বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ডের একটি দল প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য, তার ওপর বিশ্রামে আছেন কয়েকজন। মেলবোর্নের ফাইনালে খেলা একাদশ থেকে আজ অধিনায়ক জস বাটলার ছাড়া খেলেছেন শুধু ফিল সল্ট ও ক্রিস জর্ডান। রান তাড়ায় মোটামুটি অনভিজ্ঞ এক ইংলিশ বোলিং আক্রমণের ওপর শুরুতেই চড়াও হন ডেভিড ওয়ার্নার ও ট্রাভিস হেড। দুই বাঁহাতি ওপেনারের জুটি ফিরিয়ে আনছিল অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ ম্যাচের স্মৃতি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলসের জুটিতে ১০ উইকেটেই জিতেছিল ইংল্যান্ড। ওয়ার্নার ও হেড ইংল্যান্ডকে হতাশ করে গেছেন বেশ খানিকটা সময়। ২০তম ওভারে ক্রিস জর্ডানের বলে স্কয়ার লেগে ৫৭ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলা হেড ক্যাচ দিলে ভাঙে ১৪৭ রানের জুটি।

ওয়ার্নার সেঞ্চুরির পথেই এগোচ্ছিলেন। ডেভিড উইলিকে পুল করতে গিয়ে মিডউইকেটে স্যাম বিলিংসের হাতে ক্যাচ দিলে ৮৪ বলে ৮৬ রান করেই থামতে হয় তাঁকে। বিলিংস নেন ভালো একটি ক্যাচ, তবে সেটিকেও ছাড়িয়ে যায় বাটলারের নেওয়া পরের ক্যাচটি। অফ স্টাম্পের বাইরে ব্যাট চালিয়েছিলেন মারনাস লাবুশেন, ডান দিকে ডাইভ দিয়ে মাটির একটু ওপর থেকে ক্যাচ নেন অধিনায়ক জস বাটলার।

৬ রানের মধ্যে ২ উইকেট নেওয়া ইংল্যান্ড একটু লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল। তবে স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে অ্যালেক্স ক্যারির ৩৮ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়ার ওপর সেভাবে চাপ তৈরি হতে দেয়নি। ডসনের বলে ক্যারি ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও স্মিথের ৭৮ বলে ৮০ রানের অপরাজিত ইনিংসে সহজ জয়ই নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার। ক্যামেরন গ্রিন অপরাজিত ছিলেন ২৮ বলে ২০ রান করে। অ্যাডিলেড ওভালে ফ্লাডলাইটের আলোয় ঠিক সেভাবে সুবিধা আদায় করতে পারেননি ইংল্যান্ড পেসাররা।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্কের সঙ্গে মার্কাস স্টয়নিসের সামনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ৬৬ রানেই হারিয়ে ফেলে প্রথম ৪ উইকেট। ফিল সল্ট, ওয়ানডে দিয়ে ফেরা জেসন রয়, জেমস ভিন্স ও স্যাম বিলিংস—২০ ছুঁতে পারেননি কেউ।

লড়াইটা প্রায় একাই করতে হয়েছে ম্যালানকেই। ইংল্যান্ডের ২৮৭ রানের মধ্যে ১২৮ বলে ১৩৪ রানের ইনিংস খেলেছেন এ বাঁহাতি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে খেলতে পারেননি, ম্যালান যেন পুষিয়ে দিলেন সেটিই। ম্যালানের পর ইংল্যান্ড ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ডেভিড উইলির—৪০ বলে অপরাজিত ৩৪ রান।

ম্যালান একদিকে টিকে ছিলেন, অন্যদিকে ইংল্যান্ড উইকেট হারায় নিয়মিত বিরতিতেই। স্যাম বিলিংসের সঙ্গে ৩৫ রানের পর জস বাটলারের সঙ্গে ৫২, লিয়াম ডসনের সঙ্গে ৪০, ক্রিস জর্ডানের সঙ্গে ৪১ ও ডেভিড উইলির সঙ্গে ম্যালানের জুটিতে ওঠে ৬০ রান। ৬৪ বলে ফিফটি করেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নেমে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে লাগে ১০৭ বল।

ইনিংসে ১২টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ৪টি ছক্কা—প্যাট কামিন্সকে দুটি, অ্যাডাম জাম্পা ও অ্যাশটন অ্যাগারকে। জাম্পাকে তুলে মারতে গিয়ে লং অনে অ্যাগারের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ৪৬তম ওভারে। এর আগে মিডউইকেটে অবিশ্বাস্য ফিল্ডিংয়ে একটি ছয় বাঁচিয়ে দেন অ্যাগার। ফিল্ডিংয়ে আজ দিনটি দাঁরুণ গেছে তাঁর। অ্যাডিলেড ওভালে অস্ট্রেলিয়ান সমর্থক তেমন না থাকলেও দিনটি দারুণ গেছে স্বাগতিক দলেরও।