নাইটক্লাব কাণ্ডে তদন্তের মুখে কার্স, বাদ পড়লেন দ্বিতীয় টেস্ট থেকে

ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলার ব্রাইডন কার্সইসিবি

মাঠের বাইরের ঝামেলা যেন থামছেই না ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলে।

লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের আগে এবার নতুন এক ঝামেলা। দল থেকে ছিটকে ফেলা হয়েছে পেসার ব্রাইডন কার্সকে। ডার্বির একটি নাইটক্লাবের বাইরে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্বাধীন সংস্থা ক্রিকেট রেগুলেটর। সেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্সকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

আরও পড়ুন

শনিবার রাতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ডারহামের হয়ে জয় উদ্‌যাপন করছিলেন কার্স। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে সুযোগ না পাওয়ায় তিনি ওই ম্যাচেই খেলেছিলেন। পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায়, ডার্বির একটি নাইটক্লাবের সামনে থেকে হাতকড়া পরা অবস্থায় কার্সকে নিয়ে যাচ্ছেন চার পুলিশ কর্মকর্তা।

ইংল্যান্ড–পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে বাদ পড়েছেন ব্রাইডন কার্স
এএফপি

ভিডিওতে তাঁর সতীর্থ বেন স্টোকস ও ম্যাথিউ পটসকেও দেখা গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ নেই।

ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড আগেই জানিয়েছিল, ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। সেটি পাঠানো হয় স্বাধীন ক্রিকেট রেগুলেটরের কাছে। রেগুলেটরও তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আজ ইসিবি জানায়, এই ঘটনার জেরে দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াড থেকে কার্সকে সরিয়ে হ্যাম্পশায়ারের পেসার সনি বেকারকে নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে অ্যাশেজ শেষ হওয়ার পর থেকে কোনো সংস্করণেই ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেননি কার্স।
এএফপি

এক বিবৃতিতে ইসিবি জানিয়েছে, ‘তদন্ত চলাকালে এবং পুরো ঘটনার তথ্য জানা না পর্যন্ত ব্রাইডন কার্স নির্বাচনের জন্য বিবেচনায় থাকবেন না।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে অ্যাশেজ শেষ হওয়ার পর থেকে কোনো সংস্করণেই ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেননি কার্স। হাতের চোটে ২০২৬ সালের শুরুটা ভালো হয়নি তাঁর। খেলতে পারেননি আইপিএলেও।

গত বছরের শেষে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যর্থতার পর থেকেই মদ্যপানকে কেন্দ্র করে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছে ইংল্যান্ড দল। ওয়েলিংটনে নাইটক্লাবের এক বাউন্সারের সঙ্গে সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের বাগ্‌বিতণ্ডা, অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে হারের সময় খেলোয়াড়দের নেশাগ্রস্ত অবস্থার ভিডিও ছড়িয়ে পড়া সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর জানুয়ারিতে খেলোয়াড়দের বাইরে যাওয়ার ওপর কারফিউ জারি করা হয়।

ইংল্যান্ড সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস ও সাবেক কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম
রয়টার্স

কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হয়নি। জুনে লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে ঘটনার পর কারফিউ ভাঙার দায়ে বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে লিখিত সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সিরিজ চলাকালেই তৃতীয় টেস্টে হঠাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন স্টোকস। দুই সপ্তাহ পর লাল বলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর আবার টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন জো রুট। তবে খেলোয়াড়দের ওপর কারফিউ চাপিয়ে দিতে চান না তিনি। স্কাই স্পোর্টসকে রুট বলেন, ‘কারফিউ কাজ করে বলে আমি মনে করি না। আপনি যদি চান মাঠের ভেতর ছেলেরা দায়িত্ব নিক, তবে মাঠের বাইরেও তাদের পরিণত বয়স্ক হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।’

লর্ডসে দুই দিন অনুশীলন শেষে আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড।

আরও পড়ুন