আজ আরও একটি অপূর্ণতা ঘোচানোর সুযোগ বাংলাদেশের

বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের শুরুতে নিয়মিতই হয় ফুটবল খেলাপ্রথম আলো

পুরো বিশ্বই আজ থেকে বুঁদ হয়ে যাবে ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। তবে বাংলাদেশের মানুষকে এখনই সে সুযোগ পুরোপুরি দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। পরশু প্রথম ওয়ানডেতে সহজ জয়ের পর আজ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেও জিতে গেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসবে বাংলাদেশ। কাজেই সুদূর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো আর কানাডার বিশ্বকাপের সঙ্গে আজ চোখ রাখতে হবে মিরপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দিকেও।

বিশ্বকাপ মৌসুমেও গত পরশু সিরিজের প্রথম ম্যাচে সময় যত গড়িয়েছে, ততই ভরে উঠেছে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি। আজও সে রকম হলে অস্বাভাবিক কিছু হবে না তা। তবে গত দুই দিনের বৃষ্টির পর আজ সকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকাতেই যা একটু অস্বস্তি।

বাংলাদেশের জন্য সিরিজ জয়ের আনন্দ এখন আর বিশেষ কিছু নয়, ওয়ানডেতে তো একদমই নয়। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে এই সংস্করণে বাংলাদেশ হারিয়েছে প্রায় সব প্রতিপক্ষকে। তবু একটা আফসোস থেকেই গেছে—টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখনো সিরিজ জেতা হয়নি বাংলাদেশের।

গত এক দশকে তা–ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার সুযোগই এসেছে ১৬ বছর পর! বাংলাদেশের সামনে উপলক্ষটাকে আরও বেশি করে রাঙানোর সুযোগ চলে এসেছে তিন ওয়ানডের সিরিজের প্রথম ম্যাচটি জেতায়। বাকি দুই ম্যাচের একটি জিতলেই সিরিজ বাংলাদেশের। আজ জিতলে সে আনন্দে ভাসা যাবে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোসাদ্দেক
প্রথম আলো

প্রথম ম্যাচটা জিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১ বছর না জেতার আক্ষেপও শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়াও তাতে বুঝেছে মাঝের সময়টায় কতটা বদলে গেছে বাংলাদেশ দল। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়ের আগে জিম্বাবুয়ে ছাড়া টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে শুধু পাকিস্তান আর ভারতের বিপক্ষেই জয় ছিল বাংলাদেশের।

ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হারানোটা এখন প্রতিপক্ষের জন্য কঠিনই। সর্বশেষ তিনটি ওয়ানডে সিরিজেই যেমন জিততে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড আর পাকিস্তান। এই ধারাবাহিকতায় এবার অস্ট্রেলিয়াই যে বাংলাদেশের পরবর্তী শিকার হতে পারে, তার একটা লক্ষণ বাংলাদেশ দেখিয়েছে প্রথম ওয়ানডেতেই। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটা বৃষ্টির কারণে পুরোপুরি শেষ হতে না পারলেও বাংলাদেশের ৮ উইকেটে করা ২৮৪ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ১৯১ পর্যন্তই যেতে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর বৃষ্টি আসায় বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ডিএলএস পদ্ধতিতে ম্যাচ জিতেছে ৮৬ রানে।

ব্যাটিংয়ে শুরুর সময়টুকু বাদ দিলে অস্ট্রেলিয়াকে ঠিক অস্ট্রেলিয়া মনে হয়নি। সঙ্গে তাদের জন্য দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিল্ডিংটাও। প্রথম ওয়ানডেতে চারটি ক্যাচ ছেড়েছে তারা। ওদিকে এক নাথান এলিস ছাড়া বাকি বোলারদের কেউই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সেভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি।

বাংলাদেশের অবশ্য আপাতত অস্ট্রেলিয়ার মতো এত দুশ্চিন্তা নেই। ৪ বছর পর ওয়ানডেতে ফিরে মোসাদ্দেক হোসেনের পারফরম্যান্স আরও বেশি আশা দেখাচ্ছে তাদের। সর্বশেষ কয়েকটি সিরিজেই লোয়ার মিডল অর্ডারে কারও ব্যাটে রান খুঁজে বেড়াচ্ছিল বাংলাদেশ দল। আফিফ হোসেনের পর সে বিবেচনায় সুযোগ আসে মোসাদ্দেকের। প্রথম ম্যাচে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে পেরেছেন তিনি, বল হাতেও উইকেট পেয়েছেন। সঙ্গে নাহিদ রানার গতিও বড় হুমকি অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য।

শুধু তো গতি নয়, প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিসকে আউট করে তাঁর সঙ্গে তর্কেও জড়িয়েছেন নাহিদ রানা। তাঁর সে হুংকার সিরিজের ঝাঁজও কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৩৮ বছর পর করা বাংলাদেশের সিরিজ জয়ও এখন ৩৮টি। সংখ্যাটা ৩৯ হয়ে যেতে পারে আজই। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া বলেই সেটি বাংলাদেশের জন্য হয়ে থাকবে বিশেষ কিছু।

আরও পড়ুন