সে জন্যই আমি দলে একজন বাড়তি পেসার রাখার পক্ষে ভোট দিতে চাই। আমাদের উচিত চার পেসার নিয়ে খেলা। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ যে তিন পেসার নিয়ে খেলছে, প্রত্যেকেই দুর্দান্ত বোলিং করছে। সে ক্ষেত্রে চারজন পেসার খেলানোর বিষয়টি ভাবাই যায়। কারণ, একাদশের বাইরে যে পেসাররা আছে, তারাও কিন্তু খারাপ না। শরীফুল ইসলাম, ইবাদত হোসেন—দুজনই ভালো ছন্দে আছে। সুযোগ পেলে ওরাও নিশ্চয়ই অস্ট্রেলীয় কন্ডিশন উপভোগ করবে। আমি এ ক্ষেত্রে ইবাদতকেই এগিয়ে রাখব। এই কন্ডিশনে জেনুইন ফাস্ট বোলাররা খুব কার্যকরী। তাসকিন যেমন ভালো করছে, আমি মনে করি, ইবাদতও ভালো করবে।

এই ঝুঁকিটা নিতেই হবে। পঞ্চম বোলার হিসেবে অনিয়মিত কাউকে না খেলিয়ে বিশেষজ্ঞ পেসার খেলাতে হবে। কারণ, আমরা ম্যাচ জিতছি পেস বোলিং দিয়ে। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ের যে অবস্থা, ভালো খেললে হয়তো ১৫০-১৬০ রান করবে, ১৮০-২০০ করার সম্ভাবনা তো খুব একটা দেখছি না। আমরা আগে বোলিং করে প্রতিপক্ষকে ওই ১৫০ বা ১৬০ রানের মধ্যে আটকাতে চাইব। সে জন্য বোলিংটাই গুরুত্বপূর্ণ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যেমন চারজন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে খেলেছি, সেটা একদমই গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম। সেদিন ইয়াসির আলীকে বসিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে খেলানো হয়। এখন বোঝা যাচ্ছে, আমরা স্পিনের পথে না হেঁটে যদি পেসার খেলাতে পারি, তাহলে আদর্শ হতো। কারণ, এই সমন্বয়টা এবারের বিশ্বকাপে খুব কার্যকরী মনে হচ্ছে। পাকিস্তানকে দেখলাম ভারতের কাছে শেষ ওভারে বাধ্য হয়ে মোহাম্মদ নেওয়াজকে বোলিং করানোর পর থেকে একজন বাড়তি পেসার নিয়ে খেলছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতও একাদশ সাজাচ্ছে চার পেসারে। আমাদেরও সে পথে এগোতে হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ দলের কৌশলগত দিকগুলো ঠিকঠাক মনে হচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টপ অর্ডার থেকে লম্বা ব্যাটিং করেছে। এটা ভালো লেগেছে। নাজমুলের ওই ইনিংসটি খুব দরকার ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য। এখন আমাদের ব্যাটিংয়ের একটা প্যাটার্ন দাঁড়িয়েছে। আমরা শুরুতে একটু দেখে খেলছি। পরে সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। এখন এই প্যাটার্ন ধরেই আমাদের উন্নতি করতে হবে। প্রথম ১০ ওভারে সেদিন হয়তো ৬৫ রান এসেছে। চেষ্টা করতে হবে সেটা যেন ৭০-৭৫ রানে যায়। আগের ম্যাচে শেষ চার ওভারে ৩০ রান এসেছে। সেখানে যেন আরও কিছু রান যোগ হয়। ছোট বিষয়গুলো জোড়া লাগাতে পারলেই একটা ভালো পুঁজি দাঁড়িয়ে যাবে, যা পরে পেসাররা কাজে লাগাতে পারবে। আর ফিল্ডিংয়ের বিষয়টি তো আছেই। আমরা এখন পর্যন্ত ভালো ফিল্ডিং করছি। সেটা আমাদের সামনেও ধরে রাখতে হবে।

এবারের বিশ্বকাপে ব্যাটিংয়ের সময় একটা ধারাই দেখা যাচ্ছে। কাল যেমন অস্ট্রেলিয়াতেও নতুন বলে ভুগতে দেখলাম। অ্যারন ফিঞ্চ অনেক সময় নিয়েছে শুরুর দিকে। দ্রুত রান তোলার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় ছিল দীর্ঘক্ষণ। এরপর শেষের দিকে এসে স্ট্রাইক রেট বাড়িয়ে নিয়েছে। অথচ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সবার ধারণা ছিল উল্টোটা। সবাই ভেবেছিল আইরিশদের উড়িয়ে দেবে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। সবাইকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যাটিং করতে হচ্ছে। রান করার জন্য খেলতে হচ্ছে প্রপার ক্রিকেট শট।

অস্ট্রেলীয়দের কাল সেটাই করতে দেখলাম। ফিঞ্চ ১৬ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করে গেল। বাকিরা তাকে সঙ্গ দিয়েছে আগ্রাসী ব্যাটিং করে। এখন দেখছি অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট নিউজিল্যান্ডের সমান। আফগানিস্তানকে শেষ ম্যাচে হারাতে পারলেই অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে যাবে। আরেক বড় দল ইংল্যান্ডকে জয় পেতে হবে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথটা তাই তুলনামূলক কঠিন মনে হচ্ছে।