আত্মবিশ্বাস নিয়েই সুপার ফোর শুরু করছে বাংলাদেশ, তবে প্রতিপক্ষ বড় কঠিন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কয়েকটা চ্যালেঞ্জ দেখছি। দলের সবচেয়ে ইনফর্ম ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেনকে হারানো বড় ধাক্কা। পাকিস্তান আবার নিজেদের কন্ডিশনে খেলবে। এই টুর্নামেন্টে তারা নেপালের বিপক্ষে নিজেদের ব্যাটিং এবং ভারতের বিপক্ষে বোলিংয়ের সামর্থ্য দেখিয়েছে। নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে তারা গর্ব করতেই পারে।

বাংলাদেশের প্লাস পয়েন্ট হতে পারে লিটন দাসের ফিরে আসা। এ মাঠেই আগের ম্যাচটি খেলেছেন সাকিবরা। অবশ্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ যে পারফরম্যান্স, সেটির পুনরাবৃত্তি করা কঠিন। হয়তো পাকিস্তানের স্পিনাররা নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি এখনো, কিন্তু সব মিলিয়ে তাদের বোলিং আক্রমণ সেরা। আগে বোলিং করলে শুরুতে শাহিন শাহ আফ্রিদিরা মুভমেন্ট পাবেন, শেষ দিকে রিভার্স সুইংও। সঙ্গে গতির অস্বস্তি তো আছেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য।

আরও পড়ুন

সাকিবদের সামনে ১ নম্বর পাকিস্তান

আগের দুটি ম্যাচে নাজমুল ও মেহেদী হাসান মিরাজের লম্বা ইনিংসের পর অন্য ব্যাটসম্যানরা ক্রিজে যথেষ্ট সময় কাটানোর সুযোগ পাননি। তবে তাঁরা সুযোগের জন্য মুখিয়ে থাকবেন আশা করি। আমার বিশ্বাস, এ ধরনের ম্যাচে বাংলাদেশ আট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলার চেষ্টা করবে না। বরং দলে বাড়তি একজন বোলার দরকার। সে ক্ষেত্রে শামীম হোসেন বা আফিফ হোসেনের একজনকে সরে যেতে হবে। আমার মনে হয় শামীমকেই খেলানো ভালো। গতকালের আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছে, উইকেটে স্পিনারদের জন্য সহায়তা থাকবে। ফলে নাসুম আহমেদের দলে অন্তর্ভুক্তি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে শামীম হোসেনকে কি রাখা হবে একাদশে
ছবি: প্রথম আলো

নাজমুল নেই বলে উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখার সুযোগ নেই, আর আমার কাছে এটিকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়ও না। এই মাঠে চার দিনে তৃতীয় ম্যাচ হচ্ছে বলে উইকেট ধীরগতির হতে পারে, যদিও অনেকগুলো উইকেট থাকায় অপশন থাকবে। উইকেটে ঘাস থাকে কি না, সেটাও দেখার বিষয়।

আজ তাওহিদ হৃদয়ের কাছ থেকে একটা বড় ইনিংস চাই। উঠতি খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা তাঁর কাছে। আমার মনে হয়, তাঁর একটু সময় নেওয়া উচিত ইনিংস গড়ার ক্ষেত্রে। আগের দুই ম্যাচে তাড়াহুড়া করেছেন। উইকেটে থাকলে স্ট্রাইক রেট পুষিয়ে নিতেই পারবেন।

আরও পড়ুন

হিসাবের গরমিল: ২০০৩ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০২৩ এশিয়া কাপে আফগানিস্তান

মোহাম্মদ নাঈমেরও সময় এসেছে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার। যদিও বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর বোলার আফ্রিদির বিপক্ষে টপ অর্ডারের কাজটি কঠিন হতে যাচ্ছে। প্রথম ১০ ওভারে উইকেট ধরে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আগে ব্যাটিং করলে। অবশ্য রান তাড়া করতে গেলে শুরু থেকেই আক্রমণে যেতে হতে পারে। সাকিব-মুশফিক তো আমাদের কাছে রোহিত-কোহলির মাপের ক্রিকেটার। তাঁরা প্রত্যাশা মেটাবেন বলে আশা করি। শামীমও সম্ভাবনাময়।

আগের দুই ম্যাচেই আগে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। এবার ম্যাচটি ইন্টারেস্টিং হতে যাচ্ছে। মিরাজকে কোথায় খেলানো হয়, সেটি দেখার বিষয়। আগের দিন সফল হওয়ার কারণেই তাঁকে ওপেনিংয়ে পাঠানো উচিত বলে মনে করি না। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে কাজটি কঠিন হয়ে যেতে পারে তাঁর জন্য। সাত বা আটেই রাখা উচিত, প্রয়োজনে মিডল অর্ডারে কাজে লাগানো যেতে পারে।

ব্যাটিংয়ে আজ কোন পজিশনে নামবেন মিরাজ
ছবি: প্রথম আলো

ব্যাটসম্যানদের মতো বোলারদেরও একটা বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ ভালো, কিন্তু এমন ম্যাচে খেই না হারিয়ে ফেলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আগে ব্যাটিংই হোক বা বোলিং, এ ম্যাচের অ্যাপ্রোচটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুপার ফোর সহজ হবে না।

আরও পড়ুন

‘বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং’কে কমের মধ্যে আটকানোর বিশ্বাস তাসকিনের

নাজমুলকে হারানোর পরও বাকিরা কীভাবে মেলে ধরেন নিজেদের, সেটি দেখার বিষয়। দল যে জেতার জন্য নামছে, একাদশে সেটির ছাপ থাকা উচিত। সামনে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট। এর আগে এশিয়া কাপের ফাইনালে যেতে চাই কি না—সেটির বার্তা হতে পারে আজকের ম্যাচ। নাজমুলকে হারানোর পরও এটি বাংলাদেশ দলের জন্য নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ।

  • গাজী আশরাফ হোসেন, সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল