ইমরানের পাশে এবার লারা, চাইলেন সুচিকিৎসা ও মানবিক মর্যাদা

ব্রায়ান লারা ও ইমরান খান—ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি

একে একে সোচ্চার হচ্ছেন ক্রিকেট–বিশ্বের তারকারা। কারাবন্দী পাকিস্তানের কিংবদন্তি অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও মানবিক আচরণের দাবিতে এবার কথা বলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা।

বিশ্বের একঝাঁক সাবেক অধিনায়ক এবং অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের আহ্বানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে একটি আবেগঘন বিবৃতি দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই অধিনায়কও ।

বিবৃতিতে ব্রায়ান লারা লিখেছেন, ‘ইমরান খান ও আমার মাঠে মুখোমুখি সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে হাতে গোনা কয়েকবার। ওইটুকু সময়েই তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা তৈরি হয়েছিল, আর তা ছিল চিরস্থায়ী।’

খেলোয়াড়ি জীবনের বর্ণিল সময়ে দেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইমরানের প্রভাব স্মরণ করে লারা লেখেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, খেলোয়াড়ি জীবনের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় যিনি একসময় নিজের দেশের জন্য আশা, গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রদীপ ছিলেন, আজ তিনি কীভাবে এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছেন, যেখানে তিনি ন্যূনতম যত্ন, সহানুভূতি কিংবা প্রাপ্য সম্মানটুকুও পাচ্ছেন না। এটা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন।’

অন্য অধিনায়কদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে লারাও ইমরানের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন, ‘অন্য সাবেক অধিনায়কদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আমিও তাঁর জন্য উপযুক্ত ও স্বতন্ত্র চিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি। একজন মানুষ হিসেবে যে মর্যাদা তাঁর প্রাপ্য, সেটিও যেন নিশ্চিত করা হয়।’

বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখার আহ্বান জানিয়ে ক্যারিবীয় এই ব্যাটিং অধিনায়ক লিখেছেন, ‘এটা কোনো রাজনীতি নয়। এটা আমাদের খেলার এক কিংবদন্তির জন্য খুব সাধারণ মানবিকতার প্রশ্ন।’

আরও পড়ুন

১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর খেলা ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ইমরান খান এবং ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। ইমরান অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।

ইমরানের যথাযথ চিকিৎসার দাবিতে এর আগে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৩ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এরপর ইমরানের পক্ষে কথা বলেন জাভেদ মিয়াঁদাদ ও মঈন খানের মতো পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররাও।

আরও পড়ুন