টেস্টে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া: ২০০৩–এর দুঃস্বপ্ন, ২০১৭–এর ইতিহাস

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর মুশফিকদের উদ্‌যাপনএএফপি

২৩ বছর পর আবারও! ২০০৩ সালে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়া–বাংলাদেশ টেস্ট হয়েছে আরও চারটি। ওই চারটি ম্যাচই হয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে।

কাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এটি দুই দলের টেস্ট ইতিহাসের সপ্তম লড়াই। আর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ছয় টেস্টে পাঁচবার জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, একবার বাংলাদেশ। কেমন ছিল দুই দলের আগের সেই ছয় লড়াই? ফিরে দেখা যাক সেই গল্প।

ডারউইন টেস্ট, ২০০৩

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ। শুরুতেই ভয়ংকর অস্ট্রেলিয়ান বোলিংয়ের সামনে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৭ রানে অলআউট। গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি ও জেসন গিলেস্পিরা ছিলেন দুর্দান্ত। অস্ট্রেলিয়া ৪০৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৭৮ রানে অলআউট। অস্ট্রেলিয়া জেতে ইনিংস ও ১৩২ রানে। ম্যাচসেরা হন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা স্টিভ ওয়াহ। এই মাঠেই কাল সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলবে বাংলাদেশ।

কেয়ার্নস টেস্ট, ২০০৩

ডারউইনের পর কেয়ার্নসে দ্বিতীয় টেস্ট। এটাতেও বাংলাদেশ হারে ইনিংস ব্যবধানে। এবার প্রথম ইনিংসে অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিল বাংলাদেশ। হান্নান সরকার করেন ৭৬ রান। হাবিবুল বাশারের ব্যাট থেকে আসে ৪৬। তবু দল থামে ২৯৫ রানে।

জবাবে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলে। ড্যারেন লেম্যান করেন অপরাজিত ১৭৭ রান। সেঞ্চুরি করেন স্টিভ ওয়াহ ও মার্টিন লাভ। অস্ট্রেলিয়া ৫৫৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে।

এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিং আবার ভেঙে পড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ করতে পারে ১৬৩ রান। অস্ট্রেলিয়া জেতে ইনিংস ও ৯৮ রানে। দুই টেস্টের সিরিজ অস্ট্রেলিয়া জেতে ২-০ ব্যবধানে।

ফতুল্লা টেস্ট, ২০০৬

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় টেস্ট এটি। সেই ম্যাচে ফতুল্লায় আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ করে ৪২৭। শাহরিয়ার নাফীস খেলেন অসাধারণ ১৩৮ রানের ইনিংস। অধিনায়ক হাবিবুল বাশার করেন ৭৬। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রানে গুটিয়ে যায়। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পায় ১৫৮ রানের লিড।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। দল অলআউট হয় ১৪৮ রানে। এরপরও অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩০৭। তবে রিকি পন্টিংয়ের অপরাজিত ১১৮ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেট হাতে রেখে জয় পায়।

রিকি পন্টিংয়ের অপরাজিত ১১৮ রানের ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেট হাতে রেখে জয় পায়
এএফপি

চট্টগ্রাম টেস্ট, ২০০৬

ফতুল্লার রোমাঞ্চের পর চট্টগ্রামে হয় দ্বিতীয় টেস্ট। এবার আর কোনো সুযোগ দেয়নি অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৭ রান। জবাবে অস্ট্রেলিয়া করে ৫৮১ রান। ডাবল সেঞ্চুরি করেন রিকি পন্টিং ও জেসন গিলেস্পি। তবু অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার গিলেস্পির শেষ টেস্ট হয়ে আছে সেটিই। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩০৪ রান করলেও অস্ট্রেলিয়া জেতে ইনিংস ও ৮০ রানে।

আরও পড়ুন

মিরপুর টেস্ট, ২০১৭

এটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয়। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ২৬০ রান। সাকিব আল হাসানের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৮৪ রান। জবাবে অস্ট্রেলিয়া থামে ২১৭ রানে। বাংলাদেশ পায় গুরুত্বপূর্ণ ৪৩ রানের লিড।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ করে ২২১ রান। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৫। শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ভালোই এগোচ্ছিল। কিন্তু সাকিবের ঘূর্ণিতে ম্যাচ ঘুরে যায়। তিনি দ্বিতীয় ইনিংসে নেন পাঁচ উইকেট। প্রথম ইনিংসেও তিনি পেয়েছিলেন পাঁচ উইকেট। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২৪৪ রানে। বাংলাদেশ জেতে ২০ রানে। টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারায় টাইগাররা।

রোমাঞ্চকর সেই টেস্টে ওয়ার্নারের সঙ্গে তামিম, নাসির ও সাব্বির
এএফপি

চট্টগ্রাম টেস্ট, ২০১৭

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট হয় চট্টগ্রামে। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ৩০৫ রান। মুশফিকুর রহিম করেন ৬৮। সাব্বির রহমানের ব্যাট থেকেও আসে ৬৬। জবাবে ডেভিড ওয়ার্নারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া করে ৩৭৭। ওয়ার্নার করেন ১২৩ রান। পিটার হ্যান্ডসকম্ব করেন ৮২। ফলে ৭২ রানের লিড পায় অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৫৭ রানে। নাথান লায়ন ছিলেন বিধ্বংসী। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৬ উইকেট। মাত্র ৮৬ রানের লক্ষ্য পেয়ে অস্ট্রেলিয়া জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচ জেতে ৭ উইকেটে। সিরিজ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

আরও পড়ুন