নাহিদ রানার রেকর্ডের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হার বাংলাদেশের

সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে গেছে বাংলাদেশজিম্বাবুয়ে ক্রিকেট

নাহিদ রানা আরও একবার ৫ উইকেট পেলেন, গড়লেন একটা রেকর্ডও। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এত দিন সেটাই ছিল ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ২০ বছরের পুরোনো সেই রেকর্ডটা আজ নাহিদ রানা ভেঙে দেন ১০ ওভারে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে।

কিন্তু নাহিদ রানার রেকর্ড গড়া ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪২ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ হেরে গেছে ২৫ রানে। মোস্তাফিজুর রহমান শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরলে বাংলাদেশ যখন ১১৬ রানে অলআউট হয়, তখন নন স্ট্রাইক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন নাহিদই!

টস হেরে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ে শুরুটা বেশ ভালোই করেছিল। ইনিংসের সপ্তম ওভারে দুর্দান্ত এক থ্রোয়ে বেন কারানকে আউট করে ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

স্বাগতিকদের ছন্দপতনের শুরুটাও হয় সেখানেই। ওই ওভারের শেষ বলে আরেক ওপেনার বেনেটকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ। নিজের পরের ওভারে এসে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন ক্রেইগ আরভিনকে। বাংলাদেশের হয়ে পরের গল্পটা লেখেন নাহিদ রানা।

গতি, বাউন্স, ইয়র্কারে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়ে গেছেন নিজের পুরো স্পেলে। নিজের ষষ্ঠ ওভারেই ১৩ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার ৫ উইকেট পান নাহিদ রানা। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এখন ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়ার তালিকায় তাঁর ওপর আছেন কেবল মোস্তাফিজুর রহমান, ১২৪ ওয়ানডেতে ৬ বার ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন তিনি।

রানার তোপে ৭০ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। এরপর প্রতিরোধ গড়েন এনগারাভা ও নিয়ামুরি। তাঁদের জুটিতেই এক শ পেরোয় জিম্বাবুয়ে। এরপরই আবার দৃশ্যপটে নাহিদ রানা। ৪১ বলে ২৭ রান করা এনগারাভাকে ফিরিয়ে নবম উইকেটে ৬৩ রানের জুটিটা ভাঙেন। একটু পর ৫১ বলে ৩৩ রান করা নিয়ামুরি আউট হলে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয় ১৪১ রানে।

তখনো রান তাড়াটা সহজই মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু ১৭ রানেই তারা হারিয়ে ফেলে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে। তবে বিপর্যয়টা বাংলাদেশ কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল নুরুল হাসান ও তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে।

চতুর্থ উইকেটে দুজনের ৪৯ রানের জুটি ভাঙেন নিয়ামুরি। তাঁর বলে ৫৮ বলে ২৫ রান করে বাউন্সারে চালিয়ে খেলতে গিয়ে থার্ডম্যানে ক্যাচ দেন হৃদয়। হৃদয় ফিরতেই আবার ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে।

এক শ পেরোনোর আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। দলের হয়ে শেষ ভরসা হিসেবে থাকা নুরুল ৪৪ বলে ৩১ রান করে এলবিডব্লু হন অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে। সেখান থেকে জিততে হলে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু টেল এন্ডাররা তেমন কিছু করতে পারেননি। ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

৯ জুলাই সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ (কাইয়া ২৬, নিয়ামুরি ৩৩, এনগারাভা ২৭; তাসকিন ৩/৩২, নাহিদ ৬/২১, মিরাজ ১/২২)

বাংলাদেশ: ৩৩.১ ওভারে ১১৬ (হৃদয় ২৫, সোহান ৩১, মিরাজ ১০, রিশাদ ৩; এনগারাভা ৩/৩১, মুজারাবানি ২/২৪, ইভান্স ৩/৩৪, নিয়ামুরি ২/২২)।

ফল: জিম্বাবুয়ে ২৫ রানে জয়ী।