খেলার বুট জোড়া ঝুলছে, আরও কয়েকটি ছবির সঙ্গে এমন ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে মাইবুর্গ বলেছেন, ‘বুট জোড়া তুলে রাখছি। ঈশ্বরের জয় হোক। ১৭ মৌসুম আগে প্রথম শ্রেণিতে ও ১২ মৌসুম আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।’

মাইবুর্গের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায়। ২০০৬ সালে সে দেশেই ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করেন। একসময় নেইল ওয়াগনার, পল হ্যারিসের সঙ্গেও খেলেছেন। ২০১১ সালে নেদারল্যান্ডসের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় মাইবুর্গের। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক পরের বছর।

প্রায় ১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২২টি ওয়ানডের সঙ্গে ৪৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন মাইবুর্গ। ২৭.৭৮ গড় ও ১১৪.৫১ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৯১৫ রান। ম্যাক্স ও’ডাউড ও বেন কুপারের পর এ সংস্করণে নেদারল্যান্ডসের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের স্মরণীয় দুটি ইনিংস খেলেছেন মাইবুর্গ। ২০১৪ সালে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩.৫ ওভারে ১৯০ রান তাড়া করে সুপার টেনে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস, মাইবুর্গ খেলেছিলেন ২৩ বলে ৬৩ রানের ইনিংস। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে ৩০ বলে তাঁর ৩৭ রানের ইনিংস নেদারল্যান্ডসকে জয়ের সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।

ডাচদের ঐতিহাসিক জয়ে স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত মাইবুর্গ, তবে জন্মভূমির এমন পরাজয়ও ছুঁয়ে গেছে তাঁকে, ‘স্বপ্নেও ভাবিনি, বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় দিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করব। আমার রক্ত সব সময়ই সবুজ থাকবে। ক্রীড়াবিদ মাত্রই সব সময় জিততে চায়, তবে আমার জন্মভূমির জন্যও কেঁদেছি।’

বিদায়ের সময় নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট বোর্ডকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাইবুর্গ লিখেছেন, ‘নেদারল্যান্ডস আমার ঘর এখন, আমার ক্যারিয়ারের জন্য অনেককেই ধন্যবাদ দিতে হবে। ঈশ্বর, আমার স্ত্রী, বন্ধু, পরিবার, স্পন্সর এবং সব সমর্থককে ধন্যবাদ।’

মাইবুর্গের বিদায়ের পর নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট বোর্ড ইনস্টাগ্রামে লিখেছে, ‘অসাধারণ ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন, কিংবদন্তি!’