জাতীয় দলে ফিরতে বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন জাহানারা
দুই বছর আগে হুট করে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। এরপর থেকেই আর বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলে নেই জাহানারা আলম। তবে এখন আবার তিনি দেশের ক্রিকেটে ফিরতে চান, জাতীয় দলে ফিরতে খেলতে চান ঘরোয়া ক্রিকেটেও। নিজের এই ইচ্ছার কথা জানিয়ে সম্প্রতি বিসিবির নারী উইং প্রধান রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন জাহানারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম আজ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘হ্যাঁ, সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বিসিবির আরও কয়েকজনের সঙ্গেও কথা বলেছে। সে সবই (ঘরোয়া ক্রিকেটও) খেলতে রাজি আছে।’
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন জাহানারা। অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অবস্থায়ই মাঝখানে ভিন্ন কারণে বিতর্কে জড়ান তিনি। যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন বিসিবির নারী বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অধিনায়ক নিগার সুলতানার বিরুদ্ধে আনেন দলে গ্রুপিংয়ের অভিযোগ।
তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি জাহানারা। বরং আভাস দিয়েছিলেন, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে আবার জাতীয় দলে খেলতে চাইবেন। এরপর এই প্রথম খেলার আগ্রহের কথা জানিয়ে বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করলেন তিনি।
কিন্তু এর আগে বিসিবিকে দেওয়া ১৩ পৃষ্ঠার একটি চিঠিতে জাহানারা নিগার সুলতানাসহ অনেকের বিরুদ্ধেই এমন সব অভিযোগ করেছিলেন যে তাতে প্রশ্ন উঠতে পারে, সেই দলেই আবার তাঁর ফেরার পথ কতটা মসৃণ হবে, দলে এর প্রতিক্রিয়াই–বা কী হতে পারে?
এ ব্যাপারে বিসিবির নারী উইং প্রধান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কোনো গ্রুপিংয়ে বিশ্বাস করি না। অনেকের সঙ্গে অনেকের ব্যক্তিগত রেষারেষি থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে এগুলো একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ এরপরই যোগ করেছেন, ‘দেশের স্বার্থে সব ক্রিকেটারের জন্যই দরজা খোলা আছে।’
দুই বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও এই সময়ে জাহানারা স্বীকৃত কোনো ক্রিকেট খেলেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই তাঁর অনুশীলনের ভিডিও দেখা গেছে। জাতীয় দলে যদি তাঁকে আবার ফেরানোর চিন্তা করেই বিসিবি, তাহলেও যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই আসতে হবে জাহানারাকে। ফিটনেস, ফর্ম—বিবেচনায় নিতে হবে সবই। বিসিবির পক্ষ থেকে তাই তাঁকে আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার পরমর্শ দেওয়া হয়েছে। জাহানারাও নাকি তাতে রাজি আছেন।
রফিকুল বলেছেন, ‘যে–ই জাতীয় দলে আসবে, তাকে যোগ্যতা দিয়েই আসতে হবে। যাদের যোগ্যতা আছে এবং ফিটনেস টেস্টে যাদের খেলার উপযোগী বলে মনে হয়, নির্বাচকেরা যদি মনে করেন তার জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা আছে; তাহলে খেলবে।’
জাতীয় দলে ফেরার জন্য বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা নিয়ে জানতে মুঠোফোনে জাহানারার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ২০১১ সালে নারী ক্রিকেটে অভিষেকের পর জাতীয় দলের হয়ে ৫২টি ওয়ানডে ও ৮৩ টি–টুয়েন্টিতে মাঠে নেমেছেন জাহানারা। এর মধ্যে সাতটি টি–টুয়েন্টি ও দুটি ওয়ানডেতে নারী দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি।