শ্রীরাম দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ১০টি টি–টোয়েন্টি খেলে জিতেছে মাত্র ৩টিতে। জেতা ম্যাচের একটি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, বাকি দুটিতে প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আরও অনেক কথাই বলেছেন শ্রীরাম। কথা বলেছেন এই ম্যাচ নিয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হার ও গ্যাবার মাঠ নিয়েও। কিন্তু সব ছাপিয়ে তাঁর ওই কথাগুলোই বারবার কানে বাজছে। সত্যিই বাংলাদেশ দল এতটা বদলে যাচ্ছে? কই, মাঠে তো তার লক্ষণ দেখা যায় না!

শ্রীরাম দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ১০টি টি–টোয়েন্টি খেলে জিতেছে মাত্র ৩টিতে। জেতা ম্যাচের একটি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, বাকি দুটিতে প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমিরাতের বিপক্ষে দুই জয়ের কোনোটিই আবার খুব অনায়াস ছিল না। প্রাসঙ্গিক তথ্য, টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় (১০৪ রান) হারটা শ্রীরাম দায়িত্ব নেওয়ার পরই, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গত ম্যাচে।

শ্রীরাম অবশ্য জয়–পরাজয়ের হিসাবের চেয়ে ভবিষ্যতের দল গড়ার কথাই বেশি বলেছেন। কিন্তু সেই ছবিও কি দেখা যাচ্ছে? ডমিঙ্গোর দল থেকে খুব বেশি পরিবর্তিত দল নিয়ে কি বিশ্বকাপে খেলছে বাংলাদেশ? ভবিষ্যতের দল গড়ার প্রক্রিয়াটা তাহলে কীভাবে শুরু করলেন শ্রীরাম!

দায়িত্ব নিয়েই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেনকে এশিয়া কাপের দলে নিয়েছিলেন। ‘এ’ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে থাকা মোহাম্মদ নাঈমকেও উড়িয়ে নিয়েছিলেন আরব আমিরাতে। তখন মনে হচ্ছিল, হয়তো টি–টোয়েন্টি দলটাকে নিয়ে নতুন কিছু করতে যাচ্ছেন তিনি। বাস্তবে সে রকম কিছুই হয়নি। এশিয়া কাপে একটি ম্যাচও না খেলিয়েই বাদ দিয়ে দেওয়া হয় পারভেজকে। নাঈম বাদ পড়েছেন এক ম্যাচ খেলেই। অনেক গবেষণার পর ওপেনিং জুটিও ফিরেছে প্রথাগত পথেই।

সবচেয়ে বড় কথা, যদি ভবিষ্যতের টি–টোয়েন্টি দল গড়াই কাজ হবে, তবে কেন এত নাটক করে বিশ্বকাপের মতো একটা টুর্নামেন্টের আগে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হবে? আর তাঁর চুক্তিই তো এই বিশ্বকাপ পর্যন্ত। একটা বিশ্বকাপের আগে শুধু ওই বিশ্বকাপের জন্য দায়িত্ব দেওয়া মানে তো বিশ্বকাপের ফলে কিছু ইতিবাচক প্রতিফলন দেখতে চাওয়া। যদি ভবিষ্যতের চিন্তাই করা হবে, সেটা তো বিশ্বকাপের পর করা উচিত ছিল। অবশ্য বিসিবিও শ্রীরামের মতোই ভাবছে কি না, কে জানে। এর আগে তো বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানও বলেছেন, তাঁদের লক্ষ্য ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

শ্রীরাম টি–টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর যে রকম আশা ডালপালা ছড়াচ্ছিল, তিনি নিজেও যে রকম আশার কথা শুনিয়েছেন, তার কোনো প্রতিফলন টি–টোয়েন্টি দলের মধ্যে চোখে পড়েনি। সেই আগের দলই, সেই আগের মতো পারফরম্যান্সই। হ্যাঁ, একটা কথা হয়তো তিনি ঠিক বলেছেন। ক্রিকেটাররা জানেন বিশ্ব ক্রিকেটের কোথায় তাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন। জানা মানেই যে খুব ভালো সম্ভাবনার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে দলটা, সেটা অবশ্য শ্রীরাম নিজেও বলেননি।

তবে শ্রীরাম এখনো আশার কথাই বলে যাচ্ছেন। আর সে জন্য অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া দলের কাছ থেকে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮৯ রানে হেরেও পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতেছে স্বাগতিকেরা। শ্রীরামেরও আশা, আগের ম্যাচে ১০৪ রানে হারার পর আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশও সে রকম কিছুই করে দেখাবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারটাও এখন আর অতীত ছাড়া কিছু নয় টেকনিক্যাল কনসালট্যান্টের কাছে। ম্যাচ হারলেও পরের দিনটা তাঁর কাছে নতুন। আবার যাত্রা শুরু করো, আবার জয়ের জন্য ছোটো। শ্রীধরন শ্রীরামের কাছে এটাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, যেখানে আবেগের কোনো স্থান নেই।

কোচ হিসেবে খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত রাখতে দর্শনটা খারাপ নয়। তবে তাঁর নিজের ব্যাপারে বিসিবিকেও উজ্জীবিত রাখতে গ্যাবায় আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়টা না হলেই নয়। অনেক আশার বেলুন উড়িয়ে আসা শ্রীরামকে নিয়ে যে এরই মধ্যে নেতিবাচক চিন্তার প্রবাহ বইতে শুরু করেছে নীতিনির্ধারকদের মস্তিষ্কে। এই বিশ্বকাপটা ভালোভাবে শেষ না হলে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ শ্রীরামের ভবিষ্যৎ না–ও হতে পারে।