ক্রিকেটে ফুটবলের মতো ‘ডিভিশন’ চালুর প্রস্তাব কেন দিলেন গাভাস্কার

ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারএএফপি

প্রশ্নটি পুরোনো। সুনীল গাভাস্কার সেটাই তুললেন নতুন করে।

আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সর্বনিম্ন ৭ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড আছে। ২০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার ঘটনা আছে ১০ বার এবং তার কোনোটার সঙ্গেই টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের সংযোগ নেই। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডেও একই চিত্র। ৭ কিংবা ৮টি উইকেট রয়েছে ৪ ওভারের কোটায়। কিন্তু এসব রেকর্ড সহযোগী দেশের খেলোয়াড়দের। প্রতিপক্ষও সহযোগী দেশ। রেকর্ডগুলো দেখে প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক, টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর রেকর্ড আর সহযোগী দেশগুলোর এসব রেকর্ড কি সমমানের?

উত্তরটা সবারই জানা। বেশির ভাগ সহযোগী দেশগুলোর ম্যাচে ক্রিকেটের যে মান, সেটা আসলে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে। তাহলে উপায় কী? ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘মিড–ডে’তে লেখা কলামে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দেশটির কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রেকর্ডের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন গাভাস্কার। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে। ফুটবলের মতো ‘ডিভিশন’ প্রথা চালুর প্রস্তাব করেছেন তিনি।

ফুটবল লিগগুলোতে বিভিন্ন স্তর বা ‘ডিভিশন’ থাকে, যেখানে মৌসুম শেষে প্রমোশন (উন্নীত হওয়া) এবং রেলিগেশনের (অবনমন) ব্যবস্থা থাকে। ফলে যে রেকর্ডই হোক না কেন, তা কোন ডিভিশনে অর্জিত হয়েছে সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।
ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার

গাভাস্কারের মতে, ভারতে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট রঞ্জি ট্রফিতেও অনুরূপ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। সম্প্রতি ছেলেদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ সাব-রিজিওনাল এশিয়া কোয়ালিফায়ার ‘এ’র ম্যাচে থাইল্যান্ডের ১৯৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মঙ্গোলিয়া মাত্র ১৩ রানে অলআউট হয়। এই ম্যাচের উদাহরণ টেনে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন গাভাস্কার।

কলামে গাভাস্কার লেখেন, ‘এটি এই সংস্করণে সর্বনিম্ন স্কোরের রেকর্ড নয়। অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি আইভরিকোস্টের দখলে—নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র ৭ রানে অলআউট হয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আরেকটি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে মাত্র ১০ রানে অলআউট হয় মঙ্গোলিয়া।’

আরও পড়ুন

গাভাস্কার মনে করেন, এই ম্যাচগুলোকে ‘আন্তর্জাতিক’ বলা যুক্তিযুক্ত হলেও প্রশ্ন থেকে যায়, এমন অসমান শক্তির ম্যাচের পরিসংখ্যানকে অফিশিয়াল রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার আগে ‘ন্যূনতম কোনো মানদণ্ড বা সীমা নির্ধারণ করা উচিত কি না’।

৭৭ বছর বয়সী কিংবদন্তি লেখেন, ‘কোনো দল যখন এত কম রানে অলআউট হয়, তখন আইসিসির উদীয়মান সহযোগী সদস্যদেশগুলোর একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার ম্যাচগুলোতে বোলারদের পরিসংখ্যান অস্বাভাবিক রকম অবিশ্বাস্য হয়ে ওঠে। পূর্ণ সদস্যের দেশগুলো যখন একে অপরের মুখোমুখি হয়, তখনকার পরিসংখ্যানের সঙ্গে এসব এক করে দেখা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত বা ন্যায়সংগত নয়।’

সহযোগী দেশগুলোর রেকর্ডের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাভাস্কার
আইসিসি

গাভাস্কার এরপর পথটা বাতলে দেন, ‘ফুটবল লিগগুলোতে বিভিন্ন স্তর বা ‘ডিভিশন’ থাকে, যেখানে মৌসুম শেষে প্রমোশন (উন্নীত হওয়া) এবং রেলিগেশনের (অবনমন) ব্যবস্থা থাকে। ফলে যে রেকর্ডই হোক না কেন, তা কোন ডিভিশনে অর্জিত হয়েছে সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। ক্রিকেটেও হয়তো অনুরূপ কোনো ব্যবস্থা নিয়ে ভাবা যেতে পারে; যার মাধ্যমে দলগুলো কোন স্তরে খেলছে, তার ওপর ভিত্তি করে পরিসংখ্যানের পার্থক্য সবার কাছে একদম স্পষ্ট থাকবে।’

ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে নেপালের দীপেন্দ্র সিংয়ের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডের উদাহরণও টানেন গাভাস্কার। যুবরাজ সিংয়ের ১২ বলে ফিফটির রেকর্ড ভেঙে ৯ বলে ফিফটি তুলে নেন দীপেন্দ্র। যুবরাজ ২০০৭ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ার পথে স্টুয়ার্ট ব্রডের ছয় বলে ছয় ছক্কা মারেন। দীপেন্দ্র ২০২৩ সালে যুবরাজের সেই রেকর্ড ভাঙেন মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে।

নেপালের দীপেন্দ্র সিং ঐরি
এক্স

গাভাস্কার এ নিয়ে কলামে বলেন, ‘নেপাল দ্রুত উন্নতি করছে—যেমনটি আমরা এ বছর ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দেখেছি, তারা ইংল্যান্ডকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল। ফলে তাদের ব্যাটসম্যান ও বোলাররা যখন অন্য সহযোগী সদস্যদেশগুলোকে গুঁড়িয়ে দেয়, তখন অবাক হওয়ার কিছু থাকে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটিকে কি আন্তর্জাতিক রেকর্ডের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত?’

রঞ্জি ট্রফির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম মেনে রেকর্ড বই পুনর্গঠনের পরামর্শ দেন ভারতীয় এই কিংবদন্তি। তাঁর মতে, অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্লেট গ্রুপের ম্যাচগুলোতে হওয়া রেকর্ড যেন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অর্জিত কীর্তিগুলোকে আড়াল করে না দেয়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।