এত দিন মুখ বন্ধই রেখেছিলেন। মুখ খোলার উপায়ও ছিল না। ব্যাট হাতে নিজের কাজটাই যে করতে পারছিলেন না। কাল সেমিফাইনালে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে মুখ খুললেন বাবর। আর প্রথম সুযোগেই এক হাত নিয়েছেন সমালোচকদের।

ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কণ্ঠে ছিল রীতিমতো শ্লেষ, ‘আমার দলকে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে। তবে সবারই নিজের মতামত আছে, সেটিকে আমি শ্রদ্ধা করি। সমালোচনাটা ইতিবাচক হওয়াই উচিত। আমি কখনোই কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করি না।’

বাবর সরাসরি সাবেক ক্রিকেটারদের কিছু বলেননি। তবে কথার মধ্যেই ছিল সেই ইঙ্গিত, ‘অনেকে আছেন, আমরা ভালো খেললেও সমালোচনা করেন। তবে এখন জয়টা উপভোগের সময়। পাকিস্তানি ক্রিকেট–ভক্তদের এটা উপভোগ করা উচিত। যাঁরা টেলিভিশন চ্যানেলের সামনে বসে আছেন, তাঁদেরও উপভোগ করা উচিত।’

এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাবরের ফর্ম ছিল যাচ্ছেতাই। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শূন্য দিয়ে শুরু। এরপর জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেছেন যথাক্রমে ৪, ৪ ও ৬।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সুপার টুয়েলভের শেষ ম্যাচে ২৫ রান করেছিলেন। কিন্তু কাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ বলে ৫৩ রান করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। বাবর ও রিজওয়ানের ওপেনিং জুটিকেও প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা গেছে।

ওপেনিংয়ে এ দুজনের তোলা ১০৫ রানেই কিউইদের বিপক্ষে জয়ের পথে হেঁটেছে পাকিস্তান। তাঁদের জুটিই কাল ছিল পাকিস্তানের দুর্দান্ত জয়ের ভিত। ফর্মে ফিরতে ‘সময়ের অপেক্ষা’–তেই ছিলেন বাবর। তিনি এটিও মনে করেন, সাফল্য, ব্যর্থতা—সবই খেলার অংশ, ‘আমরা ভালো সময়ের অপেক্ষাতেই ছিলাম। প্রতিটি ম্যাচে সবাই পারফর্ম করার চেষ্টা করে। সেই চেষ্টায় কোনো ত্রুটি থাকে না। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা—সবই খেলারই অংশ।’