আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৩০ রানের সাদামাটা সংগ্রহ পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ভাবা হয়েছিল, পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি না পারলেও মিডল অর্ডার পর্যন্ত যাবে এই ম্যাচ। কিন্তু কীসের কী! স্বল্প সংগ্রহের এই ম্যাচটা সাদামাটা হবে বলে যাঁরা ভেবেছিলেন, তাঁদের চোখের সামনেই ম্যাচটা রঙিন হয়ে ওঠে জিম্বাবুয়ের বোলারদের লড়াই আর পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের ভুলের কারণে। শেষ বল পর্যন্ত গড়ানো এই ম্যাচে পাকিস্তান থেমেছে ৮ উইকেটে ১২৯ রান তুলে।

১০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৫৪ রান তুলেছিল পাকিস্তান। জয় থেকে তখন ৬০ বলে ৭৭ রানের দূরত্ব। উইকেটে শান মাসুদ থাকায় তখনও দুশ্চিন্তা পেয়ে বসেনি পাকিস্তানের সমর্থকদের।

তবে মনে মনে একটা ভয় তো ছিল। আসিফ আলীকে বসিয়ে এই ম্যাচে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে খেলিয়েছে পাকিস্তান। অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ একজন ব্যাটসম্যান কম নিয়ে খেলছেন বাবর–রিজওয়ানরা। তাই পাঁচে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছে লেগ স্পিনার শাদাব খানকে। ১৪তম ওভারে ভয়টা আরও জেঁকে বসে সিকান্দার রাজা হঠাৎ করেই অজন্তা মেন্ডিস কিংবা সুনীল নারাইন হয়ে ওঠায়! তাঁর টানা দুটি ‘নাকল বলে’ আউট শাদাব ও হায়দার আলী! জিম্বাবুয়ে অলরাউন্ডার হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও তাঁর সেই ওভারের পর জমে ওঠে ম্যাচ। ৩৬ বলে দরকার ৪৩, উইকেটে শান মাসুদ ও নেওয়াজ। তাঁদের পর আর কোনো বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান নেই!

শান মাসুদ সম্ভবত তা ভুলে গিয়েছিলেন। ১৬তম ওভারে সিকান্দারের দ্বিতীয় বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন ৩৮ বলে ৪৪ রান করে ম্যাচটা পাকিস্তানকে জেতানোর পথে থাকা মাসুদ। কিন্তু তখন কে জানত, সামনে মহানাটকীয়তা অপেক্ষা করছে!

১৪ বলে ৩২ থেকে ১৮ বলে ২৯ এবং তারপর শেষ দুই ওভারে (১২) সমীকরণটা ২২ রানে নামিয়ে আনেন নেওয়াজ–ওয়াসিম। ১৯তম ওভারটি করেন জিম্বাবুয়ে পেসার রিচার্ড এনগারাভা। প্রথম ৩ বলে ৪ রান দেওয়ার পর চতুর্থ বলে নেওয়াজের পায়ের ওপর ফুল টস করে বসেন এনগারাভা। ছক্কা মেরে ম্যাচটা সহজ করে ফেলেন নেওয়াজ। জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ১১ রান। ম্যাচে তখন ভর করেছে কী হয়, কী হয় উত্তেজনা!

শেষ ওভারটি করেন জিম্বাবুয়ে পেসার ব্রাড ইভানস। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই ম্যাচ দিয়ে অভিষিক্ত ইভানস চাপ সামলাতে পারেননি। প্রথম বলটি হাফ ভলি করায় ৩ রান নেন নেওয়াজ। পরের বলটি ছিল স্লোয়ার, ওয়াসিম বোকা হননি। স্ট্রেট দিয়ে চার মারেন ওয়াসিম। জয়ের জন্য শেষ ৩ বলে দরকার ছিল ৩ রান। চতুর্থ বলটি ‘ডট’ হওয়ায় আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান। এরপর আউট! পঞ্চম বলে নেওয়াজ (১৮ বলে ২২) তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন মিড অফে। জয়ের জন্য শেষ বলে দরকার ৩ রান। কী হবে!

শেষ বলে শাহিন আফ্রিদি ২ রান নিতে গিয়ে পেরেছেন ১ রান নিতে। ১ রানের দুর্দান্ত জয়ে সুপার টুয়েলভের এই ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখল জিম্বাবুয়ে। জয়ের পর সিকান্দার রাজা–এনগারাভাদের আনন্দনৃত্য দেখে কে!

অথচ, স্বল্প সংগ্রহ নিয়ে বোলিংয়ের শুরুতে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়ের শরীরী ভাষায় ‘লড়াই’ শব্দটা অনুপস্থিত ছিল। চতুর্থ ওভারে ইভানসের বলে বাবর আজম (৯ বলে ৪) পয়েন্টে ক্যাচ দেন, পরের ওভারে মুজারাবানির বল স্টাম্পে টেনে আনেন মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৬ বলে ১৪)।

পাওয়ার প্লে–র মধ্যে পাকিস্তানের দুর্দান্ত ওপেনিং জুটিকে তুলে নেওয়ার পরই শরীরী ভাষা বদলে যায় জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের। অষ্টম ওভারে ইফতিখার আহমেদ (৫) আউট হওয়ার চাপটা উল্টো পেয়ে বসে পাকিস্তানকেই।

টস জিতে এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ে মোটেও সুবিধা করতে পারেনি। ২৮ বলে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন শন উইলিয়ামস। অধিনায়ক ক্রেগ আরভিনের ব্যাট থেকে এসেছে ১৯ বলে ১৯। কিন্তু জিম্বাবুয়ে এই ম্যাচে নিজেদের ব্যাটিংয়ের স্কোরকার্ড মনে রাখবে না। বোলিংয়ে ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন সিকান্দার রাজা।

২ উইকেট ব্রাড ইভানসের। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অভিষেকে সেরা বোলিংয়ের (৪–০–২৪–৪) নজির গড়া ওয়াসিমও নিশ্চয়ই তাঁর এই পারফরম্যান্স মনে রাখবেন না! দল এভাবে হেরে বসলে কার এসব মনে রাখতে ইচ্ছে করে!