ফাইনালের আগে ভারতের ৩ সতর্কতা
ভারত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। ফাইনাল খেলবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে, নিজেদের লাখো দর্শকের সামনে। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, যে দলটি এখনো কোনো টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতেনি।
সব হিসাবেই ভারত ফেবারিট। কিন্তু একটা পরিসংখ্যান ভারতের জন্য অস্বস্তিকর—টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে কখনোই হারাতে পারেনি তারা। তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে ভারত। তাই ফাইনাল জিততে হলে তিনটি ভুল একেবারেই করা চলবে না ভারতের।
ব্যাটিং অর্ডারে অযথা রদবদল
ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তনের ভালো-মন্দ দুটো দিকই আছে। কখনো তা কাজে লেগে যায়, আবার কখনো হিতে বিপরীতও হয়। ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে অক্ষর প্যাটেলকে ব্যাটিং লাইনআপে ওপরের দিকে তুলে আনার সিদ্ধান্ত ভারতের কাজে লেগেছিল। সেই ম্যাচে ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
কিন্তু ২০২১ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ঠিক উল্টোটা হয়েছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে রোহিত শর্মাকে তিন নম্বরে নামিয়ে ঈশান কিশানকে দিয়ে ওপেন করানো হয়। ফল: ভারত মাত্র ১১০/৭ রানে আটকে যায়।
ভারতের বর্তমান লাইনআপ বেশ শক্তিশালী। প্রতিটি জায়গায় সম্ভাব্য সেরা খেলোয়াড়টিই আছেন। এবার যদি হুট করে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন করা হয়, বড় ঝুঁকি হয়ে যেতে পারে। অভিষেক শর্মা ছন্দে না থাকায় তাঁকে নিয়ে আলোচনা আছে, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলে তা উল্টো সমস্যাও তৈরি করতে পারে।
স্পিন ফাঁদে না পড়া
ভারতের বিপক্ষে স্পিনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে নিউজিল্যান্ড বরাবরই পারদর্শী। ২০১৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নাগপুরের স্পিন–সহায়ক উইকেটে মিচেল স্যান্টনার ও ইশ সোধির ঘূর্ণিতে ভারত অলআউট হয়েছিল মাত্র ৭৯ রানে।
এবারও কিউই দলে আছে শক্তিশালী স্পিন আক্রমণ—স্যান্টনার, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস ও কোল ম্যাকনকি। তাঁরা ভারতের মিডল অর্ডার, বিশেষ করে সূর্যকুমার যাদব ও তিলক বর্মাদের ওপর ডট বলের চাপ তৈরি করতে চাইবে। সেই ফাঁদে পড়া যাবে না ভারতের।
আহমেদাবাদের সেই ভুল যেন না হয়
আহমেদাবাদ মানেই ভারতের জন্য একটি তিক্ত স্মৃতি। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে এই মাঠেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছিল তারা।
সবচেয়ে বড় সমালোচনা হয়েছিল উইকেট পরিস্থিতি ঠিকভাবে বুঝতে না পারা নিয়ে। এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে চলবে না। নিউজিল্যান্ড ভারতের ছোট ভুলকেও বড় করে তুলতে পারে।
এরই মধ্যে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেছেন, তিনি নিউজিল্যান্ডের খেলা খুব বেশি দেখেননি। অনেকেই এটিকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বা পরিকল্পনার ঘাটতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
পরিসংখ্যান, ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক ফর্ম মিলিয়ে আজকের ফাইনাল হতে পারে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়—ভারত যদি এই তিন ভুল এড়িয়ে চলতে পারে, তাহলে আহমেদাবাদে শিরোপা ধরে রাখার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।