বিপিএলের ঢাকা পর্ব শুরু আজ, প্লে-অফের জন্য কোন দলের কী সমীকরণ
কথা ছিল সিলেট, চট্টগ্রাম হয়ে বিপিএল আসবে ঢাকায়। কিন্তু চট্টগ্রাম পর্বও সিলেট পর্বের ভেতর ঢুকে যাওয়ায় টুর্নামেন্টটি সিলেট থেকেই সরাসরি চলে এসেছে ঢাকায়। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ শুরু হবে বিপিএলের ঢাকা পর্ব। বেলা ১টায় পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালস মুখোমুখি হবে তলানিতে থাকা নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু দ্বিতীয় ম্যাচে শীর্ষে থাকা রাজশাহী রয়্যালস খেলবে তৃতীয় স্থানে থাকা সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে।
ভাবতে পারেন, সিলেট থেকে ঢাকায় খেলা আসা মানেই তো রানের প্রবাহে ভাটা পড়া। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম যতটা রানপ্রসবা, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট তো আর ততটা নয়। তবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব নাজমূল আবেদীন আশাবাদী, মিরপুরে এবার রান হবে। উইকেট নাকি সেভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে। তা ছাড়া গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর মোটামুটি বিশ্রামেই ছিল মিরপুরের উইকেট। মাঝে শুধু বিজয় দিবস ক্রিকেট আর প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের একটি ম্যাচই হয়েছে এখানে।
অবশ্য উইকেট যেমনই হোক, রানটা তো শেষ পর্যন্ত ব্যাটসম্যানদেরই করতে হয়। সেদিক থেকে বলতে হয়, সিলেটের ব্যাটিং উইকেটেও এবার কেউ বড় কিছু করতে পারেননি। সিলেটে হওয়া ২৪টি ম্যাচে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর চট্টগ্রামের করা ১৯৮। ইনিংসে ১৯০ বা তার বেশি রান হয়েছে তিনবার। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান রাজশাহীর নাজমুল হোসেনের, ৮ ম্যাচে ২৯২। দুই শর বেশি মোট রান তিনিসহ মাত্র পাঁচজনের। মিরপুরের উইকেটে সত্যি সত্যি রান হলে সিলেট আর ঢাকা পর্বে রানের ধারায় খুব বেশি পার্থক্য হওয়ার কথা নয়। মিরপুরে সেটাই–বা কম কী!
ব্যাটসম্যানদের তালিকায় যিনি সবার ওপরে, পয়েন্ট তালিকায়ও সবার ওপরে তাঁর দল—নাজমুলের রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ঢাকা পর্বে ভালো খেলার এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সবার ওপরে থেকেই টুর্নামেন্টের বাকি পথটা এগোতে চান দলটির ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান। ৮ ম্যাচে ১৬৬ রান করা রাজশাহীর ওপেনার কাল মিরপুরে অনুশীলন শেষে বলেছেন, ‘হয়তো এক-দুটি ম্যাচে আমাদের দিন ছিল না। আমরা ওই দিনগুলোতে নিজেদের স্কিল দেখাতে পারিনি, সে জন্য হেরে গিয়েছি। তবে যেভাবে আমরা ফিরে এসেছি...যে লক্ষ্য নিয়ে মিশনটা শুরু করছিলাম, আমরা সেদিকে ভালোভাবে এগোচ্ছি।’
কোন দলের কী হিসাব
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
প্লে-অফ নিশ্চিত। শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই সরাসরি প্রথম কোয়ালিফায়ারে উঠে যাবে।
চট্টগ্রাম রয়্যালস
প্লে-অফ নিশ্চিত। শেষ তিন ম্যাচের একটি জিতলেই সরাসরি প্রথম কোয়ালিফায়ারে উঠে যেতে পারে।
সিলেট টাইটানস
প্লে-অফ নিশ্চিত। হাতে থাকা একটি ম্যাচে জয় না পেলে এলিমিনেটরে খেলার সম্ভাবনাই বেশি।
রংপুর রাইডার্স
প্লে-অফ নিশ্চিত করতে শেষ দুই ম্যাচের একটি জিতলেই হবে। দুটিতেই হারলে অনেক যদি-কিন্তুর ওপর নির্ভর করতে হবে। দুই ম্যাচই জিতলে প্রথম কোয়ালিফায়ারে জায়গা হতেও পারে।
ঢাকা ক্যাপিটালস
প্লে-অফে উঠতে শেষ দুই ম্যাচে জিতলেই চলবে না, রংপুর যেন আর ম্যাচ না জেতে, সেই কামনাও করতে হবে।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস
প্লে-অফে উঠতে শেষ দুই ম্যাচে জিতলেই চলবে না, রংপুর যেন আর ম্যাচ না জেতে, সেই কামনাও করতে হবে।