দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে ১৯৯১ সালে জন্ম এই বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডারের। সেখান থেকে নেদারল্যান্ডসের জার্সি গায় চাপানোর পর এখন নিউজিল্যান্ডেরও প্রতিনিধিত্ব করছেন রিপন। মায়ের দিক থেকে ডাচ জাতীয়তা থাকায় ২০১৩ সালে নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলে ডাক পেয়ে যান।

তার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগ এবং ডাচ পাসপোর্ট থাকায় ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল সাসেক্সেও খেলেন রিপন। ২০১৭ সালে স্বল্প মেয়াদে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যখন নিউজিল্যান্ডে গেলেন, রিপন জানতেন না কিউইদের হয়েও একদিন তাঁকে মাঠে নামতে হবে!

বাঁহাতি পেসার হিসেবে যাত্রা শুরুর পর ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান জোনাথন ট্রটের বাবার কাছ থেকে রিপন স্পিনার হওয়ার পরামর্শ পেয়েছিলেন। বাঁহাতি স্পিন শুরুর পর রিপন টের পান, আঙুলের চেয়ে কব্জির স্পিনটা ভালো পারেন। ব্যস, তারপর ধীরে ধীরে রিপন আজ বাঁহাতি কব্জির স্পিনার।

সাসেক্সে থাকতে ডাচ জাতীয় দল থেকে ডাক পান। এ বছর এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের মাঠেই ডাচদের হয়ে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছেন রিপন। নিউজিল্যান্ডে বেশ আগে থেকে বসবাস করলেও জাতীয়তা পেতে দেরি হয়েছে তাঁর। শুধু নিউজিল্যান্ডের ভেতরেই কাজ করতে পারবেন এমন ভিসা পেয়েছিলেন তিনি।

২০১৯ সালে ‘ট্যালেন্ট ভিসা’ পাওয়ার পর পরিস্থিতি সহজ হয়ে আসে। এই ভিসায় তিন বছর নিউজিল্যান্ডে থাকলেই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা যায়। এ বছরের মার্চে এসে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়ে যান ৩০ বছর বয়সী রিপন। এরপর থেকেই নিউজিল্যান্ড তাঁর ‘ঘর।’

আয়ারল্যান্ড সফরে ডাক পেলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি ডাচদের হয়ে ৯ ওয়ানডে ও ১৮ টি–টোয়েন্টি খেলা এই ক্রিকেটার। শেষ পর্যন্ত সুযোগ মিলল কাল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হয়ে ৩৭ রানে ২ উইকেটও নেন। কী কাকতাল, নেদারল্যান্ডসের হয়ে রিপন সর্বশেষ টি–টোয়েন্টি খেলেছেন লর্ডসে নেপালের বিপক্ষে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই। ঠিক কাঁটায় কাঁটায় মিলিয়ে চার বছর পর নিউজিল্যান্ডের হয়ে রিপন প্রথম টি–টোয়েন্টিও খেললেন সেই ২৯ জুলাই!

শুধু কী তাই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুটি ভিন্ন মহাদেশের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা প্রথম ক্রিকেটারও রিপন। মানে, ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশে অবস্থিত দুটি দেশের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যেখানে আবার তাঁর জন্মস্থান অন্য এক মহাদেশে—আফ্রিকায় জন্মের পর ইউরোপ ঘুরে রিপন এখন ওশেনিয়ার মহাদেশের প্রতিনিধি! টি–টোয়েন্টিতে অন্তত দুটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করা ১৪তম ক্রিকেটার রিপন।

এডিনবার্গে কাল রিপনকে ব্যাট হাতে নামতে হয়নি। মার্ক চাপম্যানের ৪৪ বলে ৮৩ ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের ২৫ বলে অপরাজিত ৬১ রানে দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটে ২৫৪ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। টি–টোয়েন্টিতে এটি তাঁদের সর্বোচ্চ স্কোর।

রিপন ও জিমি নিশাম ২টি করে উইকেট নেওয়ায় এবং বাকিরাও ভালো বল করায় ২০ ওভার খেলেও বেশি দূর এগোতে পারেনি স্কটিশরা। ৯ উইকেটে ১৫২ রানে স্কটল্যান্ড থামায় ১০২ রানের জয়ে সিরিজ ২–০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় মিচেল স্যান্টনারের দল।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন