরু ম্যাচ। সেদিন ২০২ রান তাড়া করতে নেমে রাজস্থান পাওয়ার প্লে শেষেই ১ উইকেটে ৯৭ রান তুলে ফেলেছিল। সৌজন্যে বৈভব সূর্যবংশীর ২৬ বলে ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।

১০ থেকে ১২টি সফল রান তাড়ায় দেখা গেছে, পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই আস্কিং রানরেট শুরুর তুলনায় কমে গেছে। অর্থাৎ বাকি ১৪ ওভারে জয়ের জন্য আর হিমশিম খেতে হচ্ছে না ব্যাটসম্যানদের।

আরও পড়ুন

মাঝপথেই নির্ধারিত হচ্ছে ভাগ্য

শুধু পাওয়ার প্লে নয়, ১০ ওভার বা ইনিংসের মাঝপথেই খেলার ভাগ্য অনেকটা নিশ্চিত করে ফেলছে দলগুলো। সফল ১২টি চেজের ১০ বারই দলগুলো অর্ধেক ওভারে লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশের বেশি রান তুলে নিয়েছে।

হায়দরাবাদের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুর ২০২ রান তাড়া করে মাত্র ১৫.৪ ওভারে জয় ছিল আইপিএল ইতিহাসের দ্রুততম। এই জয়গুলো কতটা একপেশে হচ্ছে, তা বোঝা যায় শেষ ওভারের পরিসংখ্যানে। ১২টি বড় চেজের মাত্র ৩টি গড়িয়েছে ২০তম ওভার পর্যন্ত, বাকিগুলো ১৯ ওভার বা তার আগেই শেষ হয়ে গেছে।

ব্যাটিংয়ের নতুন মানদণ্ড

অবশ্য সব বড় লক্ষ্যই যে অর্জিত হচ্ছে, তা নয়। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস বা চেন্নাই মতো দলগুলো বড় জয়ও পেয়েছে বড় স্কোর গড়ে। কিন্তু সামগ্রিক চিত্রটা হলো, আগে ২২০ রান তাড়ায় জয় ছিল বিরল ঘটনা (পুরো আইপিএল ইতিহাসেই ছিল মাত্র ৫টি)। সেখানে ২০২৬ মৌসুমে প্রথম ৪৮ ম্যাচে সেই কীর্তি ঘটেছে ৮ বার!

আরও পড়ুন