ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে বিসিবিকে যে পরামর্শ দিলেন তামিম
নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ দলের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া দশম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ ভারতে। কিন্তু বাংলাদেশ সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর এখন আইসিসির জবাবের অপেক্ষায় আছে।
এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে। সবকিছু জনসাধারণের আবেগ দিয়ে চিন্তা করলে বড় সংস্থা চালানো যায় না বলেও মন্তব্য তাঁর।
আজ রাজধানীর সিটি ক্লাব মাঠে জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দল আয়োজিত জিয়া ইন্টার ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথাগুলো বলেন। এ সময় মঞ্চে তাঁর সঙ্গে আরও অনেকের সঙ্গে ছিলেন জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের আহ্বায়ক গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ।
নিরাপত্তাশঙ্কায় বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), সেটির পক্ষে বা বিপক্ষে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তামিম। এই মুহূর্তে তিনি নিজে ক্রিকেট বোর্ডে থাকলে কী সিদ্ধান্ত নিতেন, সেটি তুলে ধরে তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিদ্ধান্তটা নিতাম ভবিষ্যৎ চিন্তা করে। হ্যাঁ, অনেক কিছুই ঘটছে। এই মুহূর্তে মন্তব্য করা জটিল। তবে একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে সবাই মিলে আলোচনা করে অনেক কিছু সমাধান করা যায়। ক্রিকেট বিশ্বে আপনার নিজের অবস্থান কোথায়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে—সবকিছু মিলিয়েই আমি সিদ্ধান্ত নিতাম।’
ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার পক্ষে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণেই বিসিবি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তামিম মনে করেন, সরকারের মতামতের পাশাপাশি বোর্ডের নিজেরও অবস্থান থাকা দরকার, ‘আমরা বিসিবিকে একটা স্বাধীন সংস্থা মনে করি। অবশ্যই সরকার এটার বড় অংশ। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু বিসিবিকে আমরা স্বাধীন সংস্থা মনে করলে বোর্ডের নিজস্ব কিছু সিদ্ধান্তও থাকতে হবে। তারা যদি মনে করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক, তাহলে ওই সিদ্ধান্তই নিতে হবে।’
দর্শকদের ভাবনার চেয়ে বাস্তববাদী হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘দর্শক আবেগে অনেক কিছু বলেন। কিন্তু সবকিছু যদি আমরা ওইভাবে চিন্তা করি, তাহলে আপনি এত বড় সংস্থা চালাতে পারবেন না। কারণ, আপনার আজকের সিদ্ধান্ত আগামী ১০ বছর পর কী প্রভাব ফেলবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এবং খেলোয়াড়দের জন্য কোনটা ভালো হবে, সব চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’
বাংলাদেশের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সূত্রপাত মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায়। ভারতের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হুমকির মুখে তাঁকে দল থেকে অব্যাহতি দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
এরপরই একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ও সংশ্লিষ্টদের কীভাবে নিরাপত্তা দেবে ভারত, এমন প্রশ্ন তুলে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে বিসিবি। মোস্তাফিজের বিষয়ে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অবশ্য তামিম বলেছেন, ‘মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া অবশ্যই দুঃখজনক, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’