বিপিএলে সর্বশেষ দুবার চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। অথচ এবারের বিপিএলের নিলামে প্রথম ডাকে কিনা তাঁকে নিয়ে আগ্রহই দেখায়নি কোনো দল। ওই ঘটনার সময় মাহমুদউল্লাহরও চোখ ছিল টিভি পর্দায়, প্রথম ডাকে দল না পেয়ে ‘শকড’ হয়েছিলেন তিনি।
এবারের বিপিএলের নিলামের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ডাকে দল না পেলে এক ক্যাটাগরি নামিয়ে আবার নাম তোলার কথা। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমের ক্ষেত্রে তা হয়নি রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেকের অনুরোধে।
পরে ভিত্তিমূল্য ৩৫ লাখ টাকা করে মুশফিকুর রহিমকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও মাহমুদউল্লাহকে দলে নেয় রংপুর রাইডার্স। সে জন্য রংপুর রাইডার্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলছেন, গত কয়েক বছরে অনেকের চেয়েই তাঁর পারফরম্যান্স ভালো থাকার পরও কেউ দলে না নেওয়াতে অবাক হয়েছেন।
কাল সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে মাহমুদউল্লাহ বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি দেখছিলাম (নিলাম) এবং আই ওয়াজ রিয়েলি শকড। কারণ, শেষ দুই–তিন বছর যদি ক্রিকেট পারফরম্যান্স আর পরিসংখ্যান দেখেন, আমার মনে হয় অনেক জাতীয় দলের খেলোয়াড়ও আমার ধারেকাছে নেই। সেটা স্ট্রাইক রেট, অ্যাভারেজ বা রানের দিক থেকে। ঠিক আছে, অসুবিধা নেই (প্রথম ধাপে দলে ডাক না পাওয়ায়)।’
গত বছর বিপিএলে ফরচুন বরিশালের হয়ে ১৪ ম্যাচের ৮টিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৩.০৫ স্ট্রাইক রেটে ২০৬ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। একই দলের হয়ে ২০২৪ সালে ১৩ ইনিংসে ১৩৪.৬৫ স্ট্রাইক রেটে ২৩৭ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে।
এবারও রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলতে নেমে প্রথমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মাহমুদউল্লাহ। গত পরশু রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শেষ বলে ১ রান নিতে না পারায় ম্যাচটা গড়ায় সুপার ওভারে। যেখানে হেরেছে রংপুর রাইডার্স। রিপন মণ্ডলের ইয়র্কার সামলে ১ রান নিতে না পারার সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘১ বলে ১ রান, অনেক কিছু বলে দেওয়াটা সহজ। কিন্তু ডেলিভার করতে গেলে এটা অনেক সময় হয়, অনেক সময় হয় না। মানুষ অনেক সময় ভাবে যে ক্রিকেট খুব সহজ। বিশেষত যারা টি-টোয়েন্টিতে লেট মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করে, তারা খুব ভালো করে জানে যে তাদের পজিশনটা কত গুরুত্বপূর্ণ এবং কত ঝুঁকিপূর্ণ। ধারাবাহিকভাবে এই জায়গায় সফল হওয়া সহজ না। কিন্তু আপনি যদি দলের জন্য চেষ্টা করেন—কখনো সফল হবেন, কখনো ব্যর্থতার দিকে থাকবেন।’
কাল অবশ্য সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ম্যাচ জিতিয়ে নায়ক হয়েছেন সেই মাহমুদউল্লাহ। শেষ ৫ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ৪৯ রান। সেখানেই মেহেদী হাসান মিরাজের টানা ৪ বলে বাউন্ডারি মেরে ১৯ রান নেন মাহমুদউল্লাহ। ১৬ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংসে ৭ বল আগেই দলের জয়ও নিশ্চিত করেন।
এ নিয়েও সন্তুষ্টি শোনা গেল মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠে, ‘দল যখন জেতে, অবশ্যই সেটাতে ছোট–বড় ভূমিকা যদি রাখতে পারি, ওটাই সবচেয়ে বড় কথা। যেহেতু গত পরশুর ম্যাচে আমরা হেরেছি, আজকের (গতকাল) ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য মোমেন্টামে ফিরতে।’