টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ
এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ স্কোর আর পিটুনির রেকর্ড গড়ে ওমানকে হারাল আয়ারল্যান্ড
আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৩৫/৫। ওমান: ১৮ ওভারে ১৩৯। ফল: আয়ারল্যান্ড ৯৬ রানে জয়ী।
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনো গ্রুপ পর্বই শেষ হয়নি। অথচ এরই মধ্যে দেখা গেল পাঁচটি দুইশোর্ধ্ব দলীয় স্কোর!
বড় রান তুলতে এবারের আসরে ব্যাটসম্যানরা এতই মরিয়া যে এরই মধ্যে একটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে ২০২৬ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। এক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচবার দলীয় ২০০ রান এর আগে শুধু ২০০৭ বিশ্বকাপেই দেখা গিয়েছিল।
এবারের আসরে সর্বশেষটি দেখা গেল আজ কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডে আয়ারল্যান্ড–ওমান ম্যাচে। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২৩৫ রান তোলে আইরিশরা। এবারের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এটি সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ তো বটেই, এই সংস্করণের বিশ্বকাপের ইতিহাসেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ২০০৭ আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৬০ তুলেছিল শ্রীলঙ্কা।
টেস্ট খেলুড়ে দল আয়ারল্যান্ড আইসিসি টি–টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ২০তম দল ওমানের বিপক্ষে এত বড় স্কোর করার পর ম্যাচের ফল কী হতে পারে, তা আন্দাজ করা কষ্টকর নয়। ৯৬ রানে হারা ওমানের ব্যাটিংটাও ভালো হয়নি। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের মধ্যে আজই ওমান সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর গড়লেও সেটা মাত্র ১৩৯। দলটি খেলেছে ১৮ ওভার। তিন ম্যাচই হেরে ‘বি’ গ্রুপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো ওমানের। ৩ ম্যাচে ১ জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে চতুর্থ আয়ারল্যান্ড।
আয়ারল্যান্ডের শুরুটা কিন্তু ভালো ছিল না। টপ অর্ডারে তিন উইকেট পড়েছে ৫ ওভারের মধ্যে ৪৫ রানে। ৭.৩ ওভারে ৬৪ রানে পড়েছে চতুর্থ উইকেট। এর মধ্যে ফিরে যান টিম টেক্টর (৫), রস আদাইর (১৪), হ্যারি টেক্টর (১২) ও কার্টিস ক্যাম্ফার (১৪)। তখন আইরিশ সমর্থকেরাও নিশ্চয়ই এত বড় দলীয় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখেননি।
কিন্তু সেটা সম্ভব হয়েছে অবিশ্বাস্য দুটি জুটির কারণে। পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক লোরকান টাকার ও গ্যারেথ ডেলানির ৫৬ বলে ১০১ রানের জুটি যদি দুর্দান্ত হয়, তাহলে ষষ্ঠ উইকেটে টাকারের সঙ্গে জর্জ ডকরেলের ১৯ বলে ৭০ রানের জুটিটি অবিশ্বাস্য। ওমানের বোলারদের স্রেফ পিটিয়ে কিছু রাখেননি তাঁরা!
৪ ছক্কা ও ১০ চারে টাকারের ব্যাট থেকে এসেছে ৫১ বলে অপরাজিত ৯৪। ডেলানি করেন ৩০ বলে ৫৬ এবং ৯ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন ডকরেল।
ক্রিস গেইলের পর টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন টাকারের। শেষ ৫ ওভারে ৯৩ রান তুলেছে আয়ারল্যান্ড, যা টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ডেথ ওভারে’ (১৬–২০) তৃতীয় সর্বোচ্চ। টাকার এবং ডকরেলের অবিচ্ছিন্ন ৭০ রানের জুটিতে অবশ্য নতুন রেকর্ড হয়েছে। তাঁদের এই জুটিতে ওভারপ্রতি রান উঠেছে ২২.১০ করে!
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে কোনো জুটিতে ওভারপ্রতি গড়ে এত বেশি রান ওঠেনি। টাকার–ডকরেল এ পথে পেছনে ফেলেন ২০১০ আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসি–মিচেল জনসনের জুটিকে। ১৬ বলে ৫৩* রানের সেই জুটিতে তাঁরা ওভারপ্রতি ১৯.৮৭ করে তুলেছিলেন।
আইরিশদের এই রান উৎসবের পর ওমানের শুরুটা কিন্তু একদম খারাপ হয়নি। ১০ ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৮৫। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে ছিটকে পড়ে ওমান। পরের ৮ ওভারে ৫৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় দলটি। ওপেনার আমির কলিমের ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ২৯ বলে ৫০। হাম্মাদ মির্জা করেন ৩৭ বলে ৪৬। আইসিসি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফিফটির রেকর্ড এখন ৪৪ বছর ৮৬ দিন বয়সী কলিমের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৩৫/৫ (টাকার ৯৪*, ডেলানি ৫৬, ডকরেল ৩৫*; শাকিল ৩/৩৩, ফয়সাল ১/৩২, কলিম ১/২৯)।
ওমান: ১৮ ওভারে ১৩৯ (কলিম ৫০, হাম্মাদ ৪৬, সুফিয়ান ১০; লিটল ৩/১৬, হাফফ্রেস ২/২৭, ম্যাকার্থি ২/৩২)।
ফল: আয়ারল্যান্ড ৯৬ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: লোরকান টাকার (আয়ারল্যান্ড)।