আব্বাসকে বাদ দেওয়ার মূল্য দিল পাকিস্তান

মোহাম্মদ আব্বাসফাইল ছবি

প্রথম ইনিংসে ২২ রানে ৫ উইকেট। পরের ইনিংসে ৩ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তারুবা টেস্টে ৮ উইকেট নেওয়া পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস জায়গাই পেলেন না পোর্ট অব স্পেনের দ্বিতীয় টেস্টে! প্রথম দিন শেষে স্কোরকার্ড বলছে, সিদ্ধান্তটা নিয়ে আফসোস করার কথা পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের!


গতকাল টসের সময়েই এসেছে চমকটা। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তান চারটি পরিবর্তন এনেছে। অধিনায়ক শান মাসুদ আঙুলের চোটে ছিটকে গেছেন, তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন আবদুল্লাহ শফিক। আমের জামাল আর খুররম শেহজাদও বাদ পড়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমক ছিল আব্বাসের নাম না থাকা। তাঁর জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন অভিষিক্ত পেসার উবাইদ শাহ, সঙ্গে বাড়তি স্পিনার হিসেবে সাজিদ খান।

টসের সময় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপের প্রশ্নে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘কন্ডিশনের কারণে (আব্বাস বাদ)। কন্ডিশন এখানে ভিন্ন, তাই আমরা সেভাবেই সাজিয়েছি।’ চোটের কোনো শঙ্কা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। কিন্তু সিদ্ধান্তটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যৌক্তিক কারণেই।

তারুবা টেস্টে মোহাম্মদ আব্বাস
এএফপি

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টেস্ট দলে ফেরার পর পাঁচ টেস্টে ২০.৩২ গড়ে আব্বাসের শিকার ২৮ উইকেট, এই সময়ে পাকিস্তানের সফলতম পেসার তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক ক্রিকেটার বাজিদ খানসহ অনেকেই এ সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।


প্রথম দিন শেষে সেই বিস্ময়টা আরও বাড়ারই কথা। গতকাল টসে জিতে ব্যাটিং নেয় স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সকালের বৃষ্টিতে টস পিছিয়ে যায় মিনিট পনেরো। ব্রেন্ডন কিংয়ের ৫০ বলে ৪৬ রানের ইনিংসে স্বাগতিকদের শুরুটা আগ্রাসী ছিল। অভিষিক্ত স্পিনার আলী উসমানের বলে এলবিডব্লু হয়ে থামেন তিনি। এর আগেই অবশ্য ফিরে গেছেন আরেক ওপেনার তেজনারায়ণ চন্দরপল। কাভেম হজ ১০ রান করে ফেরেন সাজিদ খানের বলে।

আমের জঙ্গুকে ২৬ রানে ফিরিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট পান উবাইদ শাহ। মোহাম্মদ আলীর বলে শাই হোপ (২৯) বোল্ড হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ১৭৩/৫—পাকিস্তান সে পর্যন্ত ভালোই করছিল।


কিন্তু সেখান থেকেই গল্পটা ঘুরে যায়। জাস্টিন গ্রিভস আর রোস্টন চেজের প্রতিরোধে আর কোনো উইকেট হারায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গ্রিভস অপরাজিত থাকেন ১২৫ বলে ৬৪ রানে, চেজ অপরাজিত ৭০ বলে ৩৬-এ। আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৭৪ ওভারে ২৩৯/৫ তুলে দিন শেষ করে স্বাগতিকেরা। মোহাম্মদ আলী ছিলেন পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল, ১৭ ওভারে ৪৯ রানে ২ উইকেট।


দিন শেষে প্রশ্ন উঠেছে আব্বাসকে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েই। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানের কাজটা এখন কঠিন হয়ে গেল আরও।