পাকিস্তানের বিপক্ষে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের আউট নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। সৌম্য আউট হওয়ার পর উইকেটে আসেন সাকিব। পাকিস্তানের লেগ স্পিনার শাদাব খানের ওভারের পঞ্চম বলে তাঁর বিরুদ্ধে এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার।

সাকিব রিভিউ নেন। টিভি রিপ্লে দেখে বোঝা যায়, বল সাকিবের বুটে লাগার আগে ব্যাট স্পর্শ করেছে। কিন্তু মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন টিভি আম্পায়ার। সাকিব বিস্ময় প্রকাশ করে মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিছুক্ষণ। আম্পায়ারের সঙ্গে এ নিয়ে কথাও বলেন। কিন্তু লাভ হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার টম মুডি আর ভারতের আকাশ চোপড়ার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররাও বলছেন, সাকিব আসলে আউট ছিলেন না।

পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম বলেছেন, ‘আমি যখন রিপ্লেতে আলট্রা এজ দেখেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে বল ব্যাটে লেগে অন্যদিকে ঘুরে গেছে। স্পষ্টই দেখা গেছে ব্যাট মাটিতে লাগেনি। ব্যাট আর পিচের মধ্যে স্পষ্ট ফাঁক ছিল।’ দেশটির সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ উল হকের ভাষায়, ‘এটা সাধারণ জ্ঞান থেকেই বোঝা যায় যে বল কোথাও লেগে অন্যদিকে ঘুরে গেছে।’

খালেদ মাহমুদ শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নয়, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও বাজে আম্পায়ারিংয়ের প্রসঙ্গ তুলে আনেন,  ‘ম্যাচে ভুল সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আমাদের সঙ্গে একটু বেশিই ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাকিস্তানের ম্যাচে সাকিবের আউটটা আমরা কেউই মেনে নিতে পারিনি। ভারতের সঙ্গে ম্যাচেও এমন দু-একটি ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বিরাট কোহলির ‘ফেক ফিল্ডিং’ করার অভিযোগ ওঠে। এ জন্য ভারতকে শাস্তি দেওয়া হলে ৫ রান পেত বাংলাদেশ। কিন্তু তা হয়নি। বাংলাদেশও ম্যাচটা হেরেছে ৫ রানে।

তবে সেই দুটি ম্যাচের বাজে আম্পায়ারিং নিয়ে এখন আর কিছু করার নেই বলে মনে করেন খালেদ মাহমুদ, ‘এখন আমরা আম্পায়ারের সঙ্গে আলোচনা করতে পারি। কিন্তু একবার সিদ্ধান্ত দিয়ে দিলে আর কিছুই করার থাকে না। পরে অভিযোগ করলেও তো ম্যাচটা আর ফিরে আসবে না।’

সুপার টুয়েলভে নিজেদের গ্রুপে ছয় দলের মধ্যে পঞ্চম হয়ে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। ৫ ম্যাচ খেলে শুধু নেদারল্যান্ডস ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতেছে। তিন বড় দল দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান এবং ভারতের বিপক্ষে হেরেছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে খালেদ মাহমুদের দাবি, ‘প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের উন্নতি ছিল। প্রত্যাশাও বেড়ে গিয়েছিল, সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেটি হয়নি, তবে আমার মনে হয় আমরা মোটেই একেবারে খারাপ করিনি।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আসার আগে ফর্ম নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ছিলেন ওপেনার নাজমুল হোসেন।

সুপার টুয়েলভে তাঁর দুটি ফিফটি (৭১ ও ৫৪) তুলে নেওয়ার প্রশংসা করে মাহমুদ বলেছেন, ‘শান্তকে নিয়ে এতো কথা হওয়ার পরও ও যেভাবে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে সেটা আউট অব দ্য বক্স। ওর ওপর যে চাপ ছিল সেখান থেকে বেরিয়ে আসা খুবই শক্ত। কিন্তু ও করে দেখিয়েছে। আমার মনে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে শান্ত অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হয়ে উঠবে।’