রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ যে ক্লাবের সমর্থক ছিলেন
ব্রিটিশ রাজপরিবার ফুটবলেরও অনুরাগী। ইংল্যান্ডের বেশ কিছু ক্লাবের সঙ্গে রাজপরিবারের সংযোগ রয়েছে। নতুন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসও ফুটবল পছন্দ করেন। প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারিরও পছন্দের ফুটবল ক্লাব আছে। এমনকি পরলোকে পাড়ি জমানো রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও সমর্থক ছিলেন ফুটবলের।
আর্সেনাল, চেলসি ও ওয়েস্ট হাম লন্ডনের ক্লাব হওয়ায় রাজপরিবারের সঙ্গে সংযোগ ঘটেছে অনেকবারই। তবে নতুন রাজা তৃতীয় চার্লস কিন্তু এই তিনটি ক্লাবের কোনোটির সমর্থক নন। ২০১২ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের বার্নলি অঞ্চলে তৃতীয় চার্লস দাতব্য কাজ করার সময় জানা গিয়েছিল, এই অঞ্চলের ফুটবল ক্লাব বার্নলি এফসির সমর্থক তিনি।
ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বার্নলিকে সমর্থন করেন কেন, এই প্রশ্নের উত্তরে তৃতীয় চার্লস তখন বলেছিলেন, ‘বার্নলি খুব কঠিন সময় পার করেছে। তাদের প্রেরণা ও আত্মমর্যাদা বাড়ানোর চেষ্টা করছি আমি।’ তৃতীয় চার্লসের এই কথার পর তাঁকে ভিআইপি সিজন টিকিট উপহার দিয়েছিল বার্নলি।
এবার আসা যাক প্রিন্স উইলিয়ামের প্রসঙ্গে। ব্রিটেনের রাজপরিবারের মধ্যে উইলিয়ামই সম্ভবত ফুটবলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত। শৈশবে একবার অ্যাস্টন ভিলার মাঠ ভিলা পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলেন ডিউক অব ওয়েলিংটন উইলিয়াম। ব্যস, সেই থেকে যে ভিলার সমর্থক বনে গেলেন, এখনো তিনি ক্লাবটির বড় সমর্থক। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ক্লাবটির ম্যাচে মাঝেমধ্যে গ্যালারিতে দেখা যায় উইলিয়ামকে।
২০০৬ সালে উইলিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এফএ কাপ ফাইনাল এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ম্যাচ নিয়মিত দেখেছেন। স্টাফোর্ডশায়ারের সেন্ট জর্জেস পার্কে জাতীয় ফুটবল সেন্টারও গড়েছেন উইলিয়াম। এ ছাড়া রাজপরিবারের বাসভবন বাকিংহাম প্যালেসে ফুটবল ম্যাচেরও আয়োজন করেন।
প্রিন্স হ্যারিকে ইংল্যান্ডের ম্যাচে এবং এফএ কাপ ফাইনালে মাঝেমধ্যে গ্যালারিতে দেখা যায়। বড় ভাই উইলিয়ামের মতো হ্যারিকে সরাসরি কোনো ক্লাবের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। তবে কয়েক বছর আগে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের গর্ভনমেন্ট হাউসে একবার বলেছিলেন, ‘রাজপরিবারের বেশির ভাগই আর্সেনালের সমর্থক।’ ২০১৮ সালে হ্যারি যেদিন মেগান মার্কেলকে বিয়ে করেন, সেদিন এফএ কাপ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হয় চেলসি। ম্যাচটি ব্রিটিশ সময় দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল যেন বিয়েতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচও দেখতে পারেন সবাই।
প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটনকে ভাবা হয়েছিল স্বামীর মতো তিনিও সম্ভবত অ্যাস্টন ভিলার ভক্ত। ভুল! ২০১৫ সালে শিশুদের নিয়ে একটি দাতব্য কাজের সময় জানা যায়, কেট মিডলটন চেলসির সমর্থক। সেই ইভেন্টে এক শিশু বলেছিল, ‘তাঁর (কেট মিডলটন) সঙ্গে হাত মিলিয়েছি, সেও চেলসির সমর্থক, আমিও।’
প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বেশ কিছু ক্লাবের সমর্থক—এমন ভাবা হয়েছে আগে। সংবাদমাধ্যম এখন জানাচ্ছে, তিনি সম্ভবত ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেডের সমর্থক ছিলেন। ষাটের দশক থেকেই নাকি তিনি ক্লাবটির ভক্ত। তবে এ নিয়ে রাজপরিবারের ভেতর থেকে কখনো কিছু জানা যায়নি। তবে আর্সেনালের প্রতিও নাকি রানির মন নরম ছিল। ২০০৭ সালে আর্সেনালের তৎকালীন কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের সঙ্গে সাক্ষাৎয়ের সময় এ তথ্য জানিয়েছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের খেলা নাকি ভালো লাগত রানির।
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবগুলো ক্লাবই শোক জানিয়েছে।