আশাবাদী অস্ট্রেলিয়ায় ভালো কিছু করব
নতুন আশা নিয়ে শুরু হচ্ছে আরও একটি নতুন বছর। ২০২৬ সালে খেলার মাঠে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস।
আমাদের জন্য বছরের শুরুটা হবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ দিয়ে। গত বছর আমরা অনেক টি–টোয়েন্টি খেলেছি, এখনো সবাই এই সংস্করণে বিপিএল খেলছে।
দলটাও মোটামুটি গোছানো আছে। বিশ্বকাপ যেহেতু বড় ইভেন্ট, বড় কিছু করার সুযোগও বেশি। ভারতে আমাদের কাছাকাছি কন্ডিশনেই বিশ্বকাপ হবে। আশা করি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা ভালো কিছু করে বছর শুরু করতে পারব। দলের সব খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্ট নিয়ে অনেক রোমাঞ্চিত।
এ বছর ওয়ানডেতেও আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সমীকরণ আছে সামনে। তবে আমার বিশ্বাস, খেলা আছে মানে আপনার সামনে সুযোগও আছে। যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে এই সংস্করণেও ম্যাচ জিতব। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যে লক্ষ্য, সেটি অর্জন করতে পারব। দল হিসেবে খেলার কোনো বিকল্প নেই। সেটা করতে পারলে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী।
টেস্টে আমাদের জন্য বছরটা রোমাঞ্চকর হবে আশা করি। গত কয়েক বছরে এই সংস্করণে আমরা ধারাবাহিকভাবে উন্নতির ছাপ রাখতে পেরেছি। সেটিকে তো ধরে রাখতে হবেই, আমি বলব, আমাদের আরও ভালো কিছুর দিকেই তাকানো উচিত। সারা বছরে আমরা বোধ হয় ১১টার মতো টেস্ট খেলব, এর মধ্যে ৭–৮টাই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।
অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের বিপক্ষে সিরিজ আছে। দুই দেশেই আমরা অনেক দিন খেলিনি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা কেমন করব, সেটি এ দুই সিরিজের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে। যদি এখানে ভালো করতে পারি, তাহলে বাকিটাও ভালো কাটবে বলে আশা করি।
বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে যেকোনো খেলোয়াড়েরই আলাদা রোমাঞ্চ থাকার কথা। আমার ১০ বছরের ক্যারিয়ারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কখনো তাদের মাটিতে টেস্ট খেলিনি। বোঝাই যায়, এসব দিক থেকে আমরা কতটা ব্যাকফুটে থাকি। এটা তাই আমাদের জন্য অনেক বড় ইভেন্ট।
অস্ট্রেলিয়ায় এই সিরিজের আগে যেহেতু অনেকগুলো সিরিজ আছে, নিজেদের তৈরি করে নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যাবে। র্যাঙ্কিংয়ে এক–দুই নম্বরে থাকা দলগুলোও অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ভালো করতে হিমশিম খায়। সব দলেরই চ্যালেঞ্জ থাকে ওখানে, আমাদের জন্য তা নিশ্চিতভাবেই আরও বেশি হবে। ওদের ব্যাটসম্যানও যেমন শক্তিশালী, বোলিংয়েও তাই। তবু আমি আশাবাদী যে আমরা ভালো কিছু করতে পারব। তিন সংস্করণ মিলিয়েই ২০২৬ সালটা আমাদের জন্য ভালো কাটবে।