কুড়ি ওভারের খেলায় মোসাদ্দেক মূলত ‘ম্যাচ-আপ’ বোলার। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ক্রিজে থাকলে তাঁকে বোলিংয়ে আনা হয়। এর সঙ্গে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিং ও ফিল্ডিংটা যোগ করলে মোসাদ্দেককে মনে হবে দারুণ এক ‘প্যাকেজ’।

কিন্তু দক্ষতার একই প্যাকেজ আছে শেখ মেহেদী হাসানেরও। বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে গত দুই বছরে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় মেহেদী (২৬) আছেন সাকিব আল হাসান (২৯) ও নাসুম আহমেদের (২৮) পরেই।

default-image

মোসাদ্দেকের হঠাৎ অধিনায়ক হয়ে যাওয়াটা তাই শুধু জিম্বাবুয়ের মিডিয়া ম্যানেজারকেই নয়, বিস্মিত করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলের অনেককেই। কারণ খুঁজতে গিয়ে একটা যোগসূত্রও খুঁজে পাচ্ছেন কেউ কেউ। ঘরোয়া ক্রিকেটে আবাহনীর অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতাই হয়তো মোসাদ্দেককে নেতৃত্ব পেতে সাহায্য করেছে।

কিন্তু বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের খবর তো আর জিম্বাবুইয়ানদের রাখার কথা নয়। তাদের কাছে বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশের ক্রিকেট পৃথিবীর এ প্রান্তে পরিচিত তাঁদের সৌজন্যেই।

কাল বিকেলে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ের মিডিয়া ম্যানেজারের সঙ্গে এ নিয়ে যখন আলাপ হচ্ছিল, তখন মাঠে অনুশীলন করছিলেন তাঁদের তিনজন। তামিম ব্যাটিংয়ে, দৌড়াদৌড়ি করছেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ—সেদিকে তাকিয়ে মিডিয়া ম্যানেজার আবার প্রশ্ন করলেন, ‘ওরা কি এখন থেকে শুধু ওয়ানডে-টেস্টই খেলবে, টি-টোয়েন্টি নয়?’

বোঝা গেল, তামিমের কুড়ি ওভারের খেলা ছেড়ে দেওয়ার খবরটা জিম্বাবুয়েতে ভাইরাল হয়নি। মুশফিকের বিষয়ে ব্যাখ্যা শুনে শ্রোতাকে সন্তুষ্ট মনে হলো না। তবে শেষ ম্যাচের জন্য চোটে ছিটকে পড়া নুরুল হাসানের জায়গায় মাহমুদউল্লাহ যে দলে ফিরেছেন, সে তথ্য জেনেই মিডিয়া ম্যানেজারের মাথায় হাত!

default-image

বিস্ময়ের কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজের কিছু লিফলেট হাতে দিলেন তিনি। জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজার সঙ্গে তাসকিন আহমেদের উইকেট উদ্‌যাপনের ছবি দিয়ে লিফলেটটি ডিজাইন করা।

তাসকিনের ছবি দেখিয়ে বলছিলেন, ‘আমি সিরিজ শুরুর আগে এখানে কার ছবি দেব, বুঝতে পারছিলাম না। মাহমুদউল্লাহর কথা ভেবে রেখেছিলাম। পরে শুনলাম, তোমাদের অধিনায়ক হচ্ছে নুরুল হাসান। তাকে এখানে খুব বেশি মানুষ চেনে না। তাই উপায় না দেখে তাসকিনের এই আগ্রাসী ছবিটা দিয়েছি। এখন শুনছি মোসাদ্দেক অধিনায়ক। আবার মাহমুদউল্লাহও ফিরেছে দলে।’

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের এই কর্মকর্তা ট্যালেন্ট এরিকসন জুনিয়রের অবশ্য দোষ নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেটে পালাবদলের এ সময়ে বাংলাদেশের ভক্তরাই ধন্দে পড়ছেন। খেলা তিন সংস্করণের, নেতৃত্বে ভিন্ন তিনজন। এর সঙ্গে অভিজ্ঞদের বিশ্রাম-ছুটিতে দলের চেহারা এত ঘনঘন বদলাচ্ছে যে তাল রাখাই মুশকিল।

পালাবদলের কারণে এই অস্থিরতা হয়তো স্বাভাবিকই। তা থেকে ফলটা যদি ভালো আসে, তাহলে তো কথাই নেই। দুই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে চোটের কারণে ছিটকে পড়েছেন নুরুল হাসান। প্রথম ম্যাচে হারলেও নিজে ব্যাটিংয়ে ভালো করেছেন, দ্বিতীয় ম্যাচে তো দারুণভাবেই ফিরে এসেছে তাঁর দল। তৃতীয় ম্যাচে অধিনায়ক নুরুল হাসানের আরও প্রস্ফুটিত হওয়ার সুযোগ ছিল। তার বদলে পাকেচক্রে এ ম্যাচে অধিনায়ক হয়ে গেছেন মোসাদ্দেক।

default-image

বাংলাদেশের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব নিয়ে অনেক নাটকীয় ঘটনা আছে। তবে মোসাদ্দেকের মতো আর কারও অধিনায়ক হওয়াটা এত বিস্ময়ের জন্ম দেয়নি। হঠাৎ পাওয়া এ সুযোগ কি কাজে লাগাতে পারবেন মোসাদ্দেক?

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন